Categories
আশেপাশের খবর কুলিক রোববার প্রথম পাতা

কুলিক রোববারে আজ সাহিত্য সমালোচনায় পুরুষোত্তম সিংহ লিখছেন নীহারুল ইসলামের গল্প নিয়ে

কুলিক রোববার সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯ :
নীহারুল ইসলামের গল্প : প্রান্তিক মুসলিম জীবন -পুরুষোত্তম সিংহ
নীহারুল ইসলাম (১৯৬৭) উঠে এসেছেন মুর্শিদাবাদের লালবাগ থেকে। নয়ের দশকে বহরমপুরের ‘রৌরব’ পত্রিকায় প্রথম গল্প ‘ফুলি’ প্রকাশিত হয়। কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের সংস্পর্শে এসে সাহিত্যজীবন বিশেষ ভাবে সংগঠিত হয়েছে একথা নিজেই বলেছেন। কলেজ জীবনে কবিতাই লিখতেন। কিন্তু হাসান আজিজুল হকের ‘শকুন’ গল্পটি পড়ে কথাসাহিত্যে প্রবেশ করে যান। এযাবৎ কাল তিনশ এর অধিক গল্প লিখেছেন। প্রকাশিত হয়েছে অনেকগুলি গল্প সংকলন –‘পঞ্চমব্যাধের শিকার পর্ব’, ‘জেনা’, ‘আগুনদৃষ্টি ও কালোবিড়াল’,’ ট্যাকের মাঠে মাধবী অপেরা’ ( ‘সোমেন চন্দ পুরস্কার’, ২০১০), ‘ঘাট অঘাটের বৃত্তান্ত’, ও ‘বাবরনামা’। ‘ইলা চন্দ পুরস্কার’, ‘গল্পমেলা পুরস্কার’ সহ পেয়েছেন বহু সম্মান। নির্দিষ্ট প্রিয় গল্প বলে তাঁর কোন গল্প নেই, প্রকাশিত হওয়ার আগে সমস্ত গল্পই তাঁর প্রিয়। এমনকি এও বলেন তৃপ্তি না পেলে গল্প লিখতাম না। বর্তমান নিবন্ধকারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন-“ আমার গল্পে বিপন্ন নারী ও অসহায় মানুষ বারবার উঠে এসেছে। এর কারণ, আমি যে ভূগোলে বসবাস করি, সেখানে নারীরা আজও বিপন্ন, মানুষ অসহায়। ধর্ম-রাজনীতি এঁদের নিয়ে ক্ষমতার খেলা খেলে। আমার চারপাশে প্রতিনিয়ত এই খেলা চলে। আমি দেখি। দেখতে দেখতে নিজেই বিপন্ন বোধ করি। নিজেকে কেমন অসহায় লাগে। তবু প্রতিবাদ করতে পারি না। এজন্য আমার কষ্ট হয়। আর সেই কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে আমি লিখি।“ ( ১)
মুসলিম জনজীবন নিয়ে লেখা নীহারুল ইসলামের একটি অসাধারণ গল্প হল ‘নুরুদ্দি হাজির গল্প নয়’। গল্পটি ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে ‘সাংস্কৃতিক সমসময়’ পত্রিকায় ‘নুরুদ্দি হাজির গল্প নয় ইহা বড় তাওয়ার গল্প’ নামে প্রকাশিত হয়েছিল। পরে গল্পটি আবার ‘পরিচয়’ পত্রিকায় ২০০২ খ্রিস্টাব্দে পুনমুর্দ্রিত হয়। একটি মুসলিম জীবনের ভাঙা- গড়ার কাহিনি নিয়ে এই গল্প। নুরদ্দি হাজি এখন সভ্রান্ত লোক, কিন্তু একদিন সে দরিদ্র ছিল। সেই বিলাই হাঁচড়ি থেকে পায়ে হেঁটে জামা কাপড় নিয়ে এসে ধুলাউড়ির বাজারে বিক্রি করতো। এখন ধুলাউড়ির বাজারে সে নিজেই দোকান করেছে, দোকানে কর্মচারী রেখেছে। তবে সে ধর্ম মানা মানুষ, প্রতিদিনে নামাজ পড়েন। হজে গিয়ে পূণ্য অর্জন করে এসেছেন। তবে ধর্মান্ধতা তাঁর মধ্যে নেই। সে টিভি দেখে। স্ত্রী মর্জিনার কোন সন্তান নেই। দ্বিতীয় বিবাহ করতে চাইলেও সে করেনি। মার্জিনার জীবনে নিঃসঙ্গতা কাটাতেই সে এনেছে টিভি। তেমনি রয়েছে গ্রামের মানুষের কুদৃষ্টি। লেখকের ভাষায় সে যেন একটা গরু আর প্রতিবেশীরা ‘গিধিনীর দল’ ( শকুনের দল )। এই শত্রু দলের হিংস্রা রয়েছে তাঁর প্রতি। তবে নুরদ্দি কিন্তু হিংসুক বা স্বার্থপর নয় , দোকানের খরিদদার ও কর্মচারীদের প্রতি সে যেমন ভালো ব্যবহার করে তেমনি গ্রামের মানুষের জন্য ভেবেছে মসজিদ তৈরি করার কথা। নিজ ধর্মের প্রতি তাঁর অত্যন্ত শ্রদ্ধা, তাই টিভি বা দোকানে ভিড় থাকলেও সে নিয়মিত নামাজ পাঠ করে। লেখকের ভাষায়-“ নুরুদ্দি হাজি কিন্তু এবার নামাজ ভুলে থাকলেও ফজরের নামাজ ভুলবে না। কিংবা ভুলবে না ধুলাউড়ি বাজারে একটা মসজিদ গড়ার স্বপ্ন। খোদার ঘর মসজিদ। খোদার কাছে তার মানও আছে।“ (২) গল্পের নামকরণটি লক্ষণীয়। লেখক হয়তো গোটা সমাজকেই ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন কিন্তু গল্পের মধ্যে নুরুদ্দিই প্রধান হয়ে উঠেছে। শ্রেণিচরিত্র নয় ব্যক্তিজীবনই বড় হয়ে উঠেছে।
“ মহাসাগরের নামহীন কূলে
হতভাগাদের বন্দরটিতে ভাই
সেই সব ভাঙা জাহাজের ভিড় !-
শিরদাঁড়া যার বেঁকে গেল
আর দড়াদড়ি গেল ছিঁড়ে
কব্জা ও কল বেগড়ালো অবশেষ ।“(৩)

