১লা ফেব্রুয়ারী, ২০১৯, গৌতম কুমার দাস :১৯৪১ সালে জানুয়ারিতে নেতাজী গোপনে গৃহ ত্যাগের পর যে সময়ে তিনি ভারত সীমান্ত অতিক্রম করেছেন, তারপরই জানাজানি হয় নেতাজীর আত্মগোপনের সংবাদ। আবার ঠিক একই রকমভাবে বিমান দুর্ঘটনা হয় ১৯৪৫ সালের ১৮ ই আগস্ট কিন্তু নেতাজীর

তথাকথিত মৃত্যু সংবাদ ২৩ আগস্ট পর্যন্ত গোপন রাখার পরেই দোমেই নিউজ এজেন্সি দ্বারা প্রচারিত হয়েছিল। সুতরাং আমরা অনুমান করতেই পারি যে, নেতাজীর সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রবেশের আগে পর্যন্ত ওই সময়ের গোপনীয়তার প্রয়োজন ছিল। নেতাজী জাপান সরকারকে পূর্বেই বলেছিলেন, “যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আমি একাই সোভিয়েত ইউনিয়নের ঢুকবো”। হয়তো সেই সময় তার নিজেকে গোপন রেখে একাই সোভিয়েত ইউনিয়নে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল আর সেই কারণেই তাইহুকু বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজীর মৃত্যু সংবাদ রটানো। ১৯৬২ সালের ১৫ ই এপ্রিল কলকাতার অমৃতবাজার পত্রিকার খবর অনুসারে জাপানের রেঙ্কোজী মন্দিরে রাখা তথাকথিত নেতাজির চিতাভস্ম দু’জন ফোরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে আমেরিকার গোয়েন্দা দপ্তর যে রিপোর্ট পেয়েছিল তাতে বলা হয়েছিল- “এই চিতাভস্ম কোন মানুষের নয়, পশুর”।১৯৯০ সালের পর ভারতীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধি দল নেতাজী অন্তর্ধান রহস্য উদঘাটনের জন্য রাশিয়ায় গিয়েছিলেন এবং তৎকালীন রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পর ১৯৪৬ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত নেতাজী সোভিয়েত রাশিয়াতে ছিলেন। ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ গোয়েন্দা বাহিনী তাদের সরকারের কাছে পেশ করা রিপোর্টে বলে যে, সুভাষ বোস রাশিয়াতে আছেন। একদিকে খন্ডিত ভারতের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ১৯৪৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যাটলিকে এক চিঠিতে লিখলেন, “তোমাদের যুদ্ধ অপরাধী সুভাষচন্দ্র বসুকে স্ট্যালিন সোভিয়েত রাশিয়াতে প্রবেশ করতে এবং থাকতে দিয়েছেন। রাশিয়া ব্রিটেন এর বন্ধু। সুতরাং বৃটেনের উচিত স্ট্যালিনের উপর চাপ সৃষ্টি করা যেন ওই যুদ্ধ অপরাধীকে ব্রিটিশের হাতে তুলে দেয়”। নেহেরুজীর এই চিঠি লেখার উদ্দেশ্য কি ছিল? অপরদিকে মাননীয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর কিছু কাগজপত্র ও লোকজনকে হাজির করে শাহনাওয়াজ কমিটিকে দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছেন তাইহুকু বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়েছে। সুতরাং নেহেরুজীর এই স্ব-বিরোধী উক্তির জন্য আমরা কি ভাবতে পারি?

(এই প্রতিবেদন সংক্রান্ত সমস্ত দায়ভার প্রতিবেদকের)

57