কুলিক রোববার, মে ২৬, ২০১৯ :

প্রতিস্পর্ধী

সোমা সরকার
কম কথা বলা শ্রেয়া সেদিন হঠাৎ করেই মনের ঝাপি খুলে বসলো। স্বভাবে চাপা, মুখচোরা,আনমনা মেয়েটা বলতে লাগলো জানিস রাই সমাজে অন্ধবিশ্বাস একদম শেকড়ে আছে। আমরা যতই নিজেকে মুক্তমনা, শিক্ষিত কুসংস্কার মুক্ত বলিনা কেনো আসলে আমাদের মধ্যে ঐ বিষয়টা জন্ম থেকেই প্রোথিত থাকে। তা সে বাপ মায়ের দৌলতে হোক কিংবা দিদা ঠাকুমার দৌলতে হোক।

বলতে বলতেই হঠাৎ শ্রেয়া ফোনটা বেজে উঠলো। একটা দারুন রিংটোন। দিল মে হো তুম, আখমে তুম পেহলি নজর সে হি ইয়ারা……
কোথায় শুনেছি ঠিক মনে পরছে না। আমি যখন রিংটোন নিয়ে ভাবছি তখনি শ্রেয়া ফোনে কার সাথে ঝগড়া করছে। জোর ঝগড়া….

একটু থামিয়ে বললাম কিরে রাস্তাঘাট মানবি না। থাম। চৌরাস্তার মোড়। ঝগড়া করতে হলে বাড়ি গিয়ে কর। এখন চল একটু কিছু পেটে দেওয়া যাক।

দুজন একটা করে রোল খেয়ে স্টেশনের পথে। পথে যেতে যেতে শ্রেয়া আবার বলতে শুরু করলো তুই রাস্তায় আমাকে ঝগড়া করা থামিয়ে ভালোই করলি রাই….।
রাস্তায় লোক হাসিয়ে কি লাভ……
আর ভালো লাগেনা বুঝলি। মা ফোন করেছিলো। কালকের কথা গুলো আবার বলছে।
শাশুড়ি কথা গুলো আবার রিপিট করছে। চাকরি ছেড়ে দে। আমাদেরও পছন্দ না তুই চাকরি কর। আর সীমা দি ও রিভু তো বলছে তোর হাত খরচের সব টাকাই দেবে। তাহলে খাটার কি আছে?? বিয়ের এতবছর পার হলো বাচ্চা কাচ্চা নেই।তারপর স্বামীর দেওয়া শাখা পলা খুলে ফেলেছিস। সিদূরের বদলে কি সব রং লাগাস। কপালে টিপ নেই।পূজা আর্চা নেই।
বলে বলে আমাদের মুখ ব্যাথা হয়ে গেলোম কথা বলা শ্রেয়া সেদিন হঠাৎ করেই মনের ঝাপি খুলে বসলো। স্বভাবে চাপা, মুখচোরা,আনমনা মেয়েটা বলতে লাগলো জানিস রাই সমাজে অন্ধবিশ্বাস একদম শেকড়ে আছে। আমরা যতই নিজেকে মুক্তমনা, শিক্ষিত কুসংস্কার মুক্ত বলিনা কেনো আসলে আমাদের মধ্যে ঐ বিষয়টা জন্ম থেকেই প্রোথিত থাকে। তা সে বাপ মায়ের দৌলতে হোক কিংবা দিদা ঠাকুমার দৌলতে হোক।

বলতে বলতেই হঠাৎ শ্রেয়া ফোনটা বেজে উঠলো। একটা দারুন রিংটোন। দিল মে হো তুম, আখমে তুম পেহলি নজর সে হি ইয়ারা……
কোথায় শুনেছি ঠিক মনে পরছে না। আমি যখন রিংটোন নিয়ে ভাবছি তখনি শ্রেয়া ফোনে কার সাথে ঝগড়া করছে। জোর ঝগড়া….

