৮/১/২০২০,ওয়েবডেস্কঃ ধর্মঘট নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চরম দ্বিচারিতা সত্ত্বেও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জি(NRC) বাতিল সহ একাধিক দাবিতে বাম-কংগ্রেস শ্রমিক সংগঠনের ডাকে আজ দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট। সকাল থেকেই রাজ‍্যের বিভিন্ন জায়গায় এই বন্ধের ভালোরকম প্রভাব পড়তে দেখা গেছে। কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় বন্ধের সমর্থনে পথে নেমে মিছিল করছেন ধর্মঘটীরা। বেশ কয়েক জায়গায় ধর্মঘটীদের মিছিল করতে বাধা দেওয়ায় পুলিশের সাথে ধস্তাধ্বস্তিও হয়েছে ধর্মঘটীদের। এক নিত্য রেলযাত্রীর কথায় রেল পরিষেবার ওপর বন্ধের যে ব‍্যাপক পরিমান প্রভাব পড়েছে, এটা কেউ ভাবতে পারেনি। শিয়ালদহর একাধিক শাখায় ট্রেন চলাচল ব‍্যাহত হয়েছে। শিয়ালদহ মেন শাখার পাশাপাশি শিয়ালদহ-ক‍্যানিং, শিয়ালদহ-ডায়মন্ডহারবার, শিয়ালদহ-বনগাঁ, লক্ষ্মীকান্তপুর-বারুইপুর শাখায় ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। এছাড়াও শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ছাড়ছে না একাধিক দূরপাল্লার ট্রেনও। হাওড়া স্টেশনের ছবিটাও একইরকম। ট্রেন চলাচল বন্ধ হাওড়া-বর্ধমান, হাওড়া-শ্রীরামপুর লাইনে। স্টেশনের বাইরে বেসরকারি বাস প্রায় চোখে পড়ছে না বললেই হয়। প্রিপেড ট‍্যাক্সির সংখ্যাও খুব কম।

শহরের পাশাপাশি জেলাতেও বন্ধের একই চিত্র দেখা গিয়েছে। রাস্তায় বেসরকারি বাস প্রায় নেই বললেই চলে। কয়েকটি রুটে হাতে গোনা কয়েকটি সরকারি বাস চলছে প্রবল প্রশাসনিক তদারকিতে। রিষড়া, কোন্নগর, ডায়মন্ড হারবার, পাঁশকূড়া সহ একাধিক স্টেশনে ধর্মঘটীদের অবরোধের কারণে বন্ধ ট্রেন চলাচল।

শহরে ধমর্ঘটকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং জোর করে বনধকারীরা বনধ করাতে না পারে তার জন্য যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছিলো কলকাতা পুলিশ। যদিও কার্যত সেসব উড়িয়ে দিয়েই জনজীবন মোটামুটি স্তব্ধ। গুরুত্বপুর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট যেমন বাস স্ট্যান্ড, রেল স্টেশন, মেট্রো স্টেশন, ফেরীঘাট সহ বিভিন্ন অফিস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লালবাজার সূত্রে খবর, অতিরিক্ত সর্বমোট ৪০০০ পুলিশকর্মী রাস্তায় নেমেছে। আর এই বাহিনীকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আছেন ডেপুটি কমিশনার ও জয়েন্ট কমিশনার পদমর্যাদার অফিসাররা। লালবাজার কন্ট্রোল রুম থেকে গোটা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় বাড়ানো হচ্ছে পুলিশ পেট্রোলিং। অতিরিক্ত ২৭ টি পিসিআর ভ্যানও এদিন ব্যবহার করা হচ্ছে। লালবাজার সহ কলকাতা পুলিশ সব কটি ডিভিশনের অফিসে মোতায়েন থাকবে অতিরিক্ত বাহিনী। যারা যে কোনও ঘটনার মোকাবিলা করতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারবে। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ বুথ রয়েছে। আছে কুইক রেসপন্স টিম ও ৩২ টি হেভি রেডিও ফ্রাইং স্কোয়াড়ও। থানাগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে লালবাজারের পক্ষ থেকে।

প্রসঙ্গত বেকারত্ব, রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থার বিলগ্নিকরণ সহ সাম্প্রতিকতম একাধিক নীতির প্রতিবাদে কংগ্রেস ও বামপন্থী ১০ টি শ্রমিক সংগঠন দেশজুড়ে সাধারণ যে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে, তার মোকাবিলায় সবরকম ব্যবস্থা নিতে তৈরি প্রশাসন। উল্লেখ্য, ক’দিন আগেই সাধারণ ধর্মঘটের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের| প্রধান বিচারপতি পিবিএন রাধাকৃষ্ণাণের ডিভিশন বেঞ্চ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সরকারকে নিতে হবে নির্দেশ দিয়েছেন।

গতকাল পরিবহন দফতর জানিয়েছিলো, পর্যাপ্ত পরিমাণে ট্রাম-বাস চলবে। সমস্ত বেসরকারি পরিবহনের মালিকদেরও এদিন রাস্তার বাস, ট্যাক্সি, অটো নামানোর জন্য আর্জি জানিয়েছেন। যদি কোনও গাড়ির ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তাতে ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বীমা অর্থ দেওয়া হবে। ধর্মঘটে যাতে পরিবহন ব্যবস্থা সচল থাকে তার জন্য রাজ্য পরিবহণ দফতর অতিরিক্ত ২২ শতাংশ বাস চালানোর কথা ঘোষণা করেছে। ডব্লুবিটিসি সাধারণ দিনে ৯০০ টি বাস চালালেও এদিন ১১৫০ টি বাস চালাবে। এসবিএসটিসি চালাবে ৮২৬ টি বাস। সাধারণ দিনে এসবিএসটিসি ৬৯২ টি বাস চালায়। এনবিএসটিসি চালাবে ৬৫৫ টি বাস। অন্যান্যদিন এনবিএসটিসি চালায় ৬০৫ টি বাস।

20