Categories
অন্য খবর

মিরাকেল চাইল্ড

১১/১২/১৮,ওয়েবডেস্কঃকথায় বলে,রাখে হরি মারে কে!কথা অবশ্য সব সময় ঠিক হয় না।কিন্তু কখনও কখনও হয় বৈকি।আর যখন হয় তখন অতি বড় যুক্তিবাদীরও যুক্তির ভাড়ার এক্কেবারে ভোঁ ভাঁ হয়ে যায়।কারণ চারপাশে প্রবাহিত জীবনের সর্বত্র অশুভসম্ভব কাব্যের বাড়বাড়ন্ত মানুষকে প্রায় ভুলিয়ে ছাড়ে যে দুনিয়ায় ভাল বলেও কিছু হয়।তাই পৃথিবীর কোন সুদুর প্রান্তে কোন চির অচেনা মানুষের সাথেও কিছু নিখাদ ভাল হলে আমাদের মন ভালো হয়ে যায়।খুশিতে চোখ অশ্রুসজল হয় ভালোর আবেশে।যেমন কালেব ক্রুক নামের এক বছরের এক ছোট্ট শিশুর গল্পে সারা পৃথিবীর মানুষের হচ্ছে।
দিদির বয়েস যখন বছর তিনেক তখন পৃথিবীতে আসে কালেব ক্রুক।কিছু বোধহয় বেশীই তাড়া ছিলো জেদি শিশুটির। তাই নির্ধারিত সময়ের বেশ খানিকটা আগেই পৃথিবীর আলো দেখতে বেরিয়ে আসে মাতৃ গর্ভ থেকে।কিন্তু এসেই বিপদ!এ দেশের আলো হাওয়ার সাথে মানিয়ে নিতে অসুবিধে শুরু হল।চিকিৎসকরা সময় নষ্ট না করে দ্রুত কালেবকে পাঠিয়ে দেন লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে।চিকিৎসকরা দেখেন তার মস্তিষ্ক আসলে পৃথিবীর আলো হাওয়ায় মানিয়ে নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ তৈরি হয়নি তখনও।টানা দশ দশটা দিন লাইফ সাপোর্টে রাখা হল সদ্যজাত কালেবকে।কালেবের বাবা মাকে অবশ্য প্রথমেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিলো চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে যে ফিরবে না কালেব।নবজাত দ্বিতীয় সন্তানের এমন নির্মম পরিনতি মা বাবা মেনে নিতে না পারলেও বুকে পাথর রেখে তৈরী হলেন তারা।কতদিন আর রাখা যাবে লাইফ সাপোর্টে।দাঁতে দাঁত চেপে তারা সেদিন হাসপাতালে পৌঁছলেন শেষবারের মত।চিকিৎসকরা তৈরী।খুলে দেওয়া হবে লাইফ সাপোর্ট।লাইফ সাপোর্ট খোলার পর কয়েক সেকেন্ডই জীবিত থাকবে কালেব।তারপর সব থেমে যাবে।শেষ মুহূর্তটুকু সন্তানকে নিজের বুকে জড়িয়ে রাখতে চান চিকিৎসকদের জানালেন মা। চেপে জড়িয়ে রইলেন তিনি কালেবকে আর চিকিৎসকরা খুলতে লাগলেন লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম।যে কোন মুহূর্তে থেমে যাবে ছোট্ট বুকটার ওঠানামা।কিন্তু তখনই ঘটলো মিরাক্যল।মায়ের বুকের মধ্যে মুখ রেখে দিব্যি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে শুরু করলো কালেব।যেন বললো বলেছিলাম না কিচ্ছু হবেনা আমার!খোলা পড়ে রইলো লাইফ সাপোর্টের যন্ত্রপাতি।বিস্মিত চিকিৎসকরা।এরকম কোন ঘটনাও যে ঘটতে পারে কল্পনাও করতে পারেননি তারা।
অনেকগুলো মাস পরে সুস্থ কালেব এখন নিজের বাড়িতে দিদির কোলে শুয়ে শুয়ে তার প্রথম ক্রিসমাসের সাজসজ্জা দেখে।বাবা মায়ের সাথে হাতি-ঘোড়া-জেব্রা-জিরাফের ছবি দেখে হাসে।আর দিদির গলা শুনেই মজায় হেসে ওঠে খিলখিল করে।ওর বৃদ্ধির হার স্বাভাবিক শিশুর থেকে অনেক কম।এখনও কথা বলতে পারেনা ও।হয়তো কোনদিনই সম্পূর্ণ সুস্থও হয়ে উঠবেনা কালেব।কিন্তু তবুও ও আমাদের সাথে আছে এর থেকে বেশী খুশি আর আমাদের কাছে কিছু নেই।বলছিলেন কালেবের মা। ওকে বুকে চেপে ধরে সেই ভয়ঙ্কর প্রতীক্ষার সময়টা তার কাছে ব্যাখ্যাতীত।ওসব কথা তাই আর ভাবতেই চাননা তিনি।ভাল থাকুক কালেব।হাসি মজায় ভরে উঠুক ওর শত ক্রিসমাস।

79

Leave a Reply