একটু থামিয়ে বললাম কিরে রাস্তাঘাট মানবি না। থাম। চৌরাস্তার মোড়। ঝগড়া করতে হলে বাড়ি গিয়ে কর। এখন চল একটু কিছু পেটে দেওয়া যাক।

দুজন একটা করে রোল খেয়ে স্টেশনের পথে। পথে যেতে যেতে শ্রেয়া আবার বলতে শুরু করলো তুই রাস্তায় আমাকে ঝগড়া করা থামিয়ে ভালোই করলি রাই….।
রাস্তায় লোক হাসিয়ে কি লাভ……
আর ভালো লাগেনা বুঝলি। মা ফোন করেছিলো। কালকের কথা গুলো আবার বলছে।
শাশুড়ি কথা গুলো আবার রিপিট করছে। চাকরি ছেড়ে দে। আমাদেরও পছন্দ না তুই চাকরি কর। আর সীমা দি ও রিভু তো বলছে তোর হাত খরচের সব টাকাই দেবে। তাহলে খাটার কি আছে?? বিয়ের এতবছর পার হলো বাচ্চা কাচ্চা নেই।তারপর স্বামীর দেওয়া শাখা পলা খুলে ফেলেছিস। সিদূরের বদলে কি সব রং লাগাস। কপালে টিপ নেই।পূজোআচ্চা নেই।
বলে বলে আমাদের মুখ ব্যাথা হয়ে গেলো
নাকটাও ফুটো করলি না।
ঐভাবেই স্বামীর গায়ে নিশ্বাস ফেলছিস।
সীমা দি তোকে কিছু বলে না বলে তুই কি মনে করিস তোর যা ইচ্ছা তাই করবি।সীমা দি কাল খুব আক্ষেপ করলো। আর বিয়েটাতো নিজের ইচ্ছায় করেছিস। আমরাতো জোর করে তোকে বিয়ে দিইনি।কি যে শুরু করেছিস না…..
তোর জন্য সমাজে মুখ দেখানো দায়।
আর ধর্ম বলে তো কিছু আছে। আমরা তো আর ফিরিঙ্গি নই।
আমাদের কোনো দিন দেখেছিস শাখাপলা ছাড়া। সিদূরের বদলে রং মাখতে?? আর আমরা সিঁদুর দিয়ে বড়ো করে টিপ পরতাম। তাতে স্বামীর আয়ু বাড়ে। এতো বছর হলো বাচ্চা কাচ্চা নেই। একটু পূজাটুজা কর। খালি ডাক্তারে কিছু হয় না। বুঝলি। ঠাকুর দেবতাকেও ডাকতে হয়।
বলতো রাই এই সব কথা সহ্য হয়…? পাল্টে আমি কিছু বললেই তখন যাতা কথা। সহ্য হয়না। ভালো লাগেনা। আমি ওনাদের মতো আদর্শ বৌ সেজে থাকতে পারবো না। আমি খেটে পড়াশোনা করেছি। নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছি। এখন সেই চাকরি ছেড়ে দেবো….???
চাকরিটাকি ওরা দিয়েছে…??

আমার মা, শাশুড়ি কেমন বলতো……
এমনতো নয় যে তারা কিছু জানে না। ওদের মতো রাই তুই তো জানিস, চাকরিটার গুরুত্ব আমার জীবনে কতটা…

স্বামীর চিহ্ন বয়ে বেড়ানোর দায় কি শুধু বৌএর??? চওড়া সিঁদুর, বড়ো টিপ, শাখা পলা এগুলো পরলেই যোগ্য স্ত্রী হওয়া যায়….
না যোগ্য স্ত্রী হওয়ার মাপকাঠি এগুলো… ??
আমি পরিনা, আমি সবার মতো সেজে থাকি না।

