Categories
কুলিক রোববার

স্ট্রাইক

২/১২/১৮,কুলিক রোববারঃ

স্ট্রাইক

উপল মুখোপাধ্যায়

সন্দীপ অফিসে স্লোগান দিয়েছিল। তখন সেখানে নিষেধাজ্ঞা চলছিল। কিসের নিষেধাজ্ঞা সেটা পরিস্কার নয়। তবে স্লোগান দেওয়া যে মহা অপরাধ তা প্রমাণ হয়ে গেল। একবার অপরাধ প্রমাণ হতে তাকে বদলি করে দেওয়া হল। লোকজন বলাবলি করতে লাগল বদলি করে দিলে কী কী হয়। একজন বলল, ” বদলি করে দিলে সুবিধে হয়। ” আর একজন বলল, ” মোটেই না। ”
– কেন?
– বদলি মানে শাস্তি।
– কেন শাস্তি হবে কেন?
– বারে! প্রমাণ হয়ে গেল না! অপরাধ।
– কোনটা ?
– স্লোগান দেওয়া। চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে ওঠা। আস্তে আস্তেও তো বলা যেত।
– তা বটে।
এইভাবে লোকজন বুঝে গেল সন্দীপ অপরাধ করেছে। আর কোনো ঝামেলা রইল না। স্লোগান বন্ধ হয়ে গেল।
অসীম অফিসে পোস্টার মেরেছিল। তখন সেখানে নিষেধাজ্ঞা চলছিল। কিসের নিষেধাজ্ঞা সেটা পরিষ্কার নয়। তবে পোস্টার মারা যে মহা অপরাধ তা প্রমান হয়ে গেল। তাকেও বদলি করা হলো। লোকজন পোস্টার মারা নিয়ে বলাবলি করছিল।
– কেন যে পোস্টার মারে !
– পোস্টার মারা খারাপ কী ?
– পোস্টার মারলে দেয়াল নোংরা হয়।
– কিন্তু …..
– কোনও কিন্তু নেই। দাবী তো অন্য ভাবেও জানানো যায় ! চারদিক নোংরা করতে হবে !
– তা ঠিক।
– তবে। কত সুন্দর ভাবে দাবী জানানো যায়। ছবির মতো করে। টিভির মতো করে। কম্পিউটার স্ক্রিনের ভেতরেও লেখা যায়। কাগজেই কি লিখতে হবে ?
– তা ঠিক।
– ঠিক নয় – একদম সঠিক ! আর কাগজে লিখলে ছাপার অক্ষরে লিখুক।
এই সময় সন্ধ্যা মুখার্জীর গান বেজে উঠল , ” উজ্জ্বল এক ঝাঁক পায়রা। …”
তারপর আরতি মুখার্জীর গান বেজে উঠল ” তখন তোমার একুশ বছর বোধহয়। ….”
তারপর মান্না দের গান বেজে উঠল। তারপর হেমন্তর গান বেজে উঠল। তারপর দেবব্রতর গান বেজে উঠলো। তারপর ভীষ্মদেবের গান বেজে উঠলো। তারপর বড়ে গুলামের গান বেজে উঠল। তারপর অজয় চক্রবর্তীর গান বেজে উঠল। ………… এই গান শুনতে শুনতে তাদের অন্য কিছু শোনার ক্ষমতা চলে গেল। আর পোস্টার পড়েনা শুধু কম্পিউটারে নানান ছবি খেলা করে সেই দেখতে দেখতে তাদের দেখার ইচ্ছেও চলে গেল।
################################################
তাই স্ট্রাইক ডাকলেও সব লোক অফিসে আসে কারণ কারো শোনার ক্ষমতা নেই আর দেখার চোখ তো কবেই চলে গেছে। সন্দীপ আর অসীমকে তো কবেই বদলি করে দেওয়া হয়েছে।

81

Leave a Reply