Categories
কুলিক রোববার

অ-বশ

৯/১২/১৮,কুলিক রোববারঃ

অ-বশ

সবুজ সেন

সুরঞ্জন সুরমার ডিব্বাটা হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরে বসে আছে । সুরমাটা একজন পীরসাহেবের দেওয়া । এটা বশীকরণ সুরমা । চোখে চোখ পড়া মাত্রই এই সুরমা তার কাজ শুরু করে দেয় ।
যাকে বশ করার জন্য সুরঞ্জন সুরমাটা নিয়ে এসেছে সে এখনো এ ঘরে এসে পৌঁছয়নি । সে স্নানে গেছে । তার নাম জন্নত । সে একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম বাড়ির মেয়ে , সেই সাথে কেমেস্ট্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী । তাকে নিজের মনে কথা বলার মত লৌকিক সাহস সুরঞ্জনের নেই , তাই এই রকম অলৌকিক সাহায্য নিতে হয়েছে ।
পীরসাহেব কে সে বলেছে , মেয়েটা হিন্দু ।
পীরসাহেব সুরমাটা চোখে লাগিয়ে সুরঞ্জনকে একটা দোয়া পড়তে বলেছেন । কিন্তু সেই আরবী দোয়া সুরঞ্জনের পক্ষে উচ্চারন করা কঠিন , তাই পীরসাহেব বলেছেন , তিনবার ‘ আল্লা-হু-আকবর ’ বললেও চলবে ।
জন্নত ঘরে ঢুকল । স্নান করে আসার পর সব মেয়েদেরই কেমন অন্যরকম দেখায় , জন্নতকেও দেখাচ্ছে ।
সুরঞ্জন আড়চোখে জন্নতকেই দেখে যাচ্ছে । অবশ্য ইতিমধ্যে সে পীরসাহেবের সেই সুরমাটা তার চোখে লাগিয়ে নিয়েছে ।
চুল আঁচড়ে টেবিলে নোটখাতা রেখে জন্নত বলল , “ আপনাকে একটা কথা বলব । কাউকে বলবেন না তো ?”
সুরঞ্জন মুখ তুলে চাইতে পারল না । সুরমা পরার জন্যই হয়ত চোখ জ্বলছে । তীব্র ঝাঁঝে জলে ভরে যাচ্ছে চোখ । সেই জল সামলানো যাচ্ছে না।
“ আপনি শুনছেন কি আমার কথা…” জন্নত বলল।
সুরঞ্জন হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়তেই ‘টুপ ’করে একফোঁটা জল সামনের রসায়ন বইটাতে পড়ল।

জন্নত অবাক হয়ে দেখল সুরঞ্জন স্যার কাঁদছেন। তার কান্নার কারন জন্নত জানে না , কিন্তু স্যারকে দেখতে কি অপূর্বই না লাগছে । কোন মানুষের কান্না যে এত সুন্দর হতে পারে জন্নতের তা জানা ছিল না । মনে হচ্ছে জন্মজন্ম পার করে দেওয়া যায় এমন কান্নাদৃশ্য দেখতে দেখতে ।
জন্নত যেটা বলবে ভেবেছিল সেটা তার আর বলতে ইচ্ছে করল না । আসলে এমন একটা অযাচিত স্বর্গীয় মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে তার এটা বলতে ভারি লজ্জা লাগল যে , “ জানেন স্যার , কালরাতে আপনাকে না আমি স্বপ্নে দেখেছি ।”
এমন মামুলি কথা জানানোর সময় এটা নয় ।

82

Leave a Reply