সেই সব ভাঙাচোরা মানুষদেরই কথাকার নীহারুল ইসলাম।‘তাহের আলির জীবনযাপন’ গল্পটি ‘নিসর্গ’ পত্রিকায় ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। এক পঙ্গু মানুষ তাহের আলি। তাঁর পা দুটি অক্ষম। জীবনে সুখ শান্তি সে দেখেনি। তাঁর জীবনের পরম সুখ হাতে থাকা বাটিতে পয়সা পড়ার শব্দ শোনা। তাহের আলির মাইনে করা মুনিষ ফয়েজ ও সেন্টু। এঁরাই তাহের আলিকে বয়ে নিয়ে যায়। ভিক্ষে করা পয়সা থেকে তাহের আলি তাঁদের বেতন দেয়। তাহের আলির জীবনে কেউ নেই এক ধর্ম-মা ছাড়া। ফয়েজ ও সেন্টু যৌবনে পা দেওয়া যুবক। ধর্ম-মা থাকে ধরমপুরে। তাহের আলির সঙ্গে মাতার কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু মাঝে মাঝে ধরমপুর যেতে হয় কেননা ধরমপুরেই ফয়েজ সেন্টুর বাড়ি। জীবনে যৌনতার স্বাদ পায়নি তাহের আলি, জীবনের চাহিদা গুলো উপলব্ধি করতে সে অক্ষম। সে বোঝে শুধু বাটিতে পরা পয়সার শব্দ সুখ- “ তাহের আলি কিন্তু কষ্ট পেতে চায় না। সে বেঁচে থাকতে চায় সুখ- শান্তির মধ্যে। তার ‘সাধের জিন্দরগানীতে’ পয়সার টুং- টাং শব্দই হচ্ছে তার সুখ- শান্তি।“ (৪) সেন্টু বিবাহিত। স্ত্রীর সঙ্গে সামান্য সঙ্গ দিতে চায় না তাহের আলি। একদিন সকালে ফয়েজ- সেন্টু তাহের আলিকে নিয়ে চলেছে গঙ্গার ঘাটে। দুপুর বেলায় খেতে বসে ফয়েজ ও সেন্টু, তখনই তাহের আলির গাড়ি নদীতে গড়িয়ে যায়-
“ ওদিকে তাহের আলি গড়াতে গড়াতে একবার স্রোতে গিয়ে পড়ল। স্রোতে তাকে টেনে নিয়ে গেল ঘূর্ণিতে। আর ঘূর্ণি যে তাকে কোথায় আশ্রয় দিল, ফয়েজ সেন্টু, স্নানরতা মেয়েক-টা কিছুই মালুম পেল না। হতবাক হয়ে শুধু চেয়ে রইল ঘূর্ণির দিকে। এবং দেখল পারের খেয়া মারতে আসা ছোটো নৌকাটিকে ঘূর্ণির উপর দিয়ে ছুটে আসতে।“ ( ৫)
কেউ রক্ষা করে না – রক্ষা করার প্রয়োজন উপলব্ধি করে না,ফয়েজ- সেন্টুর কাছে অভুক্ত পেটে ক্ষুধা মেটানোর তাগিদই বড় হয়ে ওঠে। এখান থেকে দুটি প্রশ্ন মনে আসে- তাহের পঙ্গু বলেই সমাজে তাঁর প্রয়োজন নেই, তাই কেউ তাঁকে রক্ষা করে নি। ফয়েজ- সেন্টুর জীবন তো অতিবাহিত হত তাহেরের টাকায়, তবুও তাঁরা কেন চুপ করে বসে থাকলো ! আসলে ক্ষুধার তাড়নাই আজ তাঁদেরকে বিপথে ঠেলেছে। ক্ষুধার সত্যই তাঁদের কাছে একমাত্র সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবসন্ন দিনের ক্লান্ত বেলায় ক্ষুধার কাছে তাহের আলির জীবন তুচ্ছ মনে হয়েছে। কেন জানি না এ গল্প পড়তে গিয়ে তারাশঙ্করের ‘তারিণী মাঝি’ গল্পের কথা মনে আসে। সেখানে নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রীকে ছেড়ে দিয়েছিল তারিণী, আর এ গল্পে ক্ষুধা মেটাতেই ক্ষুধার অবলম্বন তাহেরকেই ছেড়ে দিল ফয়েজ – সেন্টুরা। পঙ্গু মানুষগুলো বোধহয় এভাবেই জীবন থেকে হারিয়ে যায় – পৃথিবীতে তাদের প্রয়োজন কতটুকু ?
## নীহারুলের লেখার বিষয় মুসলিম সমাজ। আর সে সমাজ প্রান্তিক অঞ্চলের জনজাতি। মুর্শিদাবাদ সংলগ্ন অঞ্চলই তাঁর লেখার প্রেক্ষাপটে উঠে আসে। মুসলিম নারী জীবন নিয়ে লেখা একটি অসাধারণ গল্প হল ‘ বেরাদানে ইসলাম’। রাবিয়া নামে এক বঞ্চিত নারীর জীবনযাত্রার অমোঘ ধ্বনি পাওয়া যায় এ গল্পে। রাবিয়ার সঙ্গে বিবাহ হয়েছিল এক্রামের। এক্রাম ছিল পেশায় চোর। স্বাভাবিক ভাবে কিছুদিনের মধ্যেই এক্রামের মৃত্যু ঘটে। এক্রামের মৃত্যুর পর রাবিয়া বেঁচে থাকতে পেশা হিসেবে ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বন করে। সেই ভিক্ষা জীবনের কাহিনিই এ গল্পের কেন্দ্রীয় বিষয়। ইসলাম ধর্ম- কর্মে রাবিয়ার বিশ্বাস আছে কিন্তু লোকাচার পালনে সময় নেই, ফলে তাঁর নামাজ পড়া হয় না। যৌবনে ভিক্ষা করতে অনেক গ্লানি সহ্য করতে হয়েছে। তাবে রাবিয়া বুঝে গেছে ভিক্ষা জীবনে গ্লানিই সত্য। আজ মসজিদ নির্মাণকল্পে ধর্মীয় সভা হবে কেরামতের বাড়ি। কেরামত ছিল চোর, সে ছিল এক্রামের সাথি। সেই কেরামতই আজ হয়েছে ধর্মীয় ব্যাপারে উৎসাহী। পরকালের চিন্তা প্রাধান্য পেয়েছে কেরামতের। ধর্মীয় বাণী শুনে রাবিয়ার মনে আজ প্রশ্ন জেগেছে পরকাল নিয়ে। তেমনি ইসলাম ধর্মের নঞর্থক দিকগুলি লেখক তুলে ধরেছেন। পয়সা দিলেই নরকে স্থান হবে না। কিন্তু রাবিয়া তো নিজেই খেতে পায় না, সে কি দেবে আল্লাকে ! লেখক অসাধারণ ভাবে তা ফুটিয়ে তুলেছেন –
“রাবিয়া নামেতে বিবি দুটি আন্ডা দিল
খোদা তুমি তার যত গুণাহ মাফ করে দিও
দয়ার সাগর তুমি রহমানও রহিম
তুমি বিনা গতি নাই রাব্বুল আলামিন।“ (৬)
