ওয়েবডেস্ক, মে ১৩, ২০১৯ : মাঠে একা পেয়ে বধূকে কলাবাগানে টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দেওয়ায় মারধর ও কাস্তে দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বধূর হইচই শুনে তার শাশুড়ি ছুটে এলে তাকেও কাস্তে দিয়ে কোপানো হয় বলে অভিযোগ। এমনকি বধূর পাঁচ বছরের শিশুকন্যাকেও লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয়।

(ছবি প্রতীকি)

রবিবার বিকেলে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের কুশিদা এলাকায় ওই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আহত তিনজনকেই কুশিদা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে প্রাথমিক চিকিত্সার পর অবশ্য ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে ঘটনার জেরে আতঙ্কিত বধূর পরিজনেরা। সোমবার সকালে অভিযোগ পেয়েই পুলিশ এলাকায় হানা দেয়। তবে
হরিশ্চন্দ্রপুরের আইসি সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ওই আইনুল হক প্রতিবেশী বধূকে হামেশাই উত্যক্ত করত। তাকে কুপ্রস্তাব দেওয়া হত বলে অভিযোগ। সময়ে অসময়ে বধূর মোবাইলে মিসড কল দিত। পরিজনদের বিষয়টি জানালে তা নিয়ে এলাকায় হইচইও হয়। ওই ব্যক্তিকে সাবধান করে দেওয়া হয়। রবিবার শাশুড়ি ও মেয়েকে নিয়ে মাঠে ধান কাটতে গিয়েছিলেন বধূ। ফেরার সময় বধূ ধানের বোঝা মাথায় নিয়ে বাড়ির পথ ধরেন। নাতনিকে নিয়ে অনেকটা পিছনে ছিলেন শাশুড়ি। জমির আলপথ দিয়ে ফেরার সময় বধূকে ওই লাগোয়া কলাবাগানে টেনে নিয়ে যাওয়ায় চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। বাধা দেওয়ায় ধ্বস্তাধ্বস্তির সময় বধূর হাতে থাকা কাস্তে কেড়ে নিয়ে তার উপর অভিযুক্ত চড়াও হয়। বধূর চীৎকার শুনে ছুটে নাতনিকে নিয়ে সেখানে পৌঁছান তার শাশুড়ি। তখন কাস্তে দিয়ে তাকেও আঘাত করা হয়। বধূর শিশুকন্যাকেও লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয়। ওই সময় তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীর ছুটে আসছেন দেখে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। বাসিন্দারাই তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বিহার সীমানা ঘেঁষা ওই এলাকা থেকে থানা দূরে হওয়ায় রাতে আর তারা অভিযোগ জানাতে পারেননি বলে পরিজনেরা দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের অনেকেরই অভিযোগ, ওই ব্যক্তি বিবাহিত। কিন্তু তার স্বভাব চরিত্র ভালো নয়। মহিলাদের নানাভাবে উত্যক্ত করাই তার কাজ।
বধূর শাশুড়ি বলেন, প্রতিবেশীরা ছুটে না আসলে ও আমাদের সেখানে মেরেই ফেলত।

16