এপ্রিল ১৯,২০২০: লকডাউন। মনে শান্তি নাই। বাঙালি গৃহজীবনকেও শান্তিতে থাকিতে দিব না। যতক্ষণ না বধু শাশুড়ির কোন্দল সৃষ্টি হইতেছে ততক্ষণ মনে শান্তি পাইতেছি না। আর পাইবোই বা কীভাবে। ঘরে বধু নাই, তাই শাশুড়ি বধুর কোন্দল দেখিবার সুযোগ নাই। বাংলা সাহিত্যের বধু শাশুড়ির কোন্দল আপনাকে দেখাইয়া দিব। তাতে আপনাদিগের মনে যদি কোন প্রতিবাদের স্ফুরণ ঘটে তবেই আমাদের উদ্দেশ্য সফল হইবে। শিবনাথ শাস্ত্রীর ‘মেজবউ’ উপন্যাসের শাশুড়ি বধুর উদ্দেশ্যে কহিলেন -‘আমি কি তোর কচি পাঁটা ভেয়ের আর বুড়ো শশা বাপের মাথা খেয়েছি যে তুই..”। ইহার পরেও বধু ভদ্রভাষায় কথা কহিল। কেন কহিল আমার জানি না। প্রতিবাদ বা যোগ্য উত্তর দিলে কি অন্যায় হইত ! ‘হৈমন্তী’ গল্পে শাশুড়ি রাগিয়া কহিলেন -‘তুই আমাকে মিথ্যাবাদী বলিস’। হৈমন্তী কোন উত্তর করিল না। উত্তর করিলেই বুঝি আমরা সুখি হইতাম। যতক্ষণ না উত্তর কহিতেছে ততক্ষণ আমাদের সুখ নাই। ‘চোখের বালি’র শাশুড়ি কহিলেন – যাও নব বধুকে লইয়া উপরে যাও, ঘর সংসার আমি সামলাই, নব বধুর হাতে হলুদ লাগিবে। আশালতা কোন উত্তর করিলেন না। উত্তর না দেবার অভিপ্রায় আমাদিগের জানা নাই। যতক্ষণ না উত্তর দিতেছে মনে শান্তি নাই। ঘরে ঘরে রঙ্গতামাশা দেখিতেই আমরা বসিয়া আছি।
পুরুষোত্তম সিংহ, গবেষক ও প্রাবন্ধিক, রায়গঞ্জ, উত্তর দিনাজপুর