কিন্তু এখানেই শেষ নয়, ডিম ঘরে আনার সময়ই কুপির আলো নিভে যায়। প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার প্রতি লেখকের প্রতিবাদ এখানেই। তবে রাবিয়ার প্রতি লেখকের সহানুভূতি আছে। তিনি বড় যন্ত্র করে গড়ে তুলেছেন রাবিয়াকে। আশ্চর্য সুন্দর ভাবে তিনি রাবিয়া চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা গুলি তুলে ধরেছেন। তেমনি নারী জীবনের অন্দরমহল – বাহিরমহল, ধর্মীয় নীতি সম্পর্কে ভীরুতা ও ধর্মকে অতিক্রম করে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার প্রবণতা গুলি প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে ‘ফুলজানের সংসার’ গল্পে একটি মুসলিম নারীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লষণ প্রবণতা ধরা পড়ছে। স্বামী জইনুদ্দিন ও ছেলে জামিলকে নিয়ে সুখের সংসার ফুলজানের। স্বামী জইনুদ্দিন বাইরে কাজ করে, ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফিরেছে। ঈদের আগে বাড়ি ফেরে নি বলে ভাগে গরুর মাংস কেনা হয় নি তাই দুটি মোরগ কিনে এনেছে। উৎসব শেষে জইনুদ্দিন ফিরে যাবে কর্মস্থলে, সে এবার কর্মস্থলে ছেলে জামিলকে নিয়ে যেতে চায়। সন্তান অদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় মাতার মনচেতনা বিশ্লেষণ করেছেন লেখক। মোরগ ডাকা সকালে ঘুম ভেঙেছে ফুলজানের, হৃদয় ছিন্ন করে আজ বিদায় জানাতে হবে স্বামী- পুত্রকে।তাই ফুলজানের চিন্তা জগতে প্রাধান্য পেয়েছে ট্রেন যেন না আসে কিংবা পিতা ইব্রাহিম কিভাবে নিজের সন্তান ইসমাইলকে হত্যা করেছিল সে প্রসঙ্গ।হৃদয়কে শতছিন্ন করে ফুলজান স্বামী- পুত্রকে বিদায় দিয়ে ঘরে শুয়ে থাকে। কিন্তু জনুদ্দিনরা আজ ট্রেন পায় নি ফলে বাড়িতে চলে আসে। এই আসার আনন্দেই গল্পের উপসংহার টেনেছেন লেখক। বঞ্চিত নারী ফুলজান স্বামী- পুত্রকে আরো একদিন কাছে পাবে। সেই সুখ চরিতার্থ করতে ফুলজান আজ মোরগ দিয়ে পোলাও রান্না করেছে। মোরগ ডাকেই আজ ফুলজানের ঘুম ভেঙছে। এ ডাক যেন স্বামী –পুত্রকে হারানোর ইঙ্গিত। কাল থেকে স্বামী- পুত্র আর থাকবে না তাই মোরগের আর প্রয়োজন নেই। ফুলজান আজ সুখী – এ সুখ ক্ষণিক তবুও তো কিছুটা অশ্রুলাঘব হবে। এঁরা নিম্নবিত্ত পরিবারের সাধারণ মানুষ। এঁরা যেন ত্যাগের ব্রত নিয়েই পৃথিবীতে জন্মছে। তবুও একটু সুখের প্রত্যাশী- জীবনকে এমন ভাবেই উপলব্ধি করতে চান ফুলজান নামক মহিলরা।
## বঞ্চিত নারী আয়েষাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ‘ ঘাইহারিণী’ গল্পটি। আয়েষা শহরে শিক্ষিত মেয়ে। অরিতকে বিবাহ করে সে গ্রামে এসেছে। গ্রামের এই নিঃসঙ্গ জীবনে সে ক্লান্ত হয়ে ওঠে।পুত্র সানুকে নিয়ে কিছুটা হলেও সে ক্লান্তির অবসান ঘটে। সানুকে নিয়ে বেড়িয়ে পরে প্রতিদিন ঘুরতে। কিন্তু স্বামী সঙ্গ পায় না। স্বামী অরিত মগ্ন ব্যবসায়, বাড়ি ফিরে স্ত্রীর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। আয়েষা ও সানু বিকালে বেড়াতে গিয়ে কিছু অচেনা যুবকের নজরে পরে। সেখান থেকে বাড়ি এসে স্বামীকে নিয়ে রবিবার বিকালে নতুন করে ঘুরতে যাবার পরিকল্পনা করে। কিন্তু রবিবার বিকালে ব্যবসা ছেড়ে আসে না অরিত। এই প্রতিশোধ সে ছেলে সানুকে আঘাত করে তোলে। গল্পের নামটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। নিজের বিপদ জেনেও যেমন হরিণ জলপানে নামে আজ তেমনি অয়েষা নিজেকে এগিয়ে দিতে চাইছে অচেনা যুবকদের কাছে। কেনই বা দেবে না ? সংসার থেকে সে তো কিছুই পায় নি। নিজের জীবনকে তিল তিল করে ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে। সেখান থেকে কেন-ই বা মুক্তি পাবে না একটি মেয়ে। শহরে শিক্ষিত একটি মেয়ে গ্রাম্য জীবনে গণ্ডিবদ্ধতার মধ্যে শেষ করে দেবে নিজের স্বপ্ন আকাঙ্ক্ষা – এটি লেখকও চান নি। তেমনি রয়েছে নারী স্বাধীনতা। আয়েষা মুসলিম পরিবারের বধূ হলেও প্রগতিশীল নারী। আসলে সময়ের সাথে সাথে সমাজ মানসের যে পরিবর্তন সেটাই লেখক দেখাতে চেয়েছেন।
## “নষ্ট মূল্যবোধের ক্ষয়ে যাওয়া এক দেশের, স্রোতের বিরুদ্ধে সন্তরণগত মানুষেরা নীহারুলের নায়ক। মুখের বিচিত্র ভাষায়, চোখের তারার অযুত বিভঙ্গে তারা কথা বলে। তাদের কত রং, ঢং, কত বাসনা, বেদনা, কত বিলাপ। এ যেন নানান ভাবভূষণের চরিত্রের এক চিত্রশালা।“(৭)
সেই নষ্ট মূল্যবোধের অবক্ষয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে ‘আমিন’ গল্পে। তেমনি গ্রামীণ জীবনের ব্যভিচার নির্ভর পঙ্কিল সমাজ ব্যবস্থা উঠে এসেছে। আর জীর্ণ সমাজে সবচেয়ে বেশি শোষিত হতে হয় নারীদের। সাবিহারের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি ছিল ফিন্টুর, তাই সাবিহার স্বামী আমিন খুন করে ফিন্টুকে। খুনি আমিন দীর্ঘদিন পলাতক। সেই সাবিহাই আজ ধর্ষিত হয়েছে। প্রান্তিক জনজীবনে নারীদের নিজস্ব কোন কন্ঠ নেই, সমাজের স্রোতই যেন তাদের কন্ঠ। সেই স্রোতের বিরুদ্ধে গেলে বর্জিত তো হতেই হয় এমনকি পুরুষশাষিত সমাজ নিজের ইচ্ছা মতো ব্যবহার করে নারীদের। সাবিহা সেই শোষিত নারীদেরই প্রতিনিধি। সে ধর্ষিত হয়ে বাগানে পড়েছিল। গ্রামের কেউ এগিয়ে এসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় নি, পুলিশ যখন আসে তখনও সাবিহার প্রাণ ছিল। ধর্ষণের প্রশ্ন নয়, একটি নারী ধর্ষণকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য জীবনে যে ব্যভিচার, ধর্মীয় বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল সেটিই লেখকের মূল লক্ষ্য। আর সে লক্ষ্য পূরণে বলি হতে হয়েছে সাবিহাকে। তেমনি রয়েছে ধর্মকে আশ্রয় করে বাঁচার চেষ্টা ও ধর্মীয় দলাদলি। নীহারুলের চরিত্ররা প্রতক্ষ্য দেখা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই উঠে আসে। এজন্য তাঁর গল্পের প্রেক্ষাপট একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে নীহারুলকে আমি আঞ্চলিক শিল্পী বলতে অনিচ্ছুক। লোকাল কালারকে ফুটিয়ে তুলতে চরিত্র উপযোগী ভাষা ব্যবহার করলেও এক সার্বজনীনতাবোধ তাঁর গল্পে রয়েছে – এজন্যই নীহারুল কালের কথাকার, সময়ের কথাকার। যে সময়ে প্রান্তিক মুসলিম জনজীবন নানাভাবে খণ্ডিত- দ্বিধাগ্রস্ত হয়েছে। সেই খণ্ডিত সময়-সমাজকেই তিনি এক সরলরেখায় বুনে চলেন।
##দেশভাগ, হিন্দু- মুসলিম নরনারীর প্রেম ও গ্রাম-শহরের মেলবন্ধন নিয়ে একটি চমৎকার গল্প হল ‘সীমানা ছুঁয়ে’। কলকাতার শিক্ষিত হিন্দু যুবক চাকরি সূত্রে এসেছেন মুর্শিদাবাদের এক গ্রামে। অরিত ভাড়া থাকে মুসলিম ইলিশাদের বাড়ি। ইলাশার সঙ্গে তাঁর নৈকট্য, সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নানা ধরণের খোলা মেলা আলোচনায় অংশ নেয় ইলিশারা। এমনকি একে ওপরের প্রতি টানও অনুভব করে। তবে লেখক ইচ্ছা করলেই তাঁদের মিলিয়ে দিতে পারতেন- কিন্তু লেখক পিছিয়ে এলেন।আফসার আমেদ ‘একটি গিটার’ গল্পে দুটি হিন্দু মুসলিম প্রেমিককে মিলিয়ে দিয়ে সম্পর্কের সেতুবন্ধন রচনা করেছিলেন। কিন্তু নীহারুল কৌশলে সে প্রসঙ্গ থেকে গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেন। দেশভাগে খণ্ড হওয়া দুটি দেশ আর মিলতে পারে না, তেমনি একটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের বিবাহও হয়ত নিরার্থক। দেশের ঐতিহ্য দেশভাগ ও পদ্মার ভাঙনে কিভাবে লুপ্ত হয়ে গেছে তা ইলিশা যেমন তুলে ধরেছেন তেমনি অখণ্ড বাঙালি সত্তা কিভাবে খণ্ডিত হয়েছে সে প্রসঙ্গও এসেছে। পাঠকের স্বাদ চরিতার্থে সামান্য অংশ তুলে ধরি-
“ এই জায়গা মুসলমানদের কবরস্থান। মুসলমানরা মরলে তাদের দাফন হয় এমন কবরস্থানে। অভিভক্ত বাংলায় এখানে কবর দেওয়া হত। এখন হয় না। আগে নিশ্চয়ই আশেপাশে গ্রাম ছিল। সে-সব গ্রাম দেশভাগ কিংবা পদ্মার স্থান পরিবর্তনের কারণে নিশ্চিহ্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু কবরস্থানটি ঠিক আছে, দেখুন। ঘাসে ঘাসে কেমন ঢেকে গেছে। দুই দেশের সীমারেখা নির্ধারণ করেছে। কীভাবে করছে, সেটা দেখবেন ? তাহলে আসুন আমার সঙ্গে। বলে ইলিশা তাকে ঘাসে জঙ্গলে ঢুকিয়েছিল এবং দেখিয়েছিল আন্তর্জাতিক সীমা নির্ধারণকারী একটি কংক্রিট পিলার। যার একদিকে ইণ্ডিয়া লেখা, অন্যদিকে লেখা বাংলাদেশ। সেটা দেখিয়ে ইলিশা তাকে বলেছিল, এই পিলারটি হয়তো কোনো অখণ্ড বাঙালি মানুষের বুকের উপর বসে আজ সমগ্র বাঙালিকে খণ্ড –খণ্ড করে রেখেছ।“(৮)
সতীন সমস্যা বাঙালি জীবনের চিরন্তন সমস্যা। সেই সমস্যাকে সামনে রেখেই লেখক গড়ে তুলেছেন ‘ভিমরতি’ গল্পটি। সেই সঙ্গে আছে গ্রাম্যজীবনের প্রচলিত অন্ধবিশ্বাসময় কুসংস্কার জীবন। সাবের আলির দুই স্ত্রী – কুলসুম ও মাসকুরা। প্রথম বিবি নিঃসন্তান হওয়ায় সে বিবাহ করে মাসকুরাকে। এই মাসকুরা কিভাবে ডাইনি ভূত হয়ে গিয়েছিল তাঁকে কেন্দ্র করেই এ গল্প গড়ে উঠেছে। মাসকুরা কেন জিনে পরিণত হল তার কোনো ইঙ্গিত লেখক দেননি। এমনকি মাসকুরা কেনই বা স্বামী সাবের আলির জীবন দংশন করলো তারও কোন ইঙ্গিত নেই। এমনকি বড় সতীন কুলসুমের সঙ্গে কোন দ্বন্দ্ব ছিল না মাসকুরার। একবিংশ শতাব্দীতে বসে গল্পটিকে অলৌকিক না বলে জাদুবাস্তবতার মধ্য দিয়ে দেখা যেতে পারে। একালের গল্পকাররা আর কেউই কাহিনি নিয়ে গল্প লেখেন না। গল্প লেখা তাদের কাছে একটি রহস্য। আর সে রহস্যের জাল ভেদ করতে হয় পাঠককে। মাসকুরার জীবনে কিছুরই অভাব ছিল না, তবুও সে কেন সাবেরকে আত্মহত্যা করলো তা এক গোলকধাঁধা। এমনকি মাসকুরা সত্যিই সাবেরকে হত্যা করেছিল কি না তা উপলব্ধি করা যায় না। গল্পের ভাষা অনুযায়ী দেখা যায় গাছের ডালে সাবের আলির দেহ ঝুলছে, গল্পকারের মতে মাসকুরা ভূতই এই কাজটি করেছে। সাবের ও মাসকুরার জীবনে কোন কিছুরই অভাব ছিল না, তবুও কেন এই আত্মহত্যা, এ যেন জীবনানন্দের ভাষায় –
“ বধূ শুয়ে ছিল পাশে – শিশুটিও ছিলো ;
প্রেম ছিলো, আশা ছিলো – জ্যোৎস্নায় – তবু সে দেখিল
কোন ভূত ? ঘুম কেন ভেঙে গেলো তার ?
