৪/২/২০১৯, ওয়েবডেস্ক :
গত ২৪ ঘন্টায় সিবিআই অফিসারদের কলকাতা পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার এর বাড়িতে অভিযান করতে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মূখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া নিয়ে শুধু রাজ্য রাজনীতি নয় জাতীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া কে সমর্থন করেছেন আবার অনেকে তীব্র নিন্দা করেছেন। এই

পরিস্থিতিতে এবার সারদা চিটফান্ড মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত একদা মূখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক কুনাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় সারদা মামলায় রাজীব কুমারের ভুমিকা নিয়ে তার পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে মুখ খুললেন।
তিনি তাঁর ফেসবুক পস্তে লিখেছেনঃ আমি মনে করি, সারদা তদন্তের নামে প্রহসন চলেছে এবং চলছে। আমি মনে করি, এই তদন্ত রাজনীতির মরশুম-নির্ভর। আমি মনে করি, প্রভাবশালী চিরকাল সুবিধা পায় এবং পাচ্ছে। আমি এটাও মনে করি, সিবিআই এতদিন যা করে নি, এখন ব্যাপারটা ভোটজনিত অতিসক্রিয়তা। আমি বিশ্বাস করি, বড়দের ভাব হলে আমি জানি, সিবিআইয়ের এই সক্রিয়তা বেশিদিন নয়। আমি বিশ্বাস করি, রাজীবকুমার একজন দক্ষ অফিসার, যিনি সবসময় যে কোন সরকারের গুড বুকে থাকতে পারেন। আমি অন্তত যেটুকু জানি, রাজীব কুমার সারদা থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সুবিধাভোগী নন।

আমি যেটুকু জানি, সারদার মূল পর্বে রাজীব জড়িত নন। কিন্তু আমি মনে করি, সারদা তদন্তে রাজীব নিরপেক্ষ ছিলেন না। আমি বিশ্বাস করি, রাজীব নিরপেক্ষ হলে বহু ষড়যন্ত্রী আগে ধরা পড়ত এবং আমার উপর অত্যাচার হত না। আমার ধারণা, সিট তদন্তে রাজীব সামনে থাকায় বহু ষড়যন্ত্রী নিজেদের নিরাপদ মনে করেছেন। আমি মনে করি, রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো প্রমাণ থাকা কঠিন। তবুও, আমি মনে করি, তদন্তের প্রয়োজনে রাজীব সিবিআইয়ের প্রশ্নের মুখোমুখি হতেই পারতেন। আমি মনে করি, তদন্ত এড়ানোর প্রবণতা ঠিক নয়। আমার প্রশ্ন, আমার গ্রেপ্তারের সময় “আইন আইনের পথে চলবে” বলা হলেও এখন রাজনৈতিক প্রতিরোধ কেন? আমার কৌতূহল, তদন্তে দেরি হলেও সেই প্রক্রিয়া হতেই দেওয়া হবে না, এই মানসিকতা সমর্থনযোগ্য কি না।

আমার আক্ষেপ, আমার লড়াই সর্বত্র আমি একা ( এবং আমার ঘনিষ্ঠরা) লড়লেও এখন স্রেফ প্রশ্ন মোকাবিলাতেই সরকারি কাঠামো ব্যবহার হবে কেন? আমার জিজ্ঞাসা, যিনি নির্দোষ, তাঁর তদন্তের সামনে যেতে ভয় কীসের? আমি এও মনে করি, গোটা ঘটনার মূল দায় সিবিআইয়ের। তাঁরা এতকাল সময় নষ্ট করে এখন ভোটের মুখে দৌড়নোর জন্য বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ থাকছে। তারপরেও আমি মনে করি, দেরি হলেও তদন্তে সবার সহযোগিতা করা উচিত।

70