ওয়েবডেস্ক, অক্টোবর ২৪, ২০১৯ : যথেষ্ট বৈধ তথ্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ২ বছর ধরে ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি ছিলেন অসমের সোনিতপুর জেলার ঢেকিয়াজুলির অলিসিঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা দুলাল পাল। মারা যাবার ১০ দিন পর দুলাল পালকে ভারতীয় ঘোষণা করার পর সরকার।

এবার ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি মা ‘ কে রেহাই করাতে না পেরে দুশ্চিন্তায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ছেলের মৃত্যুর ঘটল অসমের বঙাইগাঁও জেলায়। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।

২০১৪ সালে মানিকপুর মহকুমার নগরঝাড় গ্রামের ৫০ বছরের শান্তি সরকারকে ‘ ডি ’ ভোটার সাজিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে তুলে নিয়ে যায় সীমান্ত পুলিশ।

গত প্রায় ছ’বছর ধরে অনেক দৌড়ঝাঁপ করেও মা’কে ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে রেহাই করাতে পারেননি একমাত্র ছেলে কামিনী সরকার (৩৬)। সদ্য প্রকাশিত এনআরসি’ র চূড়ান্ত তালিকায়ও তাদের পরিবারের কোনও সদস্যের নাম আসেনি। একদিকে মা ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক, অন্যদিকে পর্যাপ্ত নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও এনআরসি’র চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসেনি। এ নিয়ে মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলেন কামিনী সরকার। সপ্তাহখানেক আগে মানসিক চাপে হঠাৎ করে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন তিনি। তখন সঙ্গে সঙ্গে তাকে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার জিএমসিএইচ থেকে সুস্থ হয়ে নগরঝাড় গ্রামের বাড়ি ফেরেন তিনি। গতকাল সকাল দশটা নাগাদ ঘর থেকে প্রস্রাবের জন্য বেরোলে ফের হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন কামিনী সরকার। বছর খানেক আগেই বিয়ে করেন কামিনী সরকার। তার স্ত্রী বর্তমানে আটমাসের অন্তঃসত্ত্বা।

কামিনী সরকারের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর প্যারোলে মুক্ত শান্তি সরকারকে ফের ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।

উল্লেখ্য, শান্তি সরকারের বাবা প্রাণেশ্বর দাসের বাড়ি মঙ্গলদৈ জেলার খৈরাবাড়ি গ্রামে। সেখানে তাদের কাছে ১৯৫৮ সালে জমি ক্রয়ের প্রমাণপত্র , দলিল রয়েছে। মৃত কামিনী সরকারের স্ত্রীর জানানো মতে, তারা পর্যাপ্ত নথিপত্র দিয়ে এনআরসি’তে আবেদন জানিয়েছিলেন। তবুও তাদের নাম চুড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

39