অথবা হয়নি ঘুম বহুকাল – লাশকাটা ঘরে শুয়ে ঘুমায় এবার।“( ৯)একথা স্বীকার করতেই হবে লেখার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার জগৎ লেখকের বড় কাঁচামাল। সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই নীহারুল বাবু গল্পের কাহিনি গড়ে তোলেন। সীমান্তবর্তী এক জেলা মুর্শিদাবাদ।পাশ দিয়ে বয়ে গেছে গঙ্গা নদী। নদীভাঙন, সীমান্ত সমস্যা, বি.এস. এফ এর অত্যাচার,দুপারের মানুষদের আনাগোনা- এ সবই লেখকের চোখে দেখা বাস্তব অভিজ্ঞতা। আর এই অভিজ্ঞতাগুলিই উঠে এসেছে তাঁর গল্পে। সেই অভিজ্ঞতার কথা তিনি মুসলিম চরিত্রদের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। এমনই একটি গল্প হল ‘উগ্রপ্রন্থী’। আজাদ বিয়ে করেছে বাংলাদেশের সুলতানগঞ্জের কন্যা শায়েরাকে। শায়েরার শ্বশুরবাড়ি ও বাপের বাড়ির মধ্যে ব্যবধান মাত্র দুই মাইল। তবে দুটি আলাদা দেশ, এখানে সীমান্ত শাসন তেমন কঠিন নয়। খুব সহজেই এপার ওপার করা যায়। শায়েরা বাপের বাড়ি যাবার জন্য কৌতুহলী, এমন সময়ই আসে মামাতো ভাই এমদাদ। সে ছিল চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত। আজাদ দিনমজুর, সংসারে স্বচ্ছলতা নেই, তবুও সে চোরাকারবারে যুক্ত হয় নি, সে বাবার কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে চলে – “ আজাদের বাপ ভুলু শেখ বলত, বর্ডারে বাড়ি বাপ, খেতে না পেলেও দুনম্বরি করিস না। দু- নম্বারি কামাই, হারামের কামাই।“( ১০) এমদাদ এখান থেকে চোরাই মাল নিয়ে গেছে কোলকাতায়। এমনকি যাবার সময় শায়েরার দুই ছেলেকে একশো টাকা দিয়ে গেছে। আজাদ গরিব কিন্তু সে সৎ। তাই সে টাকা তাঁর পুরুষত্বক আজ ক্ষত – বিক্ষত করেছে। তবুও সে টাকায় সে স্ত্রী- পুত্রদের ওপারে পাঠিয়েছে। কিন্তু পুলিশ আজ চোরাচালনে আজাদকে সন্দেহ করে গ্রেফতার করে। শান্ত সহজ- সরল মানুষটি আজ বিনা দোষে পুলিশের হাতে পড়েছে –
“হঠাৎ তখনই সে শুনল, কেউ তাকে উদ্দেশ্য করে বলছে, একেবারে নাড়াচড়া করবি না। আমরা পুলিশের লোক। আমরা তোকেই ধরতে এসেছি। তোর বন্ধু তোর বাড়ি থেকে গিয়ে শেয়ালদার হোটেলে আমাদের হাতে ধরা পড়েছে।
আজদের মুখে কোনো কথা নেই। তার কোনো কৌতূহলও নেই আর। কেমন অবশ হয়ে পড়েছে তার দেহ- মন। তবুও সে দেখেছে, চোখ বন্ধ অবস্থায় দেখেছে যেন আব্দুলের দোকানের টিভিতে , চারিদিকে পুলিশ বেষ্টিত এক উগ্রপন্থীকে। যে ধরা পড়ল এক্ষুণি,এই মুহূর্তে।“( ১১)
সহজ –সরল গ্রাম্য জীবন কিভাবে পাল্টে যাচ্ছে লেখকের ইঙ্গিত সে দিকে। উত্তর- ঔপনিবেশিক প্রেক্ষাপটের ফলে গ্রাম্য জীবনে প্রবেশ করেছে অর্থের ভাণ্ডার। আর অর্থের পিছনে কার লোভ নেই- ফলে পাল্টে যাচ্ছে গ্রাম্য জীবন। আর সেই পরিবর্তনে বলি হতে হয়েছে হাজার হাজার নিরাপরাধ মানুষকে- আজাদ তেমনই একজন। যে সারাজীবন চোরাচালানকে ঘৃণা করে এসেছে আজ তাঁকে গ্রেফতার হতে হয়েছে উগ্রপন্থী হিসেবে। এই ভবিতব্যই লেখকের উপজীব্য। মাংস বিক্রেতা নুজেদকে নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘তর্পণ’ গল্পটি। নুজেদ চরিত্রের বিবর্তন লেখক আশ্চর্যজনক ভাবে দেখিয়েছেন। যৌবনে নুজেদ ছিনতাইয়ের জন্য জেলে গিয়েছিল তখন নুজেদের বাবা না খেয়ে ক্ষুধায় মরেছে,আজ নুজেদর কাছে অনেক টাকা কিন্তু খাওয়ার লোক নেই- সেই ব্যক্তি ট্র্যাজেডিই এ গল্পের কেন্দ্রীয় বিষয়। তাই প্রতি মহালয়ায় সে অভুক্ত পথের কুকুরদের ভাত – মাংস খাওয়ায়, এ যেন পিতৃপুরুষের প্রতি তর্পণ –
“ আমার জন্মদাতা বাপ একমুঠ ভাতের লেগে তড়পে তড়পে মরেছে ! ঘুরে ফিরে সে কথা মনে পড়ছিল। হামার অন্তর কাঁদছিল। আর হাসি দেখছিলাম মেলা কুকুর ! যারা হামার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। না খেতে পাওয়া পাতলা – দুবল কুকুর সব। কী জানি কেন, এদের দেখে হামার নিজের বাপের কথা মুনে পড়ছিল। বাপের না খেতে পেয়ে মরার কথাটাও। তাই সেদিন হামার নিজের লেগে হোটেল থেকে আনা ভাত- তরকারি এদেরকে খেতে দিয়েছিলাম।“ (১২)
এ প্রসঙ্গে মনে পড়ছে প্রফুল্ল রায়ের ‘জন্মদাতা’ গল্পের কথা। এ গল্পের বীভৎসতা তারাশঙ্করের ‘অগ্রদাণী’ গল্পকেও হার মানায়। বিষ্টুপদ উচ্চবংশীয় বিতাড়িত যুবক। তাঁর বাস সংসার ছেড়ে শ্মশানে। বিষ্টুপদ শুনেছে তাঁর পিতার মৃত্যু ঘটেছে । অথচ তাঁর কাছে কোন অর্থ নেই। তাই সে অন্যের দেওয়া জলের তলায় পড়ে থাকা নৈবেদ্য পিতৃতর্পণের উদ্দেশ্যে দেয়। নিম্মবিত্ত মানুষ কতভাবে বেঁচে থাকে, বাঁচার জন্য কত কৌশল আবিষ্কার করতে হয় তা লেখক নিপূণ ভাবে দেখিয়েছেন।
