৪/০২/২০২০,ওয়েবডেস্কঃদেশের অর্থনীতির মন্দ অবস্থা আর কারোই অজানা নয়। মুদ্রাস্ফীতি থেকে বেকারত্বের হার সবেতেই স্বাধীনতার পরবর্তিকালীন সময়ে সবচেয়ে করুণ পরিস্থিতি। এরই মধ্যে সংসদে পেশ হলো এবংএবছরের বাজেট। কিন্তু নতুন না পুরনো, আয়করের কোন্‌ কাঠামোটা সুবিধেজনক, তা নিয়ে মানুষের ধন্দ এখনো কাটছে না। অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট ভাষণে বলেছেন, নতুন কাঠামো একদম সোজা–সরল। কোনও বিশেষজ্ঞের কাছে এর জন্য ছুটে যেতে হবে না। কিন্তু অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে কোন্‌ কাঠামো বেছে নেওয়া ভাল, তা বুঝতেই কর–‌বিশেষজ্ঞদের দোরে যাওয়ার কথা ভাবতে হচ্ছে সাধারণ চাকুরেদের। এ তো গেল বাজেট নিয়ে মানুষের প্রথম চিন্তার দিক। আরও বড় যে–‌দিকটি, অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উদ্বেগজনক হার, সেখানে কি কোনও বদল ঘটাতে পারবে এই বাজেট ?‌ দুটি ক্ষেত্রেই বিশেষজ্ঞদের যা অভিমত তা খুব উৎসাহব্যঞ্জক নয়। বিশেষজ্ঞ দের মতে দেশের অর্থনীতি চাপে রাখবে মোদি সরকারকে, সাথে সাথে ভোগাবে মানুষকে।

ট্যাক্স কনসালট্যান্সির সংস্থা অশোক মাহেশ্বরী অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট্‌সের পার্টনার অমিত মাহেশ্বরীর মত, প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় করহার যেভাবে কমানো হয়েছে, তা থেকে করদাতারা শেষ পর্যন্ত খুব একটা লাভবান হবেন না। বরং এর ফলে সঞ্চয়ে ঝেঁাক কমতে পারে মানুষের।
অন্য দিকে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা মুডি’‌জ ইনভেস্টর সার্ভিস মনে করছে, এই বাজেটে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির শ্লথগতিই বেরিয়ে এসেছে, যা কাটতে সময় লাগবে। মোদি যেমনটি ভাবছেন, তার চেয়ে বেশিই সময় লাগতে পারে। জাপানি নোমুরা গোষ্ঠীর অর্থনীতিবিদ সোনাল বর্মার বক্তব্য, এই বাজেট অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ওপরও প্রভাব ফেলবে না, মুদ্রাস্ফীতিকেও বিশেষ স্পর্শ করবে না। ক্রেতাদের চাহিদা বাড়ানোর জন্য খরচের কথা সরকার বলছে বটে, তবে আদতে এই লক্ষ্যে বেশি দূর এগোতে পারেনি সরকার। কারণ, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির ফলে সরকারের হাত–‌পা বাঁধা।
প্রসঙ্গত গত জুলাই–‌সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার নেমে এসেছিল ৪.‌৫ শতাংশে। চলতি অর্থবর্ষ শেষে তা ৫ শতাংশের মতো থাকছে, এমনই হিসেব। ১১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত অক্টোবর–‌ডিসেম্বরের পরিসংখ্যান এখনও জানানো হয়নি। সেটা ৪.‌৩ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা, বলছে নোমুরার হিসেব। সরকার আশা করছে, আগামী অর্থবর্ষে ৬ থেকে ৬.‌৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া যাবে বৃদ্ধির হার, মুদ্রাস্ফীতিকে ধরে অঙ্কটা হবে ১০ শতাংশ। সময়ই বলবে সেটা কত দূর বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু আর্থিক ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা (‌৩.‌৫ শতাংশ)‌ যে বাড়িয়েই রাখতে হল, সেটা চিন্তার কথা, বলছেন অনেক অর্থনীতিবিদ। চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রা ৩.‌৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩.‌৮ শতাংশ হয়ে গেছে। সরকারের রাজস্ব আদায়ের যা হাল, তাতে ঘাটতি বেঁধে রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অবস্থা সামলাতে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার শেয়ার বিক্রি করে ২.‌১ লক্ষ কোটি টাকা তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর পরও বিভিন্ন খাতে বরাদ্দবৃদ্ধি সামান্যই। ফলে নিকট ভবিষ্যতে অর্থনীতিতে গতি আসবে, তেমন আশা দেখতে পাচ্ছেন না পর্যবেক্ষকেরা। সব মিলিয়ে অবস্থাটা এমনই, না সাধারণ মানুষ, না শিল্পমহল— দ্বিতীয় মোদি সরকারের দ্বিতীয় বাজেট কাউকেই তৃপ্ত করেনি। শনিবার সঙ্গে সঙ্গেই শেয়ার বাজারে তার প্রতিক্রিয়া ধরা পড়ে। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় মোদি সরকারের সময়ে দেশের আর্থিক পরিস্থিতি মোটেই সুবিধাজনক অবস্থায় নেই।

6