ওয়েবডেস্ক: সাধারণ ভাবে বলিউডের সুপার স্টার অভিনেতা – অভিনেত্রীরা সরকারের বিরুদ্ধে সহজে মুখ খোলেন না। বরং সাম্প্রতিককালে অনেকেই সরকারি বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়ে বা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেল্ফি তুলে সরকারের সঙ্গে মাখামাখি করতে দেখা গেছে। কিন্তু প্রথমে জামিয়া মিলিয়া এবং ৫ তারিখে জওহরলাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীদের উপর অভূতপূর্ব সন্ত্রাসের ঘটনার পরে বলিউড অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বোধহয় এবার সব ধৈর্যের বাধ ভেঙ্গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনায় মুখর হতে দেখা গেছে অনিল কাপুর থেকে আলিয়া ভাট সবাইকে। তালিকায় রয়েছে সোনম কাপুর, তাপসী পান্নু, রাজকুমার রাও, টুইঙ্কল খান্না, বিশাল ভরদ্বাজ, অনুরাগ কাশ্যপ, কঙ্কনা সেন শর্মা, স্বরা ভাস্কর, মেঘন গুলজার সহ আরো অনেক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। কিন্তু সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন দীপিকা পাডুকোনহ। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে উপর হামলার বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী দীপিকা পাডুকোন। যারা বিশ্বাসের জন্য লড়ে এবং লড়াই করতে ভয় পায় না এমন প্রজন্মের ভূয়সী প্রশংসা প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। “আমি গর্বিত বোধ করি যে আমরা নিজেদের প্রকাশ করতে ভয় পাই না। এটা ভাল যে আমরা আমাদের দেশ এবং ভবিষ্যতের কথা ভাবছি। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি যাই হোক না কেন, দেখে ভাল লাগছে যে মানুষ তাদের মতামত জানাতে রাস্তায় এবং অন্যত্র নেমে আসছেন,” সোমবার NDTV-কে এক সাক্ষাত্কারে বলেন দীপিকা।
জেএনইউতে আক্রান্ত ছাত্রদের পাশে পৌছে গিয়েছেন তিনি।

পদ্মাবত তারকা আরও বলেছিলেন যে “সমাজ ও জীবনে পরিবর্তন দেখতে চাইলে” মানুষের মতামত প্রকাশ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

দীপিকা পাড়ুকোন জেএনইউ গিয়ে আহত ছাত্র নেতা ঐশী ঘোষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

মঙ্গলবার জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিদর্শন করে আরও এক ধাপ এগিয়ে যান দীপিকা। দু’দিন আগে মুখোশধারী হামলাকারীদের নিশানায় ছিল এই বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়। হামলাকারীরা প্রতি হস্টেলে ঢুকে ঢুকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে নির্মমভাবে তাণ্ডব চালালে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩০ জনেরও বেশি পড়ুয়া ও অধ্যাপক আহত হন।

যদিও দীপিকা পাডুকোন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিজের কোনও মতামত ব্যক্ত করেননি। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সভাপতি ঐশী ঘোষ সহ একাধিক পড়ুয়া, যাদের উপর হামলা করা হয়, তাদের সঙ্গেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে অভিনেত্রীকে। অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমারও উপস্থিত ছিলেন।

এই ইস্যুতে নির্দিষ্ট অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য ইতিমধ্যেই দীপিকার আগামী চলচ্চিত্র ছপাক বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছে অনেকেই এবং সন্ধ্যা থেকেই একটি হ্যাশট্যাগও টুইটারে ট্রেন্ডিং হয়ে ওঠে। তবে, আরও দুটি হ্যাশট্যাগ – #DeepikaPadukone এবং #ISupportDeepikaও একই ভাবে ট্রেন্ডিং হয়ে ওঠে যা স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয় যে শুভাকাঙ্ক্ষীদের বড় অংশই রয়েছে অভিনেত্রীর পাশে।

অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর এবং পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের মতো বলিউডের বেশ কয়েকজন ব্যক্তিত্ব নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার তীব্র নিন্দা করেছিলেন। এদিন দীপিকা পাড়ুকোনের সমর্থনে এগিয়ে আসেন তারাও।

10