আমি স্ত্রীর কোন দায়িত্ব পালন করিনা একবার বলুক তো….
রিভুর কাছে আমি এখন একটা নারী শরীর শুধু।মদ খেয়ে রাত ১২/১ টায় বাড়ি ফিরে প্রথম কথা শুরু হয় একটা গালি দিয়ে।কে বলবে ও অতো শিক্ষিত…
ওদের ধারনা আমার জন্য বাচ্চা হচ্ছে না। কতবার খোটা। কিন্তু একবারের জন্য স্বীকার করে না যে বিয়ের পাঁচ বছরের মধ্যে রিভু নিজের ক্যারিয়ারের দোহাই দিয়ে দুই দুই বার আমাকে অ্যাবোশন করতে বাধ্য করিয়েছে। অনেক কাকুতি মিনতি করেছি। কিন্তু শোনেনি। কাউকে বলতে দেয়নি। বাচ্চা আসলে খরচ বাড়বে। দায়িত্ব। তার জন্য সে নাকি তৈরি নয়। দুই দুই বার অ্যাবশন শরীর খুব খারাপ লাগতো। কিন্তু জানিস, আমার শরীরের প্রতি ভালোবাসা একদিনের জন্য কমেনি রিভুর। ধকল নিতে পারতাম। লাশের মতো পরে থাকতাম। কিন্তু ভালোবাসা কমতো না।৷
পারিনি সহ্য করতে। বাধ্য হয়েছি শাশুড়িকে বলতে সব। অবাক হলাম, যখন শুনলাম উনি অ্যাবর্শন সম্পর্কে জানতেন। শুধু বলেছিলাম ছেলেকে একবারের জন্য না করলেন না…….
উত্তর দেননি।

সাড়ে সাতটা নাগাদ সোনারপুর পৌছালাম বাড়ি পৌছাতে পৌছাতে ৭ঃ২০ বেজে গেল। যাবার সময় শ্রেয়াকে শুধু বললাম এসব বিষয় মাথায় রাখিস না……

ঈশ্বর দু কান দিয়েছে তার ব্যবহার ঠিকঠাক কর আর তুই যেহেতু চাকরি করিস তাই তোকে এসব বিষয় নিয়ে এত মাথা ঘামানোর কিছু নেই ভাল থাক কালকে দেখা হবে।

শ্রেয়া বাড়ি পৌঁছে দেখলো রিভু আজ বাড়িতে। শ্রেয়ার একটু অন্য রকম লাগলো। শ্রেয়াকে ঢুকতে দেখেই রিভু বললো এতো দেরি করে রোজ বাড়ি ফেরো নাকি?

শ্রেয়ার এককথায় জবাব, হুম। কিন্তু তুমি আজ এত তারাতাড়ি চলে এসেছো??
কেনো আসতে পারি না……??
আমার বাড়ি। আমি যখন ইচ্ছা তখন আসতে পারি। আচ্ছা, ওসব বাদ দাও। আমাকে একটু খেতে দাও। আর বাজার থেকে মাংস ও পাবদা মাছ এনেছি। ওগুলোকে গুছিয়ে রাখো। কাল দুপুরে আমার চার পাঁচজন কলিগ খেতে আসবে। তোমাকেই সব করতে হবে বলে রিভু বেডরুমে চলে যায়।

রিভুকে খাবার দিতে গিয়ে শ্রেয়া বললো
কাল যে ছুটি নেবো অফিসে জানাইনি তারপর কাল অডিট। না গেলে সমস্যা হবে। শ্রেয়ার কথা মনে হলো রিভু শুনতেই পেলো না……

শ্রেয়ার গোটা বিষয়টা মোটেও ভালো লাগলো না। রিভু জানে বছর শেষে এখন অডিট হয়। ছুটি পাওয়া যায় না। তারপর না জানিয়ে হঠাৎ করে এই সব আয়োজন এটা রিভু এমনি এমনি করেনি নিশ্চই।

তাই কথা আর না বাড়িয়ে শ্রেয়া কালকের জন্যে কাজ গুছিয়ে রাখতে শুরু করলো। তবে কাজের ফাঁকে অফিসের অয়ন বাবুকে ফোন করে কালকের ছুটির কথা বললো। যদি ছুটিটা পাওয়া যায়। অফিসার অয়ব বাবু এককথায় তাচ্ছিল্যের সুরে শ্রেয়াকে বললেন, এটা কি মামা বাড়ির আবদার…..
তুমি জানো কাল অডিট। তোমার কাছে যাবতীয় কাগজ পত্র আছে। তুমি না আসলে অডিট হবে কি করে?
এটা সরকারি অফিস। ইচ্চে মতোন সব করা যায় না শ্রেয়া। তুমি একটু দেরি করে আসো। কিন্তু ১২ টার মধ্যে আসো। এর থেকে বেশি আমি আর কিছু করতে পারবো না এবার।ফোনটা রেখে একটু মন মরা হয়েই শ্রেয়া রান্না ঘরে গেলো কাজ একটু গুছিয়ে রাখার জন্য।

এদিকে শ্রেয়ার রান্নার আয়োজন দেখে শাশুড়ি তার একমাত্র বৌমাকে বললো তুমি কি অতিথিদের বাসি খাবার খাওয়াবে নাকি?

