ওয়েব ডেস্ক, ফেব্রুয়ারি,১৭,২০২০:কেন্দ্রীয় সরকার আগামী ২০২০-২১ আর্থিক বছরেই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা গুলির বিলগ্নিকরণের মাধ্যমে ২.১ লক্ষ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য গ্রহনের কথা জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভি সুব্রহ্মণ্যমের জানিয়েছেন, আগামী আর্থিক বছরে বিলগ্নিকরণের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের টার্গেট পূরণ করতে কেন্দ্রকে খুব একটা বেগ পেতে হবে না। তাঁর মতে, এয়ার ইন্ডিয়া, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং কন্টেনার কর্পোরেশনের বিলগ্নিকরণের মাধ্যমে কেন্দ্রের টার্গেটের অর্ধেক অর্থ উঠে আসবে। আর দেশের বৃহত্তম বিমা সংস্থা ভারতীয় জীবন বিমা নিগমের মাত্র ৬%-৭% শেয়ার বিক্রি করেই সরকারের বাকি ৯০০০০ কোটি টাকা আয় হবে।
বর্তমান বছরে বিলগ্নিকরণের মাধ্যমে ১.০৫ লক্ষ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিলগ্নিকরণের মাধ্যমে মোদী সরকার মাত্র ১৮,০৯৪ কোটি টাকা ঘরে তুলতে পেরেছে। আগামী ৩১ মার্চ চলতি অর্থবর্ষ শেষ হবে। এদিকে, ২০২১ আর্থিক বছরে সরকারি সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে প্রায় তার দ্বিগুণ অর্থ সরকারি কোষাগারে তোলার টার্গেট নিয়েছে কেন্দ্র। বাজেটে বিলগ্নিকরণের মাধ্যমে ২.১ লক্ষ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রার কথা ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। আগামী বছরে এলআইসি ছাড়াও বিলগ্নিকরণের তালিকায় আছে আইডিবিআই ব্যাংক, ভারত পেট্রোলিয়াম, কন্টেনার এবং এয়ার ইন্ডিয়া।
তবে এলআইসির শেয়ার বিক্রি করতে গেলে আইন সংশোধন করতে হবে কেন্দ্রকে। তার পরে সেটিকে শেয়ার বাজারে নথিভুক্ত করতে হবে। প্রক্রিয়াটিও বেশ সময় স্বাপেক্ষ। ফলে এখন এলআইসিকে শেয়ারবাজারে নথিভু্ক্ত করাই বড় কাজ। সেটা হয়ে গেলে ৬-৭% শেয়ার বিক্রি করে ₹৯০০০০ কোটি আয় কোনও ব্যপার নয় বলেই তাঁর ।২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সর্বশেষ পাওয়া পরিসংখ্যান অনুসারে, বিমার পলিসি বিক্রির নিরিখে এই মুহূর্তে ভারতীয় বাজারের ৭৬.২৬ শতাংশ এলআইসির দখলে। আর প্রথম বছরের প্রিমিয়ামের নিরিখে ঘরোয়া বাজারে দেশের বৃহত্তম এই বিমা সংস্থার অংশিদারিত্ব ৭১%। ২০১৯ আর্থিক বছরে প্রিমিয়াম বাবদ এলআইসির আয় হয়েছিল প্রায় ৩ লক্ষ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। এমন একটি চূড়ান্ত লাভজনক সংস্থার আইপিও সরকার বাজারে ছাড়লে তা কেনার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যাবে বলেই মন করছেন বিশেষজ্ঞরা।

32