## ‘বক্তিয়ারের ঘোড়া’ গল্পে উঠে এল মুসলিম জীবনের সমষ্টির কথা। গ্রাম্য পাহাড়ায় আছে কিছু মুসলিম যুবক। এ গল্প যেন চরিত্রের চিত্রশালা। মতিবুল , বক্তিয়ার চরিত্রগুলি স্বতন্ত্র ভাবে উঠে এসেছে। বাংলা ছোটগল্প চর্চায় প্রায় তিন দশক ধরে নিযুক্ত নীহারুল। ব্যক্তি জীবন – সমষ্টি জীবন সব একাকার হয়ে গেছে গল্পের মধ্যে। কোন তত্ত্ব বা জটিল বিষয়ের অবতারণা করেন না তিনি, তাঁর চরিত্ররা যেন সরলরেখা ধরে চলে।
প্রচলিত বাস্তব সত্য ও গল্পেরে সত্য মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় তাঁর গল্পে। ‘আড়বাঁশি’ গল্পটি গড়ে উঠেছে আত্মভোলা শুকরুদ্দিকে কেন্দ্র করে। শুকরুদ্দি জগৎ জীবন সম্পর্কে উদাসীন অন্যদিকে শুকরুদ্দির পিতা জয়নাল সম্পন্ন গৃহস্থ চাষি। শুকরুদ্দির জন্য পিতার অনেক চিন্তা। লেখক নিজেই বলেছেন –
“ তার চার ছেলের তিনটি গেরস্থালিতেই খাটে। আল্লা তাকে খুব সুখ দিয়েছে। যদিও একটা নিজস্ব দুঃখ আছে তার। দুঃখটা তার বড়োপুত শুকরুদ্দির জন্য। আল্লা ছোঁড়ার কাজ করার ক্ষমতা নেই। বলে দিলেও পাবে না। শুকরদ্দি এমনই হুঁশমোটার হুঁশমোটা “(১৩)
উদাসীন আত্মভোলা বলেই সাইফুদ্দিন তাঁর কন্যার সঙ্গে শুকরুদ্দির বিবাহ দেয় নি। শুকরুদ্দি সম্পর্কে সাইফুদ্দিনের বাঁকা কথা সেদিন বুকে বড় বেজেছিল পিতা জয়নালের। এজন্যই জেদের বসে সে গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামের চাঁদতলার সঙ্গে ছেলের বিবাহ দেয়। জয়নাল ভেবেছিল বিবাহ হলে বোধহয় শুকরুদ্দির পরিবর্তন হবে কিন্তু আত্মভোলা শুকরুদ্দি যেন – ‘বন্ধনহীন হরিণশিশু’। সে সংসারের জাঁতাকলে বন্দী হতে চায় না। জয়নাল মাঠ থেকে বাবলা গাছের গুড়ি আনার কথা বলেছিল পুত্রকে। কিন্তু সুকরুদ্দি এ কাজ করে নি বলে বেদম প্রহার করে পিতা। অবশেষে জয়নাল পুকুরে স্নানে গিয়ে দেখে বাবলাগাছের গুড়ি শুকরুদ্দি একাই পুকুরে ঘাটে নিয়ে এসেছে স্নানের সুবিধার জন্য। পুত্রের এই দক্ষযজ্ঞ সুলভ কর্ম দেখে আনন্দিত হয়ে সে। যে সাইফুদ্দিন এতদিন নিন্দা করেছিল সেই আজ প্রশংসা করেছে শুকরুদ্দির। শত্রুর মুখে এই কথা শুনে অনন্দে গর্বে বুক ভরে ওঠে জয়নালের –
“ জীবনে এই প্রথম শুকরুদ্দির জন্য জয়নালের বুকের ছাতি চওড়া হয়। আঘাতে সে আর দাঁড়ায় না। পুকুরেও নামে না। ঘুরে বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করে। কিছুক্ষণ আগে ছোঁড়াকে সে পিটিয়েছে খুব। পিটিয়েছে ওই বাবলার গুঁড়িটার জন্য। অথচ ছোঁড়ার জন্য তার খুব কষ্ট হচ্ছে।“( ১৪)
গ্রামের এই সহজ –সরল মানুষগুলিকে নিয়েই নীহারুলের কথাভুবন। সামান্য তুচ্ছ বিষয়েই এই মানুষগুলো খুশি হয়। আর তাদের জীয়নচিত্র তুলে ধরতে এক সফল চিত্রকার নীহারুল ইসলাম।
## দেশভাগকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল নানা ছিটমহল। আর সেই ছিটমহলের মানুষের সমস্যার কথা আমরা পেয়েছিলাম অমর মিত্রের গল্প উপন্যাসে। দেশকে একটি কাঁটাতার দিয়ে বিচ্ছেদের ফলে কি ভয়ঙ্কর সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল তা বুঝতে পেরেছিল সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষেরা। সেই সীমান্তের কথাই উঠে এল ‘অথ সীমান্তকথা’ গল্পে। গল্পটি স্বতন্ত্র ও ব্যতিক্রম। শাসন আইনের কাছে মূল্যবোধের অবক্ষয় কি ভয়ঙ্কর হতে পারে তা এ গল্প পড়লে বোঝা যায়। এ প্রসঙ্গে মনে পড়ছে কুলদা রায়ের ‘মেঘনাদবধ’ গল্পের কথা। মধুসূদনের কোনো দেশভাগ হতে পারে না তাই বালক ছেলেটি ওপারবঙ্গে থেকে এপারে আসার সময় ‘মেঘনাদবধ কাব্য’টি ওপারবঙ্গেই রেখে এসেছিল। এ গল্পের নায়ক আহম্মদ, বাড়ি রাঢ়বঙ্গে। রাঢ়বঙ্গে পূর্বে বাড়ি ছিল ওপারবঙ্গের কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের। দেশভাগে তাঁকে দেশত্যাগ করতে হয়েছে। সেই রাঢ়বঙ্গের প্রেক্ষাপটে তিনি একটি গল্প লিখেছেন, যাতে আহম্মদের চরিত্র ধরা পড়েছে। তাই আহম্মদ সেই লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করে নানা বই নিয়ে সীমান্ত দিয়ে এপার বাংলায় আসে। আর এই বই নিয়েই বিপত্তি ঘটে, বি.