শ্রেয়া বললো না মা, তবে কিছু রান্না এগিয়ে রাখলে আমার সুবিধা হবে । কাল মাছ, মাংসটা করে নেবো। সাথে পোলাও।

শাশুড়ির স্পষ্ট নির্দেশ ছেলের বন্ধুরা আমাদের বাড়ি প্রথম বার আসবে। তাদের একটি পদও বাশি খাওয়ানো চলবে না।
শ্রেয়া থেমে গেলো। সকলকে রাতের খাবার দিয়ে ঘরে চলেগেলো।

বিছানায় যেতে যেতে রোজ প্রায় ১২ টা বাজে। আজও তার ব্যাতিক্রম হলো না। তবে আজ শ্রেয়ার মনে একটু ভয় আছে। কারন কাল ভোড়ে উঠতে না পারলে খুব সমস্যা হবে। তবে শ্রেয়ার একটা ভরসা সীমা। ওর সহকারী। যে বাড়িতে দৈনন্দিন কাজে ওকে সহযোগিতা করে। সীমা রোজ ৬ টার মধ্যে এসে বাড়ির কলিংবেলটা বাজায়। তাই ঘুম না ভাঙলেও সীমা ঘুম ভাঙিয়ে দেবেই। এই আশাতেই শ্রেয়া শুয়ে পরলো। তাড়াতাড়ি শুলে তাড়াতাড়ি উঠবে। কিন্তু……

শ্রেয়ার সে আশায় বালি….
রিভু ওকে এতো সহজে ঘুমাতে দেবে না যে তা শ্রেয়া ভুলেই গিয়েছিলো। শ্রেয়া তো ভুলেই গিয়েছিলো রিভু কতটা ভালোবাসে ওকে…..
মানে ওর শরীরকে।

তবে রিভু চাহিদা আজ পূরণ হবে না, শ্রেয়ার শরীর ভালো নেই। কিন্তু শ্রেয়া সেকথা বলতেই রিভু বলে বসলো, শোন শ্রেয়া তোদের এই ন্যাকামো ছাড়তো। প্রতি মাসে এই ফালতু অজুহাত ছাড়। আমার কোনো অসুবিধা হয়না।কিন্তু রিভু……..
আমার শরীর…..
এই সময় খুব যন্ত্রণা হয় তলপেটে। পায়ে। কষ্ট হয়। এই তিন চারটা দিন কি আমি একটু ছাড় পেতে পারি না???

ধুর, শরীরের এতো যত্ন নিয়ে করবি কি?? অন্য কেউ আছে নাকি?
নইলে বরের প্রেম পাওয়ার জন্য বৌরা মুখিয়ে থাকে। আর তোর ন্যাকামো। ঐ শোন তোর কিছু থাকলে বল। নইলে চুপচাপ কাছে আয়।

সকালে ঘুম থেকে উঠে শ্রেয়া দেখলো ৭ টা বেজে গেছে। সীমা….?
সীমা কি আজ আসেনি….
ভেবেই শ্রেয়ার হার্টবিট বেড়ে গেলো। ১২ টার মধ্যে পৌছাতে হবে। কিন্তু কি করে???
কিছু করার আগে শ্রেয়া রাইকে ফোন করে বললো আজ আমার যেতে দেরি হবে রাই। তুই চলে যাস। আমি পরে আসবো।

ফোন রেখেই রান্নাঘর। শ্রেয়া আজ অপুর মা রান্না করতে আসতে পারবে না। আর সীমাও ফোন করেছিলো। বললো ওর ছেলের শরীর খারাপ। তাই তোমাকেই সব করতে হবে।

শ্রেয়ার মাথায় এবার জানো আকাশ ভেঙ্গে পরলো। দুজনেরই এক সাথে সমস্যা হলো।
ভাবতে ভাবতে সে কাজে লেগে পরলো।
তবে শারীরিক যন্ত্রণায় শ্রেয়ার হাল বেহাল। তারপর রিভুর ভালোবাসা দান…….

