সারাদেশের সাথে সাথে উত্তরবঙ্গের ক্রমশ জোরালো থাবা বসাচ্ছে করোনা। আর এই সংক্রমনের ব্যাপারে সরকার যে আর মোটেও হালকা হাতে নিতে চাইছে না তারি আরেকবার প্রমান মিলল দক্ষিণ দিনাজপুরে। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দিষ্ট সরকারি নিয়ম না মানার কারণে এবার দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনের এক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মহামারী এবং জাতীয় বিপর্যয় আইনে মামলা রুজু করলো দক্ষিণ দিনাজপুর থানার পুলিশ।

ঘটনাটি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার। দিনকয়েক আগে সোয়াব রিপোর্ট পজিটিভ আসতেই হোম কোয়ারান্টিনে থাকা তপনের এক হাতুরে চিকিৎসক বাইক চালিয়ে আত্মগোপন করতে চলে গিয়েছিলেন মালদার ইংরেজবাজারের শ্বশুরবাড়িতে।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার রাতে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের ব্যাকলগ নমুনা থেকে তপনের রামচন্দ্রপুরের এক বাসিন্দার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। হরিয়ানাতে হাতুরে চিকিৎসকের কাজ করা তপনের ওই বাসিন্দা কিছুদিন আগেই জেলায় ফিরেছিলেন। ওইদিন রাতে রিপোর্ট পজিটিভ আসার খবর পেয়েই ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

কিন্তু বাড়িতে কার্যত কাউকেই পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের ১৭ জনের মধ্যে মাত্র ৬ জনকে ওই রাতেই বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করে কোয়ারান্টিন করা হয়েছিল। এরপর থেকে করোনা আক্রান্ত ওই বাসিন্দার খোঁজ শুরু হয়। পরে জানা যায় যে, ওই ব্যক্তি আত্মগোপন করতে তাঁর শ্বশুরবাড়ি ইংরেজবাজার এলাকায় বাইক চালিয়ে গিয়েছিলেন। পরদিন খবর পেয়ে নিজেই ফিরে এসেছেন।

করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তির পরিবার ওই রাতে ভয় ধানক্ষেতে কাটিয়েছেন বলেও খবর । এহেন আচরণের ফলে ওই ব্যক্তি এবং তার পুরো পরিবার এর চিকিৎসা শুরু করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় স্বাস্থ্য দপ্তর কে। যদিও এরপর প্রায় 12 ঘণ্টার চেষ্টায় ওই করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে বালুরঘাট কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করতে সক্ষম হয় জেলা প্রশাসন।

এরপরই তার বিরুদ্ধে মহামারী এবং জাতীয় বিপর্যয় আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত।

10