এস.এফরা তাঁকে সন্দেহ করে এই বইয়ের জন্য। এমনকি মানসুর আলি ওপার বাংলায় কন্যার বাড়ি থেকে কোরান শরিফ নিয়ে এসেছিলেন বলেই তাঁকে বি.এস.এফ. বাধা দেয়, লাদেনের চর মনে করে। কোরান তো বিভেদের কথা বলে না, সংর্ঘষের কথা বলে না, বলে শান্তির কথা। কিন্তু সেই কোরান নিয়েই আজ বিপদে পড়তে হয়েছে মানসুর আলিকে। আসলে লেখকের এ ব্যঙ্গ ধর্মীয় ভারতবর্ষের প্রতি। মেঘনাদের দেশভাগ হতে পারে না আর কোরান শরিফ নিয়ে একজনকে বিপদের সামনে পড়তে হয়েছে। একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবী কিভাবে পাল্টে যাচ্ছে, মূল্যবোধের অবক্ষয়ে কিভাবে মানুষের শুভবোধ গুলি বিপথে চালিত করছে সেগুলিই লেখক বড় করে দেখিয়েছেন। আর এই মূল্যবোধের অবক্ষয়ে বলি হতে হয়েছে দুই মুসলিম মানুষ মানসুর ও আহম্মদকে।
## একবিংশ শতাব্দীতে মূল্যবোধের অবক্ষয় আজ ভয়ঙ্কর প্রশ্নের মুখে। আর সেই বিদ্ধস্ত মূল্যবোধকে নিয়েই গড়ে উঠেছে নীহারুলের ‘ভিড়’ গল্প, অবশ্য মুসলিম পরিবারের প্রেক্ষাপটে লেখা। মূল্যবোধের অবক্ষয় আজ মানুষকে কত ভয়ঙ্কর পথে চালিত করে তার দৃষ্টান্ত হাজি । অনেক প্রাচীন বলেই বোধহয় এমন নাম। হাজির দুই পক্ষ। প্রথম পক্ষের তিন ছেলে। বড় ছেলে জকিম। সামান্য মানুষ থেকে সে আজ হাজিতে পরিণত হয়েছ, ধর্মকর্মে মন দিয়েছে। হাজি তাঁর দ্বিতীয় বিবিকে খুন করিয়েছিল বড় ছেলে জকিমকে দিয়ে কৌশলে। জকিমকে পাসপোর্ট করে হাজি পাঠায় বাংলাদেশে।জকিম রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পেরিয়ে এসে খুন করে সৎমাকে। খুন করে আবার সে ওপারে চলে যায়। জকিমের পাসপোর্ট যেহেতু বাংলাদেশে তাই সরকারি ভাবে সে বাংলাদেশে রয়েছে কিম্তু খুনটি করেছিল জকিমই – এই বুদ্ধি ছিল ব্রিটিশ হাজির। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল দ্বিতীয় স্ত্রীকে খূন কেন ? গল্পকারের মুখেই শোনা যাক- “ খুন করালে কেনে শুনবা ? খুন করালে টাকার লেগে। ওই বুটার নামে মেলা টাকার জীবনবিমা ছিল, ওই জীবনবিমার টাকার লেগে।“ (১৫) মূল্যবোধের চরমতম অবক্ষয় এ গল্পে প্রাধান্য পেয়েছে, আর তাঁতে বলি হতে হয়েছে একটি নারীকে। আসলে আমরা যতই মুখে নারীবাদের প্রশ্ন বলি যুগের ক্ষেত্রে নারী শোষণ আজও অব্যাহত – আর সেই শোষণে প্রবলভাবে শোষিত হতে হয় মুসলিম নারীদের।সেই সব বঞ্চিত নারীরাই নীহারুলের গল্পে উঠে আসে। তবে ধর্মান্ধতার প্রতি বিশ্বাস নেই লেখককের। ধর্মের নক্করজনক দিকগুলি ফুটিয়ে তুলতেই তিনি সিদ্ধহস্ত – এক্ষেত্রে এক উদার মানবপ্রেমিক জীবনবোধের শিল্পী নীহারুল ইসলাম।
## ‘শতছিটের ঝোলা’ গল্পটি গড়ে উঠেছে ভিখারি নরুকে কেন্দ্র করে। গল্পটি বন্যার প্রেক্ষাপটে লেখা। প্রবল ঝড়, বৃষ্টি ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেতে নরু বাবলা গাছে আশ্রয় নিয়েছিল। কিছু লোক তাঁকে নামিয়েছিল কাঁধে থাকা ঝোলার জন্য। কিন্তু সে ঝোলাতে কিছুই ছিল না। নরু আজ আশ্রয় পেয়েছে ভগবানগোলা হাইস্কুলে । অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ‘দুইবার রাজা’ গল্পে দেখা গিয়েছিল প্রতিটি মানুষই জীবনে দুইবার রাজা হয়- এক বিবাহের সময় আর মৃত্যুর সময়। এ গল্পের বন্যা বিপন্ন ভিখারি নরু যেন আজ মহারাজা –“ বাবলা গাছে তিনদিন আতকে ছিল বলেই তার আকর্ষণ এতল ভগবানগোলা হাইস্কুলের দোতলায় একটি ঘর সে একা পেয়েছে। বনভাসি শহরে সে এখন ভিআইপি। বিভিন্ন দলের স্থানীয় নেতারা এসে তার খোঁজ –খবর নিয়ে যাচ্ছে দু- বেলা। আর সবাই তাকে নিয়ে আলোচনা করছে।“ (১৬)
## মুসলিম জীবনে সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ। আর এই ইদের সাতকাহন নিয়েই গড়ে উঠেছে ‘ইদ’ গল্পটি। ইদ মহম্মদ এ গল্পের নায়ক। ধর্মের রীতি- নীতি, আচার- আচারণ, ধর্মীয় প্রথার প্রতি তাঁর অগাধ বিশ্বাস। ধর্মীয় প্রথা অতিক্রম করে অনেকে যেমন এগিয়ে এসেছে তেমনি অনেকের রয়েছে ধর্মের প্রতি অগাধ বিশ্বাস। এই দুই শ্রেণির দ্বন্দ্ব ও শ্রেণিচরিত্রের কথা উঠে এসেছে ইদমহম্মদের কথার মধ্য দিয়ে। সাড়া মাস ধরে ইদের ব্রত পালন করা কারো জীবনে আনন্দ আবার কারো জীবনে দুঃখের সমস্তই লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন। আসলে লেখকের লক্ষ্য ছিল ইদকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজ মানস ফুটিয়ে তোলা। সে সমাজের ভাঙা- গড়া, ঐতিহ্যেকে অতিক্রম করে এগিয়ে আসার প্রয়াস, গণ্ডিবদ্ধ সমাজে থেকেও গণ্ডিকে অস্বীকার, ব্যক্তিজীবন কোথাও শ্রেণিচরিত্রে মিশে যাওয়া আবার সঙ্গবদ্ধ জীবনকে অতিক্রম করে নিঃসঙ্গ নায়ক হিসেবে এগিয়ে যাওয়া – এসবই নীহারুলের বিষয়। আর সে সব বিষয় ফুটিয়ে তুলতে নীহারুল এক দক্ষ চিত্রকর।
