ওয়েবডেস্ক, ফেব্রুয়ারি,১৫,২০২০: একেই বলে জীবনের মোড় ঘোরা। কুঁড়েঘরের বাসিন্দা থেকে একেবারে রূপকথার গল্পের নায়ক ! হ্যাঁ, এমনটাই এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে আমাদেরই রাজ্যের এক সাধারণ “ফরেস্ট গাইড” এর সাথে। নাম তাঁর নেত্রপ্রসাদ,নেত্রপ্রসাদ শর্মা। বক্সা টাইগার রিজার্ভ ফরেস্টের একজন ট্যুরিস্ট গাইড । আর পাঁচজন গরিব পরিবারের সন্তানের মতোই অভাবের তাড়নায় মাধ্যমিকের গন্ডি পেরোনোর আগেই জঙ্গলে গাইডের কাজে যুক্ত হন যিনি। তারপর থেকেই রুটি রুজির সাথে সাথে ভালোবাসার টানেই ধীরে ধীরে নিজেকে একটু একটু করে মিশিয়ে দিয়েছেন বন্য প্রকৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে। সামান্য পায়ের ছাপ দেখে কিংবা বাতাসের উল্টো দিকে শুকনো ঘাস গুঁড়িয়ে উড়িয়ে দিয়ে শ্বাস টেনেই বুঝে নিতে পারেন বন্য প্রাণীদের অবস্থান। এনসাইক্লোপিডিয়া র মতো ঝরঝর করে আউরে যেতে পারেন জঙ্গলের প্রতিটা গাছ,লতা পাতার ঠিকুজি কুষ্ঠী। এহেন প্রকৃতি অন্ত প্রাণ ট্যুরিস্ট গাইড ই যে মন জিতে নেবেন তামাম রিসার্চ স্কলার বা প্রকৃতিপ্রেমী ট্যুরিস্ট মহলের ,তা তো বলাই বাহুল্য। তার ওপর আবার এতো বছরের অভ্যাসে বাংলা,হিন্দি,গোর্খালির পাশাপাশি নেত্রপ্রসাদের ইংরেজি টাও ঝরঝরে। সব মিলিয়ে পরিপূর্ন প্যাকেজ।

আর এভাবেই ক্যালিফোর্ণিয়ার একদল রিসার্চ স্কলারের নজরে পড়েন তিনি। মূলতঃ লরা নামের এক তরুণী নেত্রপ্রসাদ কে নিয়ে তৈরি করেন এক ঘন্টার এক ভিডিও রেকর্ডিং। দেশে ফিরে সেই রেকর্ডিং নিয়ে মার্কিনি ছাত্রছাত্রীদের উচ্ছাস শেষপর্যন্ত পৌঁছে যায় হ্যারি পোর্টার খ্যাত লেখিকা জে কে রাউলিং এর কানে। আর তার পরে সবটাই তো ইতিহাস ! এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না স্বয়ং নেত্রপ্রসাদ ই। স্বয়ং রাউলিং ফোন করেন নেত্রকে। অনুমতি নেন তাঁর জীবন নিয়ে,অভিজ্ঞতা নিয়ে আস্ত একটা ২৭২ পাতার উপন্যাস লেখার। আপাতত সেই উপন্যাসের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ। লেখিকার উদ্যোগেই নেত্র এবার চলেছেন মার্কিনি মুলুকে ফাইনাল টাচ আপের জন্য। সব মিলিয়ে খুব তাড়াতাড়ি ই আন্তর্জাতিক বই বাজারে আসতে চলেছে আমাদের ঘরের ছেলে নেত্রপ্রসাদ কে নিয়ে একখানা আস্ত এডভেঞ্চার নোবেল, স্বয়ং জে কে রাউলিং এর হাত ধরে।

26