কোনো রকমে সংসারের যাবতীয় কাজ করে, রান্না করে শ্রেয়া স্নান করতে যাবে…
এমন সময় রিভু এসে বললো আমাকে খেতে দাও। আর ওরা ২ টার মধ্যে চলে আসবে। তৈরি থেকো। রিভুকে খেতে দিয়ে শ্রেয়া বললো আমি এখন অফিস যাবো রিভু। আমার ছুটি মঞ্জুর হয়নি। স্যার আমাকে ১২ টার মধ্যে যেতে বলেছে। আমি সব করে রেখেছি। বাকিটা তুমি আর মা সামলে নিও। আমাকে যেতেই হবে। নইলে সমস্যা হবে। আমার চাকরি নিয়ে টানাটানি হবে। plz…..
আজ সামলে নিও।

রিভু এতক্ষণ কথা গুলো শুনলো ঠিকি। তবে কিছু বলার আগেই শ্রেয়ার শাশুড়ি বললো আমি বাপু পারবো না। আমার হাতে পায়ে ব্যথা।
রিভু বললো তুই আজ বাড়ির বাইরে গেলে বুঝতে পারবি। ফল খুব খারাপ হবে…..

আমার কোনো পথ নেই। এবার একটু ডেসপারেটলিই আমাকে যেতেই হবে বলে শ্রেয়া বাথরুমে ঢুকে গেলো।কোনো কিছু পাত্তা না দিয়ে রেডি হয়ে সোনারপুর স্টেশনে রওনা হলো। এরপর ১০ঃ৩০ এর ট্রেন ধরে শিয়ালদহ। তারপর ট্যাক্সি ধরে পৌনে ১২ টায় অফিস।

শ্রেয়াকে দেখে রাই একটু স্বস্তি পেলো। এসছিস শ্রেয়া..
অয়ন স্যার পাঁচ মিনিট আগেই তোর খোঁজ করলো। জানতে চাইলো তুই আসবি তো…?
না আসলে খুব সমস্যা হতোরে শ্রেয়া।

রাই কথা বলেই চলেছে। শ্রেয়া চুপ। খানিক ক্ষন পর শ্রেয়া সব ঘটনা রাইকে বললো। তবে আজ শ্রেয়ার কথা শুধু রাই নয় শ্রেয়ার অজান্তে অয়ন স্যারও শুনে ফেললো। তবে সেটা শ্রেয়া বুঝতেই পারলো না। কারন শ্রেয়া যখন রাই এর সাথে তার সব কথা শেয়ার করছিলো ঠিক সে সময় বছর তিরিশের অয়ন স্যার শ্রেয়ার খোঁজ করতে ওদের ওখানে এসছিলো।

যদিও লুকিয়ে লুকিয়ে কারোর কথা শোনা মোটেও ভদ্রতা নয়। তবু অয়ন নিজেকে আটকাতে পারলো না। তবে শ্রেয়ার কথা শেষ হবার আগেই সেখান থেকে চলে গেলো।

শ্রেয়ার কথায় আজ কিন্তু রাই পরিস্কার বললো, তোর কিসের অভাব? কেনো তুই ঐ জানোয়ারের সাথে আছিস..?
কেনো বেরিয়ে আসছিস না শ্রেয়া? ওরা তোকে পাগল করে ফেলবে।মানসিক ও শারীরিক কষ্ট একসাথে সহ্য করছিস কি করে? তুই কেনো রয়েছিস ঐ সম্পর্কে?

