ভারতবর্ষের মুক্তি আন্দোলনের প্রধান নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর ১২৩ তম জন্মবার্ষিকীতে এসে পৌঁছালাম আমরা। ১৮৯৭ সালের ২৩শে জানুয়ারী ওড়িশার কটক শহরে জানকীনাথ বসু ও প্রভাবতী দেবীর কোলে আবির্ভাব হয় এই বীর পুরুষের। এরপর সুভাষ থেকে নেতাজী। স্বাধীনতার ৭১বছর অতিক্রান্ত হয়েছে, ৭৩ বছর হয়েছে আজও আমাদের প্রিয় দেশনেতা ঘরে ফেরে নাই। আমরা জানিনা বা আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি সেই অমর স্বাধীনতা সংগ্রামী আজ কোথায়? এই প্রশ্নের যথার্থ উত্তর মেলেনি বাঙ্গালী তথা ভারতবাসীর কাছে অথচ যার ধ্যান-জ্ঞান এবং জীবনের একমাত্র স্বপ্ন ছিল ভারতবর্ষের স্বাধীনতা। আমাদের প্রশ্ন আছে সেই মৃত্যুঞ্জয়ী বীর সুভাষের কথিত মৃত্যু রহস্যের সত্যতা নিয়ে। ১৯৪৫ সালের ১৬ই আগষ্ট অস্থায়ী আজাদ হিন্দ সরকারের প্রধান নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস সিঙ্গাপুর থেকে ব্যাঙ্ককে পৌঁছান বিকেল সাড়ে তিনটায়। সঙ্গে ছিলেন কর্নেল হবিবুর রহমান, কর্নেল প্রীতম সিং, এস.এ.আয়ার এবং নেতাজীর দোভাষী নেগেশি। ব্যাঙ্ককে আজাদ হিন্দ ফৌজের অফিসারদের সাথে বৈঠক করেন এবং জাপান সরকারকে এক বার্তায় বলেন, ‘আমার ক্যাবিনেটের বিশ্বস্থ্য লোকদের নিয়ে আমি সোভিয়েত ইউনিয়নে যেতে চাই। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আমি একাই সোভিয়েত ইউনিয়নে ঢুকবো’। ১৭ আগষ্ট ব্যাঙ্কক ত্যাগ করে তাদের বিমান সায়গনের মাটিতে নামে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে। সায়গন থেকে বিকেল পাঁচটা পনেরো মিনিটে একটি বোমারু বিমানে কর্নেল হবিবুর রহমানকে সাথে নিয়ে সন্ধ্যায় ফরাসী ইন্দো-চীনের তুরেনে পৌঁছান নেতাজী। জানাযায়, তুরেন থেকে ১৮ আগষ্ট সকালে রওনা দিয়ে তাইহুকোতে দুপুর ২টায় বিমানটি পৌঁছায় এবং দুপুর ২টা ৩০মিনিটে মাঞ্চুরিয়ার উদ্দেশ্যে বিমানটি রওনা হয়। মাটি ছেড়ে ওঠার পরেই বিমানটি দূর্ঘটনায় ধ্বংস হয়ে যায়। ১৯৪৫ সালের ২৩ আগষ্ট দোমেই নিউজ এজেন্সীকে উদ্ধৃত করে টোকিও রেডিও ঘোষণা করে, বিমানটি ধ্বংস হলে নেতাজী গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন তিনি মারা যান ২৮ আগষ্ট মধ্য রাত্রে। জাপানি লে. জেনারেল ঘটনাস্থলেই মারা যান। বোসের সহযোগী কর্নেল হবিবুর রহমান এবং আরো চারজন দূর্ঘটনায় আহত হন। নেতাজী সম্পর্কে বিশ্বের মানুষের কাছে দু’টো মতামত- প্রথমতঃ নেতাজী বিমান দূর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। সুতরাং জাপানের রেঙ্কোজি মন্দিরের চিতাভস্ম নেতাজীর। দ্বিতীয়তঃ নেতাজী জীবিত, বিমান দূর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়নি।

23