কুলিক রোববার, ডিসেম্বর ৮,২০১৯ :

মা


সোমা সরকার

গ্রামের মাঝে এলাকার সবচেয়ে বড়ো উচ্চমাধ্যমিক স্কুল। সেই স্কুলেই ফুলুর বর নাইট গার্ডের কাজ করে। রাতটা বাড়ির দশ হাত দূরে স্কুলের বারান্দায় রামুর কাটে। মাঝে মাঝে স্কুলের বড় মাষ্টারের কথা মতো ফাইফরমাশ খাটে সে।  ওটা রামুর বাড়তি আয়। যদিও এতে সংসার চলা খুব কঠিন।  ফুলু ছাড়াও রামুর  বাড়িতে ওদের পিঠাপিঠি তিন বাচ্চা মেয়ে, মা আর এক বিকলাঙ্গ বোন। ফুলুর পেটে চার নম্বর জন  আস্তে আস্তে বাড়ছে।
দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারে পয়সার খামতি থাকলেও সুখে মনে হয় না কোনো খামতি আছে।
বাচ্চা গুলো দিব্যি আছে। পাশের প্রাইমারি স্কুলে দুপুরে মিড ডে মিল। দুটো বাচ্চা ওখানে পরে। দুপুরে খাবার খেয়েই বাড়ি দৌড়।  
ফুলু পড়াশোনা জানে না। তবে স্কুলের পাশেই বাড়ি। সেই কারনেই হয়তো স্কুলে পড়ার গুনের কথা একটু হলেও বোঝে।
তাই বাচ্চা দুটো স্কুল পালিয়ে বাড়ি ফিরলেই চ্যালাকাঠ নিয়ে আবার ধাওয়া করে স্কুলে পাঠায় সে।
ফুলুর মমত্বে তার সন্তান দের প্রতি খামতি হয়তো এক বিন্দুও নেই।
সে খাবারের গুনাগুন হয়তো জানে না। প্রোটিন, ভিটামিন কি বোঝে না।
তবে বাড়ির হাঁসটা একটা ডিম পারলেই সেটাকে সেদ্ধ করে কোলে নিয়ে বসে পরে। মাটি নিয়ে খেলতে থাকা বাচ্চা গুলো আড় চোখে দেখে নেয় মায়ের গতিবিধি।  তারপর ডিমটা ফুলু স্বযত্নে ছুলতে শুরু করলে একএক করে তার সোনামনিরা মায়ের কাছে ভিড়তে শুরু করে ঠিক তেমন ভাবে যেমন ভাবে চিনির খোঁজ পেলে পিঁপড়া চলে আসে।
ফুলু ডিমটা ছাড়িয়ে ছোটো ছোটো টুকরো করবে ভেবে তার বড়ো মেয়ে রান্নার বাসন থেকে খুন্তি নিয়ে আসে। তবে ফুলুর নখের জোরে ডিমটা তিন টুকরো করে তিনটে ছানাকে দেয়।  হাতের মধ্যে পড়ে থাকা ছোট্ট এক খন্ড কুসুম ফুলুর ছোটো ছানাটা ছোঁ মেরে মুখে ঢুকিয়ে নেয়।
কান্ডটা ফুলুর দিব্যি লাগে। রোজ একই খেলা।  মজা দেয়। মা যে ও। ধনী কিংবা দরিদ্র।  মমত্ববোধ তো মায়ের চিরন্তন সঙ্গী।  এর পর হয়তো ওর চার নম্বর বাচ্চাটা আসলে ডিমটা চার টুকরো করবে আর সবচেয়ে দুষ্টু বাচ্চাটার ছোঁ মেরে খাওয়াটা আরো উপভোগ করবে। আর এভাবেই ধমকে চমকে মানুষও করে নেবে এক মা তার সন্তানদের।

61