কিছু সময় চুপ থেকে শ্রেয়া বললো, বুঝলি রাই এই কথা গুলো বলা যত সহজ, নিজের জীবনে করা ততটাই কঠিন। আর আমি কোনো এক সময় ভালোবেসে রিভুকে বিয়ে করেছিলাম। মনের একটা কোনে কোথাও একটা অনুভূতি আজও আছে। তাই পারছিনা। পারবো না।

যাই স্যারকে অডিটের প্রয়োজনীয় কাগজ গুলো দিয়ে আসি বলে শ্রেয়া কাগজ পত্র নিয়ে অয়ন স্যারের ঘরে।

অয়ন বাবু বললেন, শ্রেয়া তুমি কি তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবে??
স্যারের মুখে এই কথা শুনে প্রথমে একটু অবাক হলেও শ্রেয়া বললো না স্যার। ১২ টার মধ্যে কাজ হয়েগেছে। এখন অফিসের কাজ। অডিটর এসছেন স্যার….

হুম। চলো। উনি মানিক বাবুর ঘরে বসে কাজ করছেন। তোমার কাগজ গুলো দিয়ে তুমি সেখানে বোসো।
কাজ করতে করতে বিকেল পাঁচটা বেজে গেছে। এখনো কাজ শেষ হয়নি। একটু অস্থিরতা শ্রেয়ার চোখে মুখে। শরীরটাও মনে হচ্ছে না ভালো। অয়ন স্যার বললেন রাই ও শ্রেয়া তোমরা চলে যাও। বাকিটা আমরা করে নেবো৷

কিন্তু স্যার…..
শ্রেয়ার কথা শুরুর আগেই অয়ন বললেন গোটা অফিসে তোমরা দুজন মহিলা। বাড়িও দূরে। বাকিটা হয়ে যাবে। আর আমি তো বলছি।
অফিস থেকে বেড়িয়ে দুজনেই হাঁটছে। তবে দুজনেই আজ চুপ। আজ বিকেলের টিফিনটাও শ্রেয়ার কারনে বাদ গেলো। রাই খালি বললো শ্রেয়া ঠিক আছিস?

শ্রেয়া বললো হুম।

সাতটা নাগাদ স্টেশনে নেমে বাড়ি পৌছাতে ৭টা ১৫.
বাড়ি পৌঁছে শ্রেয়া দেখলো শাশুড়ি আর রিভু ডাইনিং এ বসে। শ্রেয়ার মনটা আজ কঠিন। আজ বিদ্রোহী। কিছু বললেই আর এক মিনিটও নয়। সোজা বাড়ি ছেড়ে রাই এর বাড়ি।তবে গুমট পরিবেশ। কারোর মুখে কোনো কথা নেই। শ্রেয়া সোজা নিজের বেডরুমে। একটু সময় পরেই ডাইনিং হল ফাঁকা। শাশুড়ি নিজের ঘরে। রিভু কোথায় গেলো তা জানে না শ্রেয়া। রাত ১০ টা নাগাদ রিভু ফিরে এসে সবার প্রথম শ্রেয়াকে বললো কিরে নতুন অফিসার নাকি খুব হ্যান্ডসাম….
তা কত দিন ধরে হাবুডুবু খাচ্ছিস?? যাকে না দেখে একদিনও থাকতে পারিস না….
শুনলাম তোদের দুজনকে নাকি আজ তোর হিরো স্যার তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিলো…..
আর বাকিরা রয়েগেলো। তা এতই যখন কাজ তখন তোর ওপর এতো দয়া কি এমনি এমনি….

তা কতদিন ধরে চলছে?? আমি ছুঁতে গেলে তখন হাজারো অজুহাত…

এবার শ্রেয়ার বাঁধ ভাঙলো। রিভু তোমার মতো নোংরা মানুষ আমি দ্বিতীয়টা দেখিনি। নিজের বৌএর সমন্ধে এমন বলতে তোমার বাজলো না। আর কোন দিন তুমি আমাকে ছেড়ে ছো। তোমার মার সামনে তুমি এতো কথা বললে??

আর মা আপনি..
আজকের গোটা বিষয়টা আপনারা দুজন মিলে করেছেন। আপনি ফোন করে সীমাকে আসতে মানা করেছিলেন। আপনিই অপুর মাকেও মানা করেছিলেন। কিন্তু কেনো? কেনো করছেন এমন? আপনারা জানেন আমি চাকরি ছাড়বো না। তারপরও কেনো….

