কিউবার “হোয়াইট কোট আর্মি” কে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সুপারিশ ইতালির।

কিউবার “Army of white coat” কে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সুপারিশ করলো ইতালি। করোনা সংক্রমণের ফলে যখন প্রায় মৃত্যুপুরীতে পরিনত হয়েছিল ইতালির লোম্বার্ডি শহর। বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর কাছে সাহায্য চেয়েও যখন সারা পায় নি ইতালি। তখন ক্যারাবিয়ান দ্বিপপুঞ্জের ছোট্ট দেশ কিউবা ৫২ জনের এক মেডিক্যাল টিম পাঠিয়ে ছিল সেখানে যা, “White coat army” নামে গোটা বিশ্বে সমাদৃত।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসের শেষে চিনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রাদুর্ভাব ঘটে নোভেল করোনাভাইরাসের। সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে হু হু করে। চিনে মৃত্যুমিছিল শুরু হয়, পাশাপাশি অন্য নানা দেশ থেকে খবর আসে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার। বাড়তে থাকে মৃত্যু। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতির শীর্ষে পৌঁছয় ইতালি। সেখানে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়নি। গোটা স্বাস্থ্য পরিষেবাকে কাজে লাগিয়েও মৃতের স্তূপ জমেছে ক্রমেই। জায়গা ছিল না হাসপাতালগুলিতে, একের পর এক আক্রান্ত হয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। স্বল্প শক্তি নিয়েই করোনা-বিধ্বস্ত ইতালিতে সেনা এবং চিকিৎসক দল পাঠায় কিউবা। করোনাভাইরাস মহামারীতে সবচেয়ে বিপন্ন ইতালির লোম্বার্ডিতে চিকিৎসা-সহায়তা দিতে পৌঁছে যান কিউবার চিকিৎসক ও নার্সদের ৫২ জনের একটি দল।

কিউবা সবসময়ই ছকভাঙা। তাই এই ভয়ংকর মহামারী মোকাবিলায় কী করা উচিত, তা নিয়ে কিউবা দ্বিতীয় বার ভাবেনি। কেবল ইতালি বা আফ্রিকাই নয়, ব্রিটেনেও চিকিৎসক দল পাঠায় তারা। শুধু তাই নয়, করোনাভাইরাস সংক্রমিত হওয়া একটি যাত্রিবাহী জাহাজ এমএস ব্রেইমারকে যখন কোনও দেশ তাদের তটে ভিড়তে দিচ্ছিল না, তখন কিউবাই বন্দর খুলে দেয়। ব্যবস্থা করে কোয়ারেন্টাইনের। দায়িত্ব নেয় জাহাজটিতে থাকা এক হাজার যাত্রীর চিকিৎসা পরিষেবার।

অথচ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইতালি নেহাত পিছিয়ে ছিল না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য ইতালি। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ইতালিতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পরেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনও দেশ এভাবে এগিয়ে আসেনি তাদের সাহায্য করতে। পাশে দাঁড়ায়নি ‘বন্ধু’ আমেরিকাও।

এই পরিস্থিতিতে ইতালি সাহায্য চায় চিন, কিউবা ও ভেনেজুয়েলার কাছে। এর পরেই পৌঁছে যায় ক্যারিবীয়ান দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম দেশ কিউবার বিশেষ প্রশিক্ষিত দল। সাদা গাউন পরা স্বাস্থ্যকর্মীর বিশেষ দলের ছবি বারবার ধরা পড়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।

131