১৯/৯/১৯,ওয়েবডেস্কঃ বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে এনআরসি নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে তার তীব্র বিরোধিতা করে অবিলম্বে আতঙ্ক বন্ধ করার আহবান জানালেন মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরের কনভেনর রঞ্জিত শুর। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি জানান, যেভাবে এন আর সি আতঙ্কে মুর্শিদাবাদের মিলন মন্ডলের মৃত্যু হয়েছে তাতে অবিলম্বে ভোটার লিস্টে নাম বা ডকুমেন্টসে সংশোধনীর কাজ সাময়িক বন্ধ করুক কমিশন। এব্যাপারে রাজ্য সরকারকে নির্বাচন কমিশনের সাথে কথা বলার দাবি জানান।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গতকাল মুর্শিদাবাদের ডোমকলের শিবনগরের বাসিন্দা মিলন মন্ডলের এনআরসি আতঙ্কে মৃত্যু হয় বলে খবরে প্রকাশ। তার মৃত্যু নিয়ে রাজ্য জুড়ে কার্যত হইচই অবস্থা সৃষ্টি হয়। তারপরেই মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে এনআরসি আতঙ্কের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে আতঙ্ক বন্ধ করার আহবান জানিয়েছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,
আধার কার্ড, ভোটার কার্ড সংশোধন করতে না পেরে এনআরসি’র ভয়ে, ভিটে মাটি থেকে উচ্ছেদের ভয়ে মিলন মণ্ডল আত্মহত্যা করলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে জুড়ে নির্বাচন কমিশন আধার কার্ড, ভোটের কার্ড সংশোধন করার কাজ এমন সময়ে শুরু করেছে যখন যখন আসামে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হচ্চে। তার উপর আবার স্মৃতি ইরানী বা দিলীপ ঘোষের বাংলায় এনআরসি করার হুমকি। ফলত, সাধারণ মানুষের মনে ভোটের কার্ড, আধার কার্ড সংশোধনীর সাথে এনআরসিকে জুড়ে এক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামের স্কুল গুলোতে ১৯৬০ সাল থেকে সার্টিফিকেট নেওয়ার হিড়িক পড়েছে। বিএলআরও গুলোতে ১৯৬০ সালের সময়ের জমির কাগজ তোলার জন্য প্রচণ্ড ভিড় হচ্ছে। পয়সা দিয়ে কাগজ তৈরির জন্য গরিব মানুষদের প্রচণ্ড হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। সার্বিক বিবেচনা করে এনআরসি নিয়ে বাংলার মানুষকে আতঙ্ক দূর করতে আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড সংশোধনীর কাজটা কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়। মিলন মন্ডলের মৃত্যুকে সাধারণ আত্মহত্যা নয়, প্ররোচনামূলক হত্যা বলে অভিহিত করার পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ঘাড়েই দোষ চাপান।

15