৮/২/২০১৯, গৌতম কুমার দাস: তাইওয়ান সরকারের পর সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাও নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর অন্তর্ধান রহস্য সমাধানে গঠিত কমিশনকে দ্ব্যর্থহীন ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ১৯৪৫ সালের ১৮ ই আগস্ট তাইহুকোতে কোন বিমান দূর্ঘটনা হয়নি। এমনকি নেহেরুজী তার মৃত্যুর কয়েকদিন আগে ১৯৬৪ সালের মে মাসে নিজেই

বলেছিলেন যে, নেতাজীর মৃত্যু সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। যা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে ও তারপর নেতাজী সোভিয়েত ইউনিয়নে ছিলেন এই মর্মে ভিয়েতনাম ও রাশিয়ার মহাফেজ খানা গুলিতে কিছু তথ্য ও রেকর্ড এশিয়াটিক সোসাইটির গবেষকরা পেয়েছেন। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও বই অনুসারে অনুসন্ধান করার সময় কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। যেমন- ১) ১৯৫২ সালে চীনের পিকিং-এ মোঙ্গোলীয় ট্রেড ইউনিয়নের দলের প্রতিনিধিদের মধ্যে নেতাজীর সাদৃশ্য ব্যাক্তিটি কে? কেন সেখানে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সাথে দেখা করতে দেওয়া হয়নি? ২) ১৯৫৯ সালে প্যারিসে আয়োজিত ভিয়েতনাম শান্তি বৈঠকের প্রকাশিত ছবি অনুসারে নেতাজীর মতো ব্যাক্তিটি কে? ৩) ১৯৬৪ সালের ২৭ মে নতুন দিল্লির তিনমূ্র্তী ভবনে জহরলাল নেহরুর শবদেহের পায়ের পাশে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীটি কে ছিলেন? ৪) ৩১শে আগস্ট ১৯৮৯ স্টেটসম্যান পত্রিকার খবর অনুসারে প্যারিসে কম্বোডিয়া স্বাধীনতা সম্মেলনে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর বেশে নেতাজির মতো ব্যাক্তিটি কে? নেতাজীর অন্তর্ধান রহস্য উন্মোচিত করতে হলে জার্মানি, কে.জি.বি.-এর মহাফেজখানা গুলোতে ভালো ভাবে অনুসন্ধান দরকার। তাই দাবী উঠুক আপামর ভারতবাসীর প্রিয় দেশনেতার অন্তর্ধান সংক্রান্ত সমস্ত ফাইল উন্মোচিত হোক। নেতাজীকে নিয়ে রাজনীতি নয়, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি অনুযায়ী আমাদের দেশের সাথে বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নত হয়েছে। কিন্তু, আশ্চর্যের বিষয় ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে যার ভূমিকা অতুলনীয় সেই বীর সুভাষের অন্তর্ধান রহস্য উদঘাটনের জন্য দেশের বর্তমান সরকার কি করেছেন? কেনো বিভিন্ন দেশ থেকে সমস্ত নথিপত্র ও তথ্য আমাদের দেশে আনা হচ্ছে না? ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের হৃৎকম্প করে পৃথিবীর ইতিহাসে ভারতের একটা বিশিষ্ট স্থান তিনি করে দিয়েছিলেন স্বাধীনতার ৭১ বছর পরও সেই নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য উদঘাটন না হওয়ার থেকে বড় লজ্জার কিছু হতে পারে বলে আমি মনে করি না। নেতাজির শেষ পরিণতি কি হয়েছিল? ঐ মহামানবের অন্তর্ধান রহস্য উন্মোচনের অপেক্ষায় দীর্ঘ ৭৩ বছর ধরে আপামর ভারতবাসী।

204