Categories
অন্য খবর

ভাষা বিভ্রাটের জের, গারদে রাত কাটলো ব্যবসায়ীর !

৫/১২/১৮,ওয়েবডেস্কঃভাষা বিভ্রাটের জেরে এবার গারদের পেছনে রাত্রিবাস করতে হলো এক সাধারণ ব্যবসায়ীকে। এর আগেও নিরপরাধের শাস্তি পাওয়ার নজির অনেকই দেখা গেছে। কিন্তু শুধুমাত্র ইংরেজি শব্দের মানে না বোঝার কারণে জেল খাটতে হয়েছে এমন উদাহরণ সম্ভবত ভূভারতে আর নেই।

ঘটনাটি বিহারের।সেখানে ইংরেজিতে লেখা আদালতের নির্দেশের ব্যাখ্যা ভুল বুঝে ব্যবসায়ীকে হাজতে পুরে দিল পুলিশ।
বিচারকের নির্দেশ ছিল, সম্পত্তির হিসাব করার। কিন্তু বিহার পুলিশের ইংরেজির জ্ঞানের এমন বহর যে এক রাত হাজত খেটে তার মাশুল দিলেন এক মিষ্টি ব্যবসায়ী। অবশেষে ভুল ভাঙল পরের দিন আদালতে পেশ করার পর।

গত ২৫ নভেম্বরের এই ঘটনা বিহারের জেহানাবাদের। আর ইংরেজির ভুলের শিকার সেখানকার মিষ্টি ব্যবসায়ী নীরজ কুমার। বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় তাঁর স্ত্রী রেণু দেবীকে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে দেওয়ার কথা ছিলো তাঁর। সম্প্রতি সেই টাকা অনিয়মিত হয়ে পড়ে।ফলে তাঁর স্ত্রী ফের আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত নির্দেশ দেয়, নীরজের অস্থাবর সম্পত্তি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দিতে হবে পুলিশকে।বিচারকের নির্দেশের কপিতে ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘ডিসট্রেস ওয়ারেন্ট’, অর্থাৎ সম্পত্তির হিসাব করার নির্দেশ। কিন্তু ‘ওয়ারেন্ট’ শব্দটি থাকাতেই জেহানাবাদের পুলিশ মনে করে সেটি ‘অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট’ অর্থাৎ ‘গ্রেফতারি পরোয়ানা’। স্বাভাবিক ভাবেই নীরজ কুমারকে ধরে এনে হাজতে পুরে দেয় পুলিশ। পরের দিন আদালতে পেশ করা হয়। সেখানে পেশ করা হয় ওই ‘ডিসট্রেস ওয়ারেন্ট’। তখনই স্বয়ং বিচারকই পুলিশের এই ইংরেজির ভুল ভাঙিয়ে দেন।

এবিষয়ে পাটনা হাইকোর্টের এক আইনজীবী বিনয় কুমার পাণ্ডে বলেন, সাধারণত এই ধরনের নির্দেশ সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠানোর কথা। কিন্তু এক্ষেত্রে সম্ভবত পুলিশ সুপারকে পাঠানো হয়েছিল। সেই কারণেও এই ভুল হয়ে থাকতে পারে। এখন ভুক্তভোগী নীরজ কুমার কি করেন সেই নিয়েই সরগরম বিহারের আদালত থেকে আরক্ষা মহল।

জেহানাবাদের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) পঙ্কজ কুমার যদিও ‘ভুল’ স্বীকার করে নিয়েছেন ইতিমধ্যেই।
আর ব্যবসায়ী নীরজ কুমার জানিয়েছেন, ২০১২ সালে বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী রেণু দেবীর সঙ্গে অশান্তি চলছিল তাঁর। ২০১৪ সালে তাঁর স্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে পণের মামলা করেন। তার জেরে তিনিও বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেন। সেই মামলাতেই আদালত তাঁকে প্রতি মাসে স্ত্রীর খোরপোষ হিসাবে ২৫০০ টাকা দিতে বলে। সেই টাকা দেওয়া নিয়ে মামলাতেই যাবতীয় যা ভোগান্তি।

সব মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে প্রবল অস্বস্তিতে বিহার পুলিশ।

166

Leave a Reply