ওয়েবডেস্ক জানুয়ারি ২৯,২০২০ : স্থানীয়দের ডাকা বন্ধ কে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি)-র প্রতিবাদে বন্ধ ডেকেছিল জলঙ্গি এলাকার স্থানীয়রা। তৃণমূল এবং বন্‌ধ সমর্থনকারীদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে বুধবার মৃত্যু হল দু’জনের। অভিযোগ, শাসক দলের স্থানীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে বন্‌ধ সমর্থনকারীদের উপর এলোপাথাড়ি গুলি চালায় কিছু দুষ্কৃতী। দু’জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আরও কয়েক জন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। তৃণমূল যদিও এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ‘নবজাগরণ’ নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন এ দিন জলঙ্গি থানা এলাকার সাহেবনগরে সিএএ বাতিলের দাবিতে এবং এনআরসি-র বিরুদ্ধে বন্‌ধের ডাক দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ওই সংগঠনে বিভিন্ন রাজনৈতির দলের কর্মীরা থাকলেও তাঁরা মূলত অরাজনৈতিক একটি আন্দোলন তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। নুর ইসলাম নামে এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, এ দিন সকাল ৭টা থেকে সাহেবনগর বাজারে অবস্থানে বসেন বন্‌ধ সমর্থনকারীরা। তাঁর অভিযোগ, সাড়ে আটটা নাগাদ তিন-চারটি গাড়ি এসে থামে বাজারের সামনে। ওই গাড়িগুলোতে ছিলেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতা ও কর্মীরা।

এর পরেই তৃণমূল কর্মী-সমর্থক এবং বন্‌ধ সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় বচসা এবং তা গড়ায় হাতাহাতিতে। অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যেই সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায় দু’পক্ষের মধ্যে। ইমদাদুল হক নামে অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ‘‘তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তহিরুদ্দিন মণ্ডল নিজে ঘটনাস্থলে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান। ওঁদের নির্দেশেই সঙ্গে থাকা তৃণমূলের লোকজন বাজারে থাকা জমায়েত লক্ষ্য করে বোমা মারতে থাকে। এলাকার মানুষ প্রতিরোধ করতেই তাঁরা ফিরে যাওয়ার পথে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। সেই গুলিতে মারা গিয়েছেন সানারুল বিশ্বাস (৬০) এবং সালাউদ্দি শেখ (১৭)।” এলাকাবাসীর দাবি, আরও অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর এলাকায় পৌঁছেছে বিশাল পুলিশবাহিনী। তৃণমূলের জেলা সভাপতি আবু তাহের খান বলেন “এলাকায় বন্ধ ডেকেছিল একটি অরাজনৈতিক মঞ্চ। কার সাথে মিম, পিএফআই এর মত মৌলবাদী সংগঠন মিশে গিয়ে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে। আমাদের দল এর সাথে কোনভাবেই যুক্ত নয়। পুলিশ তদন্ত করলেই দোষীরা ধরা পড়বে।”

37