## মুসলিম ধর্মের ঐতিহ্য – প্রথার নবরূপ, হাদিস ও কোরানের নির্দেশ নিয়ে মৌলবীরা কিভাবে সমাজকে শোষণ ও বিপথে চালিত করে সেই প্রেক্ষাপট গড়ে উঠেছে ‘জেনা’ গল্পটি।সমাজকে সঠিক পথে চালিত করতে কখনও যে মিথ্যা ধর্মের আবরণও প্রয়োজন হয় তা প্রকাশ পেয়েছে। আসলে ভয়কে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে ভক্তি – এই বাস্তব সত্যের মুখোমুখি তিনি পাঠককে দাঁড় করিয়ে দেন। গ্রামে এসেছেন হুজুর। তিনি নানা ধর্মীয় উপদেশ দিবে যান। ‘জেনা’ শব্দের অর্থ হল অবৈধ প্রণয়। হুজুরের কধা মতো ইসলাম ধর্মে অবৈধ প্রণয় নিষেধ। অথচ কোরানের কোথাও সে কথা লেখা নেই। অথচ হুজুর তা কোরানের নির্দেশ বলেই চালিয়ে দিয়েছেন। এক মৌলবীর প্রশ্নে তিনি জানান- “ ওসব কেতাবয় কথা হয় মৌলভী। কেতাবে যা আছে তা দিয়ে মানুষকে আর পাপ থেকে বিরত করা যায় না। তাই ওসব মনগড়া কথা বলতে হয়। না হলে মানুষকে আল্লাহর রাস্তা দেখানো যাবে না। কারণ মানুষের চরিত্র হচ্ছে এমন, যেটা যত বেশি নিষেধ করবে সেটার প্রতি তার আগ্রহ বাড়াতে তত।“(১৭)হুজুরের সেবায় নিযুক্ত রাবিয়া। হুজুরের দৃষ্টি গেছে আজ রাবিয়ার প্রতি। হুজুর রাবিরয় সঙ্গে যৌন মিলন ঘটাতে চান। রাবিয়া দোজখের দীঘল কাঁটার কথা বললে হুজুর বলে –“ এতদিন দুনিয়ার কত মানুষ এল গেল। কত মানুষ এমন পাপ করলে- তাদেরই শাস্তিতেই সে গাছের কাঁটা ক্ষয়ে গাছের সাথে মিশে গেছে। তাতে না হয় আল্লা একবার ছ্যাঁচড়ে ওঠানামা করালেই বা।“(১৮) সামাজিক দিক থেকে মুসলিম সমাজ এমনিতেই পিছিয়ে। আজও সেখানে অব্যাহত রয়েছে ধর্মীয় শাসন। সেই ধর্মীয় শাসনের অপব্যাখ্যা মানুষকে কিভাবে ভ্রান্ত করে সেই দিকটিই তুলে ধরেছেন লেখক।
নীহারুলের ভূগোলের মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও তিনি তাদের দেখেছেন বিরাট কালের পটভূমিকায় ও নগ্ন বাস্তবতার নিরিখে। সহানুভূতি বোধ যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে নিরপ্রেক্ষ মানসিকতা। নিজের সমাজ বলে তিনি সমস্তই ভালো বলে ঘোষণা করেন নি, নীহারুলের নায়করাই তার প্রতিনিধি। জীবনবোধের এক সার্বিক মমত্ত্ব নিয়ে তিনি গল্পের ফসল ঘরে তুলেছেন। সমস্ত ক্ষেত্রেই যে সাফল্য হয়েছেন তা নয়, তবে তাঁর দেখাটা জীবন্ত। আপাত সরল ভাবেই তিনি গল্প শুরু করেন, তবে গল্প নির্ণয়ে এক অন্তহীন রুদ্ধশ্বাস নিয়ে উপস্থিত হন। নিজস্ব ভূগোলের মানুষরাই তাঁর নায়ক। গল্পের উপাদানের জন্য তিনি বড় ভূগোলে যান না। তবে গল্পকে চিরকালীন করে তোলার এক অনায়াস ভঙ্গি সহজেই চোখে পড়ে।
তথ্যসূত্র
১.’ঊষার আলো পত্রিকা’, সম্পাদক নিবারণ দাস, শীত সংখ্যা, ২০১৮,পৃ. ৩।
২.’ নুরুদ্দি হাজির গল্প নয়’, নীহারুল ইসলাম, ‘ঘাট অঘাটের বৃত্তান্ত’, প্রথম প্রকাশ ২০১৪, অভিযান, কলকাতা ৭৪, পৃ. ২১।
৩.’বেনামী বন্দর’ প্রেমেন্দ মিত্র, শ্রেষ্ঠ কবিতা, তৃতীয় সংস্করণ ১৪১২, দে’জ, কলকাতা ৭৩, পৃ. ২১।
৪.’তাহের আলির জীবন’, নীহারুল ইসলাম, তদেব, পৃ. ৪৯।
৫. তদেব, পৃ. ৫১।
৬. ‘বেরাদানে ইসলাম’, তদেব, পৃ. ৫৩।
৭. শক্তিনাথ ঝা , নীহারুলের গল্প সম্পর্কে মন্তব্য যা ছাপা হয়েছে ‘ঘাট অঘাটের বৃত্তান্ত’ গল্পের কভার পেজে।
৮. ‘সীমানা ছুঁয়ে’, নীহারুল ইসলাম, তদেব, পৃ. ৬৭।
৯.’আট বছর আগের একদিন’, জীবনানন্দ দাশ, শ্রেষ্ঠ কবিতা, তৃতীয় সংস্করণ ২০০৪, ভারবী, কলকাতা ৭৩, পৃ. ৬৬।
১০.’উগ্রপন্থী’, নীহারুল ইসলাম, তদেব, পৃ. ৮৮।
১১. ‘তদেব’,পৃ. ৯৪।
১২. ‘ঘাইহরিণী’, তদেব, পৃ. ১৮৪।
১৩.’বক্তিয়ারের ঘোড়া’, তদেব,পৃ. ১০১।
১৪. ‘আড়বাঁশি’,তদেব, পৃ. ১০৬।
১৫. ‘ভিড়’, তদেব,পৃ. ১৭৩।
১৬.’শতছিটের ঝোলা’, তদেব, পৃ. ১১৭।
১৭. ’জেনা’, ‘বাংলা ছোটগল্প’( নবম খণ্ড), বিজিত ঘোষ সম্পাদিত, প্রথম সংস্করণ ২০০৯, পুনশ্চ,কলকাতা ০৯,পৃ. ৩০৪।
১৮. ‘তদেব’, পৃ. ৩০৯।

314

Leave a Reply