মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল ..
সত্যি , কি ভালোই না আছি আমরা ..

আজ রায়গঞ্জের দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন Happy Times ও UDPFA একটি সুন্দর উদ্যোগ নিয়েছিল । বহু দূর দুর থেকে যে সমস্ত গাড়িগুলো দিনরাত চালিয়ে NH 34 দিয়ে আসছে তাদের ড্রাইভার এবং খালাসিদের রাতের খাবার দেবার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল । দেওয়া হয়েছে তাই । আমি এই কাজে যুক্ত থাকতে পেরে সত্যিই নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি । তবে এই পোস্ট দেওয়ার কারণ অন্য ।

কাজটি চলতে চলতে 5টি ছেলে 4 টি সাইকেল নিয়ে এসে দাঁড়ালো । আমাদের বল্লো বড্ড খিদে পেয়েছে, আমরা পাঁচজন আছি । সঙ্গে সঙ্গে ওদের হাতে খাওয়ার দাওয়া হল । নিমেষের মধ্যে খাওয়া শেষ করল ওরা । ওদের পরিচয় জানতে চাইলে যা ওরা বল্লো তা শুনে আমরা প্রত‍্যেকে হতবাক । ছেলেগুলি দুর্গাপুর থেকে সাইকেল চালিয়ে শিলিগুড়ি যাচ্ছে । হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন । ওরা পাঁচজন দুর্গাপুরে একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে । কার বাড়ি শিলিগুড়ি ,কারো বাড়ি আবার দিনহাটা । প্রত্যেকটি সাইকেলে চার থেকে পাঁচটি কোরে ব্যাগ বাধা , আছে একটা পাম্পার । উপরন্ত একটা সাইকেলে দুজন । পিঠে ব্যাগ আছে । লকডাউন এর ফলে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাওয়ায় হাতের কিছু জমানো টাকা দিয়ে পুরানো চারটি সাইকেল কিনেছে । আজ সারাটা দিন চারটে বিস্কুট আর জল খেয়ে সাইকেল চালাচ্ছে ওরা । হাতে দশটা টাকাও নেই বললেই চলে । খিদা তৃষ্ণায় চোখগুলো যেন ছল ছল করছে প্রত্যেকের । সাথে সাথে আমার দুই ভাই টিঙ্কু (Somen Das) ও বিপুল ওদের জন্য দুদিনের বিস্কুট কেক কিনে ওদের ব্যাগে দিয়ে দেয় । আমি আমার এক ভাই শুভ কে বলে নাগরে হোটেল গান্ধারে ওদের রাতের খাবার ব্যবস্থা করে দেই । ওরা সারারাত ওই হোটেলেই ঘুমাবে । কাল ভোরে বেড়িয়ে পড়বে আবার । অজানা মানুষ হোলেও অনেক কিছু পেয়ে গেল আমাদের থেকে , বারবার করে বলছিল আপনাদের চিরজীবন মনে রাখব । ওদের মধ্যে একজনের নাম উৎপল । উৎপলের কাছে একটা ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট মোবাইল আছে , নাম্বারটা নিয়ে নিলাম । বারবার করে বলে দিয়েছি বেঙ্গল টু বেঙ্গল রাস্তা দিয়ে রাতে না যেতে । অবশেষে ওরা রওনা দিল । দাঁড়িয়ে থাকলাম আমরা , হতবাক হয়ে ..

এখন আপনার কি মনে হচ্ছে , লকডাউন এ কেমন আছেন আপনি ???..

সৈকত চক্রবর্তী, সমাজকর্মী ,রায়গঞ্জ

154