Categories
প্রথম পাতা সুস্থ থাকুন

‘ছোঁয়াচে বসন্ত’ নামে

ওয়েবডেস্ক, ফেব্রুয়ারি,২৩,২০২০: শীত প্রায় যাবার ই মুখে। বাতাসে দোল দোল গন্ধ। কিন্তু এই বসন্তের মাতাল সমীরণে সুস্থ থাকার জন্য কিছু নিয়ম জানা ও মানা খুবই জরুরি। নাহলে না চাইতেও নাজেহাল হতে পারে আপনার জীবন। প্রথমত বসন্তে প্রকৃতিতে নানা বর্ণ ও গন্ধের ফুল ফোটে। এই ফুলের একটা বড় অংশের পরাগায়ন ঘটে বাতাসের মাধ্যমে। তাই বসন্তে পুষ্পরেণু থেকে অ্যালার্জি অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। গাছ থেকে অনেক দূরে অবস্থান করলেও রোগীরা এতে আক্রান্ত হতে পারেন। তাছাড়া শুষ্ক হাওয়ায় ধুলাবালি থেকেও অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হল হাঁচি, কাশি, নাক দিয়ে জল পড়া, চোখ চুলকানো ও চোখ লাল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। এ সমস্যা সমাধানে মুখে মাস্ক বা রুমাল ব্যবহার করতে পারেন। নাক দিয়ে বেশি জল পড়লে ফেক্সোফেনাডিন জাতীয় ওষুধ ১২০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট দিনে একটা করে পাঁচ থেকে সাত দিন খেতে পারেন। ছোটদের জন্য ফেক্সোফেনাডিন বা সেট্রিজিন সিরাপ আধ চামচ থেকে এক চামচ খাওয়ানো যেতে পারে। নাক বন্ধ হয়ে গেলে জাইলোমেটাজোলিন নাকের ড্রপ (১%) এক ফোঁটা দুই নাকে দিনে তিনবার দিতে পারেন। যাদের অনবরত হাঁচি দেওয়ার রোগ আছে অর্থাৎ অ্যালার্জিক রাইনাইটিস আছে তারা বিটামিথাসন বা অন্য কোনো স্টেরয়েড জাতীয় নাকের স্প্রে দিনে দু’বার দিতে পারেন। বসন্তে ফুলের রেণু ও ধুলোবালি থেকে অনেকের হাঁপানি বেড়ে যেতে পারে। শ্বাসকষ্ট বাড়লে সালবিউটামল ইনহেলার নিতে হবে। হাঁপানি প্রতিরোধী হিসেবে স্টেরয়েড ইনহেলার নেওয়া উচিত। হাঁপানি তেমন গুরুতর না হলে মন্টিলুকাস্ট ট্যাবলেট (১০ মিলি গ্রাম) দিনে একটি করে খেলে তাও প্রতিরোধী হিসেবে কাজ করে।
দ্বিতীয়ত: শীত কিন্তু একদম চলে যায়নি, তাই শীতের লেপ/কম্বল উঠিয়ে ফেললেও কাঁথাটা সঙ্গে রাখুন। শিশুরা অনেক সময় বেশ ঘামে, তাদের জন্য ফ্যান ছেড়ে রাখতে হয়। তেমন হলে মশারি টাঙিয়ে তার ওপর চাদর দিয়ে দিন। তারপর ফ্যান ছাড়ুন। শেষ রাতে ঠাণ্ডা পড়ে তাই খুব স্পিডে ফ্যান ছাড়বেন না।

এছাড়াও ভাইরাস অসুখ জলবসন্ত, ভাইরাল ফিভার হতে পারে। এ ঋতুতে শীতের আবহাওয়ায় ঘুমন্ত ভাইরাস গরম পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের মাধ্যমে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। জলবসন্ত খুব ছোঁয়াচে বিশেষ করে যার কোনো দিন এ রোগ হয়নি তাঁর জন্য। সেজন্য এই রোগ হলে যার জীবনে হয়নি তাকে রোগীর আছ থেকে দূরে রাখতে হবে। সরাসরি সংস্পর্শ এবং রোগীর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে জলবসন্ত ছড়ায়। রোগীর ব্যবহার করা কাপড় গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
চুলকানি হলে এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ খেতে হবে। যদি ঘা পেকে যায় বা নিউমোনিয়া হয়, তবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে।
সাধারণত ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস থেকেও জ্বর হয়। এতে মাথা ব্যথা, শরীর ও গাঁটে ব্যথা, নাক দিয়ে জল পড়া, কাশি, খাওয়ার অরুচি, দুর্বলতা ইত্যাদি হতে পারে। প্যারাসিটামল এবং প্রয়োজন হলে অ্যান্টিহিস্টামিন ব্যবহার করলে এ রোগ কয়েক দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। তবে অবস্থা খারাপ হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

166

Leave a Reply