মৈত্রেয়ী সান্যাল

প্রতিবেদন, মে ১৯,২০২০:শুরুর ল্যাপটা কোথাও কোথাও একটু যে টলোমলো ছিলোনা, তা বলা যায়না। তবে যত সময় এগোচ্ছে আচমকা ও দীর্ঘ লকডাউনের কারণে নিরন্ন মানুষদের কথা ভেবে তৈরি হওয়া অসংখ্য ‘কমিউনিটি কিচেন’ গুলো যেনো ক্রমশ পৌঁছে যাচ্ছে এক অন্য মাত্রায়। প্রতিটি শিবিরকে কেন্দ্র করেই প্রতিদিন উঠে আসছে প্রায় ‘অলৌকিক’ সব ঘটনা। আর সেসবই হচ্ছে আমাদের চারপাশের অত্যন্ত চেনা এই পৃথিবীতেই।

যেমন গতকালের কথাই ধরা যাক, এবছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সায়ন এবং সমুদ্র পরীক্ষা চলাকালীন বাড়ির বড়দের কাছ থেকে কিছু ‘টিফিন খাওয়ার খরচ’ পেয়েছিলো। জমিয়ে রেখেছিলো ওরা, পরীক্ষার পর মনমতো খরচ করবে বলে। কিন্তু লকডাউনের আবহে বদলে গেলো সবকিছু। টিভিতে, কাগজে আর বড়দের মুখে শোনা কথাতে বাইরের অসংখ্য মানুষের অসহায়তা বিদ্ধ করে ওদের ছোট্ট প্রাণকেও। সমস্ত জমানো সম্পদ টুকু তুলে দেয় ওরা পাড়ার কাকুদের হাতে, যাঁরা কিনা আজ প্রায় দিন দশেক ধরে রোজ কাকডাকা ভোর থেকে লেগে পরে অগনিত অসহায় নিরন্ন মানুষের মুখে খাবার জোগাতে।

তারপর ধরুন, প্রহ্লাদ বাবুর কথা। পেশায় রিক্সাওয়ালা। লকডাউনে সওয়ারী মেলেনা তেমন তবুও অবুঝ পেটের টানে মাঝে মাঝে বেরোতেই হয়। তেমনই এক গনগনে দুপুরে খিদের জ্বালায় ভাত খেয়েছিলেন রায়গঞ্জের শিলিগুড়ি মোড়ের ‘পরিজন’ ক্যাম্পে। সেদিনই পোড় খাওয়া চোখে বুঝেছিলেন ‘একার কম্ম নয় এই রাজসূয় যজ্ঞ ‘ সামলানো। বিবেকের টানেই তাই আজ সক্কাল সক্কাল ক্ষেতের কিছু ঝিঙে নিয়ে হাজির মানুষটি। এরকম আরো আরো হাজারো নিদর্শন তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কেউ পরিচয় গোপন রেখে,কেউবা দলবেঁধে সামিল হচ্ছেন এই ‘গোষ্ঠী রান্নাঘরের’ আয়োজনে।

এই মুহূর্তে উত্তর দিনাজপুর জেলার প্রায় সব ব্লকেই মূলত বামপন্থী বিভিন্ন গণসংগঠন ও কমিউনিস্ট পার্টির উদ্যোগে চলছে একাধিক এরকম কমিউনিটি কিচেন। যেখানে শুধুমাত্র পার্টি দরদী বা সদস্যরাই নন রসদ জোগাচ্ছেন অখ্যাত, অনাম্নী অসংখ্য মানবিক মানুষ। ভোর থেকে রাত অবধি উদয়াস্ত খেটে রান্না ,প্যাকেজিং এমনকি পরিষ্কারের দায়িত্বটুকুও হাসিমুখে বহন করছে ছাত্র যুব সংগঠনের সদস্যরা। উপকৃত হচ্ছেন হাজারো মানুষ। সকলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই প্রতিদিন রচিত হচ্ছে এক নতুন যাপন। এক সহমর্মী একাত্মতা।

55