১১/১২/১৮,ওয়েবডেস্কঃছত্তিশগড়ে দু’দফায় ভোট হয়েছিলো। প্রথম দফায় ১৮টি আসনে এবং পরের দফায় বাকি ৭২টি আসনে। কী হতে পারে হিন্দি বলয়ের এই রাজ্যের ভোটে, তা জানতে নয়া দিল্লির ১২ নম্বর তুঘলক রোডে রাহুল গান্ধীর বাড়িতে পান্নালাল পুনিয়াকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন সয়ং রাহুল। পান্নালাল পুনিয়া সর্বভারতীয় কংগ্রেসের তরফ থেকে ছত্তিশগড়ের পর্যবেক্ষক। সর্বভারতীয় কংগ্রেস সভাপতি পুনিয়ার কাছে জানতে চেয়ে ছিলেন, ভোটের ফলাফল কি হবে? কংগ্রেসের এই নেতা রাহুল গান্ধীকে আসন ধরে বিশ্লেষণ করে জানিয়েছিলেন , ৫০-এর বেশি আসন জিতবে কংগ্রেস।

এর পর শুরু হয়এক্সিট পোল। ৭ ডিসেম্বর পাঁচ রাজ্যের ভোট শেষ হওয়ার পরই, সন্ধে থেকে চ্যানেলে চ্যানেলে প্রকাশ হতে শুরু করে বুথ ফেরত সমীক্ষা। ৮ তারিখ সকালে পুনিয়াকে আবার ডেকে পাঠান রাহুল। ছত্তিশগড়ের পর্যবেক্ষককে বলেন, “কোনও চ্যানেল দেখাচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি, কেউ বলছে কংগ্রেস তো কেউ আবার বলছে বিজেপি-র প্রত্যাবর্তন। কী হবে বলুন তো!” উত্তরে পুনিয়া বলেন, “আমি যা বলেছি মিলিয়ে নেবেন রাহুলজি! ৫০-এর বেশি আসন জিতব আমরা। কেউ ঠেকাতে পারবে না!” ১১ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার সকালে ভোট গণনার দু’ঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে গেল, পাই টু পাই হিসেব মিলিয়ে দিলেন পুনিয়া। যেমনটা বলেছিলেন রাহুলকে।

১৫ বছর ধরে বিজেপি ছত্তিশগড়ে তীব্র প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এবং মুখ্যমন্ত্রী রমণ সিং ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগ তুলে বিজেপি-র বিরুদ্ধে প্রচারে নেমেছিল ওখানে কংগ্রেস। এখানে কোনো কংগ্রেস নেতার মুখ রেখে প্রচার হয়নি।এখানে মুখ ছিলেন সনিয়া-পুত্রই। তাই রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতেই, ছত্তিশগড়ের জয়ের জন্য নম্বর উঠবে রাহুলের মার্কশিটেই।

এ বারের ভোটে কংগ্রেস এবং বিজেপি-কে ‘বিষধর সাপ’ বলে কটাক্ষ করে একদা কংগ্রেস নেতা তথা ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অজিত যোগীর সঙ্গে জোট বেঁধেছিলেন বহুজন সমাজবাদী পার্টির নেত্রী মায়াবতী। অনেকে ভেবেছিলেন, হয়তো বহিনজি এবং যোগীর জোটের ভোট কাটাকাটি থেকে এ বারও ফায়দা তুলে নেবেন রমণ সিং। কিন্তু ট্রেন্ড যা, তাতে এটা পরিষ্কার ছত্তিশগড়ে জনতার আশির্বাদ নিয়ে সরকার গড়বে’ হাতই’। যা উনিশের ভোটের আগে মোদী ব্রিগেডের কাছে অশনি সংকেত বলেই মনে করছেন অনেকে।

22