এগুলো না করে ছেলেকে তো বোঝাতে পারেন।
কথাটা শেষ হতে না হতেই রিভু শ্রেয়ার চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে বেডরুমে। খুব ডানা গজিয়েছে তাইনারে শ্রেয়া?? নতুন প্রেমিক তোকে কোথায় কোথায় ছুঁয়েছে?

রিভু ফালতু কথা একদম বলবে না। আসলে তোমাকে বিয়ে করাটাই আমার সবচেয়ে বড়ো ভুল। তোমার অত্যাচার আমার আর সহ্য হয় না। শারীরিক ও মানসিক ভাবে তুমি আমাকে শেষ করে ফেলেছো। আমি আর পারছি না। তারওপর আজ তোমার এই সব নোংরা নোংরা কথা। তুমি আর তোমার মা আমাকে একটা দিনও শান্তিতে থাকতে দাওনি চাকরি পাবার পর থেকে।

রিভু এবার সত্যিই জানোয়ারের মতো আচরন শুরু করলো। শ্রেয়ার কথা শেষ হতে না হতেই ওর চুলের মুঠি ধরে বলতে থাকে,
চাকরির গরম তোর তাই না? সাথে রুপের গরম …..
আজ তোর এই রুপে এমন দাগ লাগাবো তোর হ্যান্ডু স্যারও ফিরে তাকাবে না।

প্রথমের দিকে শ্রেয়া যতই ঘর থেকে বেরিয়ে যাবার চেষ্টা করে ততই রিভুর শক্তির প্রয়োগ বাড়তে থাকে। বাড়তে থাকে মুখের নোংরা ভাষার পরিমান। এক সময় না পেরে শ্রেয়া কষিয়ে মারে এক থাপ্পর রিভুর গালে।

পুরুষত্বে লাগে তার। একটা মেয়ে গায়ে হাত তুলবে…?
মেনে নিতে পুরুষত্বে লাগে রিভুর।
মেয়ে মানুষকে একটাতেই জব্দ করা যায়। আর তাই অমানুষের মতো রিভু সেই রাতে চেয়েছিল শ্রেয়াকে জব্দ করতে। ওর মনকে ওর শরীরকে আরো অনেকটা আঘাত করতে।
কিন্তু শ্রেয়া….
সে তো আজ চরম বিদ্রোহী..
সেও আজ এর শেষ দেখবে।।

তাই সেই রাতে যখন রিভু শ্রেয়ার ওপর ঝাপিয়ে পড়লো শ্রেয়া ভয় পেলো না। বরং রিভুর সেই আচরনে অদ্ভুত ভাবে হাসতে শুরু করলো।

সত্যিই অদ্ভুত হাসি…..
যা আগে কখনো রিভু দেখেনি।

শ্রেয়ার সেই বিদ্রূপ ভরা হাসি দেখে পুরুষত্বে পারদ চড়ানো রিভু হঠাৎ থমকে গেলো….

হাসির কারনে শ্রেয়ার চোখে জল।

তীব্র বিদ্রুপ ভরা সেই হাসি নিয়েই শ্রেয়া বললো,
পরম পূজনীয় পতিদেব শ্রীমান রিভু , তোর জন্য এখন আর করুণা হয় নারে, হয়না দুঃখও।
আর তোর পুরুষত্বের পারদ, তা তো কয়েক মিনিটে নেমে যাবে। সেই আপ-ডাউন করা পারদ নিয়েই নারীকে মাপতে চাসরে ? ? ?

হাসি পায়…..
জানিস, খুব হাসি পায় এরকম মানসিক রুগীদের দেখে..।।

এরপরই একছুটে বেডরুম লাগোয়া বাথরুমে যায় শ্রেয়া। গলার কোথাও যেন বহুদিন ধরে একদলা অভিমান আটকে ছিলো। গলায় আঙুল দিয়ে উগরে দেয় সব অভিমান, ঘৃণা, তিক্ততা…
দরজাটা আবজানোরও প্রয়োজন বোধ করে না সে।

…… ঘরের এক কোণে নিজের ন্যুব্জ পরাজিত পুরুষত্ব নিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে রিভু।

46