Categories
রাজনীতি

বুলন্দশহরে পুলিশ খুনে ধৃত বজরং দলের কর্মী, এফআইআর-এ বিজেপি-র যুব নেতার নামও

৪/১২/১৮,ওয়েবডেস্কঃসোমবার বুলন্দশহরে গোরক্ষকদের অবরোধ তুলতে গিয়েছিলেন পুলিশ অফিসার সুবোধ কুমার সিং।কিন্তু সেখান থেকেই পুলিশের গাড়ির ভিতর থেকে ইনস্পেক্টর সুবোধ কুমার সিং-এর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। বাঁদিকের ভ্রুর নীচে গুলির ক্ষত। গাড়ির দরজা খোলা। উইন্ড স্ক্রিনের কাচ ভাঙা। একদল লোক চিৎকার করছে, গোলি মারো!

গোরক্ষকদের অবরোধ তুলতে গিয়েই তিনি খুন হন। অবরোধে গ্রামবাসীদের সঙ্গে ছিল বজরং দলের কর্মীরা। তাদেরই একজন পুলিশ খুনের মামলায় প্রধান অভিযুক্ত। নাম যোগেশ রাজ। খুনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সে ধরা পড়েছে। গ্রেফতার হয়েছে আরও তিন জন। পুলিশ এফআইআরে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করেছে। তাদের মধ্যে আছে শিখর আগরওয়াল। সে সাইনায় বিজেপির যুব সংগঠনে যুক্ত। উপেন্দ্র রাঘব নামে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এক কর্মীর নামও আছে। এছাড়া ৬০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির নাম এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার সকালে বুলন্দশহরের কাছে একটি গ্রামের মানুষ দেখেন, কাছেই ২৫টি গরুর দেহ পড়ে আছে। গোহত্যার বিরুদ্ধে গ্রামের মানুষ ক্ষেপে ওঠেন। শুরু হয় বিক্ষোভ। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে যোগ দেয় বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের লোকজন। পুলিশ পথ অবরোধ তুলতে গেলে জনতা তাদের তাড়া করে। তখনই ইনসপেক্টর মাথায় পাথর লেগে আহত হন। তাঁর গাড়ির চালক এসইউভি-তে তাঁকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু গাড়ির পিছনে তাড়া করে জনতা। গাড়িটি নিয়ে চালক মাঠের ওপর দিয়ে পালাতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বেশিদূর যেতে পারেননি। পরে তিনি বলেছেন, আমি নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্য গাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিলাম। জনতা কীভাবে গাড়ির কাছে এসে পৌঁছল দেখিনি।

ইনসপেক্টর নিহত হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই স্থানীয় এক ব্যক্তি নিহত হন। তাঁকে কে খুন করল জানা যায়নি। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পুরো ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট চেয়েছেন দু’দিনের মধ্যে। ইনসপেক্টর খুনের ঘটনায় তৈরি হয়েছে সিট।সরকারের তরফ থেকে নিহত পুলিশকর্মীর স্ত্রীকে ৪০ লক্ষ টাকা, তাঁর বাবা-মাকে দেবো ১০ লক্ষ টাকা। পরিবারের একজন সরকারি চাকরি দেওয়া হবে বলে ঘোষনা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভি বলেছেন, বুলন্দশহরে ঘটনা তা মানবতার লজ্জ্য। আমি রাজ্যের মানুষের উদ্দেশে আবেদন জানাচ্ছি, যারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য গন্ডগোল পাকাচ্ছে, তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকুন।

সিপিএম থেকে টুইট করে বলা হয়েছে, মারমুখী জনতা বিজেপি এবং আরএসএসের নির্দেশে পুলিশকে খুন করছে। উত্তরপ্রদেশে তো বটেই, সারা দেশেই আইন-কানুন বলে কিছু নেই। যোগী এবং মোদী ভোটে ফয়দা তোলার উদ্দেশ্যে মুসলিম, দলিতদের খুন করেছে, এখন পুলিশকর্মীদেরও খুন করছে।

82

Leave a Reply