একটি বিশেষ প্রতিবেদন

জুলাই ৩০, ২০১৯ : ‘মদের নেশা সর্বনাশা’ এই আপ্তবাক্য কে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে ক্রমশ পরিযায়ী পাখিদের প্রাণকেন্দ্র রায়গঞ্জ শহরের দখল নিচ্ছে একদল মাদকাসক্ত। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় বসছে মদ গাঁজার আসর। কুলিক নদীর ধার দিয়ে বিস্তীর্ন এলাকা জুড়ে রয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম কুলিক পাখিরালয়। আর এই পাখিরালয়ের ভেতরেই চলছে অবাধে মদ্যপান, জুয়ার আসর। সংরক্ষিত এলাকায় বিশেষ করে আব্দুলঘাটা, শিয়ালমুনি, কুলিক বিশ্রামাগারের পার্শ্ববর্তী এলাকায় দিনেদুপুরে প্রকাশ্যে মদ গাঁজার আসর বসায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ তুলছেন রায়গঞ্জের বাসিন্দারা।

সকাল এগারোটা বাজলেই কলিক পাখিরালয়ের এই এলাকা গুলোতে মোটরবাইক, ছোট গাড়ির আনাগোনা বাড়তে থাকে। সোনায় সোহাগার মতন পাখিরালয়ের পাশেই পানের দোকানে পাওয়া যায় বাদবাকি সমস্ত সরঞ্জাম।এরপর একটু এগিয়ে গেলেই দেখতে পাবেন অসংখ্য ছোট ছোট দল এদিকে ওদিকে বসে রয়েছে। অবাধে চলছে মদ্যপান, জুয়ার আসর। কেউ কেউ একধাপ এগিয়ে নিয়ে চলেছে ড্রাগস। এরইমাঝে রবিবার রায়গঞ্জ ফরেস্ট ক্যাম্পাসের পাশে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। পরে তাকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা জানান অত্যাধিক মদ আর গাঁজার সেবনের ফলে অচৈতন্য হয়ে পড়েছে ছাত্রীটি।
সারাবছরই প্রায় পাখির আনাগোনা থাকে কুলিক পক্ষীনিবাসে। আর তার সাথে আনাগোনা লেগেই আছে দেশ বিদেশের পর্যটকদের। কিন্তু বর্তমানে এই সংরক্ষিত পাখিরালয়ের পরিবেশ নিয়ে যথেষ্ট চিন্তা প্রকাশ করেছেন পর্যটকরা।

সন্ধ্যা নামলে এলাকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। শুধু এই বনাঞ্চল নয় রাতের অন্ধকার নামতে না নামতেই শহরের অলিগলির ছোটখাটো পানের দোকান গুলিও ‘অফ শপে’ পরিনত হচ্ছে। হাত বাড়ালেই সেখানে পাওয়া যাচ্ছে নামি বেনামি সমস্ত রমকের মদ। ২০ টাকা দিলেই মিলছে গাঁজার পুড়িয়া, কয়েকশো টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ড্রাগস।
রায়গঞ্জ শহরে এই মাদক প্রধানত ঢুকছে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলি থেকে। কিছু অংশ আসছে বিহার সীমান্ত পেরিয়ে। আবার কিছুটা শিলিগুড়ি হয়ে। যদিও ইতিমধ্যে নজরদারি বাড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকালই ইসলামপুরে ৩১ নম্বরপাখিরালয়েরকে তল্লাশি চালিয়ে ৩৫ লক্ষ টাকার গাঁজা উদ্ধার করে ইসলামপুর পুলিশ।

পাখিরালয়ে অবাধে মদ্যপানের বিষয়ে অনাধিকার দীপর্ণ দত্তকে প্রশ্ন করলে তিনি জানান বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তিনি উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন। জেলা পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন “পক্ষীনিবাস চত্তরে বেআইনি কার্যকালাপ রুখতে নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন, সেই নজরদারি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে”।

29