মার্চ ৩১, ২০১৯,ওয়়েবডেস্ক : আজ রবিবার রায়গঞ্জ ইন্সটিটিউট হলে নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির এক নির্বাচনী সমাবেশে সুস্থ সমাজ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর জোর দিলেন মহম্মদ সেলিম। সমাবেশটির মূল উদ্দেশ্য বা লক্ষ ছিল আসন্ন লোকসভা নির্বাচন।। প্রধান বক্তা হিসেবে আসন গ্রহণ করেছিলেন রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ তথা ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট প্রার্থী মহম্মদ সেলিম।।

কমরেড সেলিম তার বক্তব্যে আলোকপাত করেছেন সমাজ পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মুল কাণ্ডারী শিক্ষকদের ভূমিকা রাজ্য তথা দেশের রাজনীতির আঙিনায়।। কমরেড সেলিমের বক্তৃতায় উঠে এসেছে জ্বলন্ত সমস্যাগুলো। যেমন আজ মানুষের ভোটাধিকার আক্রান্ত, শিল্পের হাহাকার, ভেঙে পরা স্বাস্থব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, টেট কেলেঙ্কারি, মস্তানদের মুক্তাঞ্চল তৈরি করা, বকেয়া পে কমিশন ডিএ, প্রাথমিকে নিয়োগে লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেন।।
সেলিম যুব শিক্ষক সম্প্রদায়ের প্রতি আবেদন জানান এই বিপন্ন, বিপর্যস্ত গনতন্ত্রের ভিত পুনরায় মজবুত করার লক্ষে এগিয়ে আসতে।

নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির উত্তর দিনাজপুর জেলা কমিটির ডাকে রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট প্রার্থী মহঃ সেলিমের সমর্থনে রবিবার রায়গঞ্জের ইন্সটিটিউট হলে একটি নির্বাচনী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
প্রার্থী মহঃ সেলিম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক অপূর্ব পাল, কৃষ্ণেন্দু রায় চৌধুরী, অশোক পাল সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বেলা ২ টা নাগাদ সভা শুরু হয় এবং মূল বক্তা মহঃ সেলিম ৩টে নাগাদ নিজের বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যের প্রথমেই তিনি সমাজে প্রাথমিক শিক্ষকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। নিজের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি তার কৃতজ্ঞতার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি বিশ্বের ইতিহাসে বিভিন্ন শিক্ষক আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের মানুষকে যুদ্ধ প্রেমী বানাবার একটা চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ বিশেষ করে যুবসমাজ যুদ্ধ চায়না। এইমস এর স্বপ্ন দেখিয়ে এই জেলায় তিনিটে নির্বাচন পার করে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে কল্যাণীতে এইমস তৈরি নিয়েও তিনটে নির্বাচন পার করার চেষ্টা চলছে।

“না খাতা না বহি যো দিদি কহেগা ওঁহি সহি” বলে তৃণমূলকেও এক হাত নেন তিনি। ২০১৪ সাল থেকে অন্তত ১০ বার পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তিনি মেডিক্যাল কলেজের বরাদ্দ এনেছেন কিন্তু বাকি ৩৫শতাংশ যা রাজ্য সরকারের দেবার কথা তা না করে জেলা হাসপাতালের অংশ কেই মেডিক্যাল কলেজের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হলো তারপরও আজও শিক্ষক নিয়োগ হলোনা।

ডালখোলা বাইপাস, পাসপোর্ট কেন্দ্র সহ একাধিক উল্লেখযোগ্য কাজের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন “আমাকে মানুষ পঞ্চায়েত মেম্বারের মত মনে করেন এটাই আমার পাওয়া। কারন এই ৫ বছরে আমি এমপি শব্দটার মানে পাল্টে দিয়েছি।”
তাই জনগনের মন বলছে “দিলসে সেলিম, ফিরসে সেলিম, রায়গঞ্জে আবার সেলিম”। এই সভায় বিভিন্ন সার্কেল নেতৃত্ব সহ পাঁচ শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

26