হবু শ্বশুরবাড়ির সবাই কে চমকে দিয়ে খোড়াতে খোড়াতে অকষ্মাৎ পাত্রী একাই বিয়ে করতে হাজির পাত্র পক্ষের বাড়িতে। প্রাথমিক বিষ্ময় কাটিয়ে সব কিছু শোনার পর পাত্রপক্ষ খুশি মনে কাছের মন্দিরে সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাত্র-পাত্রীর বিয়ে দিয়ে ঘটনার “মধুরেণ সমাপেয়ৎ” ঘটালো। শুনতে অবাক লাগলেও এমনই ঘটনা ঘটল উত্তর প্রদেশের কনৌজে।

উত্তর প্রদেশের কনৌজের নিবাসী ২৮ বছরের পাত্র বিক্রমের সাথে কানপুরের কাছে লক্ষণপুর নিবাসী ২০ বছরের গোল্ডির বিয়ে ঠিক হয়েছিল মাস কয়েক আগেই। ৪ঠা মে ছিল বিয়ের তারিখ। সেই মত দুই পরিবারে প্রস্তুতি চলছিল। তারপর করোনা অতিমারী ও লকডাউন অন্য অনেকের মত বিক্রম-গোল্ডির সুখ স্বপ্নে জোড় ধাক্কা দেয়। অনির্দিষ্ট কাল পিছিয়ে যায় ওদের বিয়ের অনুষ্ঠান। তাই নিয়ে সম্ভবত মনোমালিন্যও ঘটে দুই পরিবারে। পাত্রী পক্ষ বেকে বসে। বিয়ে ঠিক হওয়ার পর থেকে বিক্রম – গোল্ডির মধ্যে ফোনে কথোপকথন হত। কিন্তু মেয়ের পরিবারের লোকেরা ছেলে পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে। এমনকি গোল্ডির ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়। সে যেন বিক্রমের সাথে কোনো যোগাযোগ করতে না পারে সে ব্যাপারে গোল্ডির উপর করা নজরদারি রাখা হতে শুরু করে। কিন্তু গোল্ডি ততদিনে বিক্রম কে ভালোবেসে ফেলেছে। বাপের বাড়ির লোকেদের ভাবসাব তার মোটেই পছন্দ হচ্ছিল না। আবার মেয়ে মানুষ মনের কথা চিৎকার করে জানাতে পারছিল না। এরমধ্যেই সে জানতে পারে যে বাড়ির লোকেরা তার অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক করছে। ব্যাস, এবার বাধ্য হয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে গোল্ডি। রাতের অন্ধকারে সবার অলক্ষে বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাঁটতে শুরু করে। হাঁটতে হাঁটতে পায়ে ভর্তি ফোসকা পড়ে গেলেও সে না থেমে কোনোমতে পৌছে যায় শ্বশুর বাড়ি। পাত্রপক্ষ প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পরে খুশি মনেই চার হাত এক করে দেয়। হ্যা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে তারা কিন্তু ভোলে নি। লকডাউনে অনেক হৃদয় বিদারক ঘটনার মধ্যেও এমন এমন ছোট ছোট অনেক ভালবাসার গল্প রচনা করছে। ভবিষ্যতে হয়তো এরকমই কোনো গল্প নিয়ে বলিউডে সিনেমা তৈরি হবে। নাম হবে হয়তো, “লকডাউন: এক প্রেমকথা।” (Courtesy : NDTV)