Categories
রাজনীতি রাজ্য

আবার শিরোনামে সিঙ্গুর, বামেদের ডাকে রাস্তায় নামছেন সিঙ্গুরের কৃষকরা

২৮/১১/১৮,ওয়েবডেস্কঃ২০১১ সালের আগে পর্যন্ত রাজ্যের গঙ্গাধারের সবুজঘেরা শান্ত গ্রামগুলির মতোই একটি সাধারণ গ্রাম ছিল হুগলী জেলার সিঙ্গুর।সবুজ ফসলের স্বাধীন মালিকরা সারাদিন মাঠে নিজের জমিতে ঘাম ঝড়িয়ে ফলাতেন সোনার ফসল।সারা বছর পালা পার্বণ বার ব্রতের বাংলার সাথে এ গ্রামটির আর কোন তফাৎ ছিলো না।কিন্তু ছবিটা দ্রুত পাল্টাতে থাকলো। শান্তি শব্দটা নিমেষে উধাও হয়ে গেল সিঙ্গুরের আকাশ বাতাস মাটি জল থেকে।
দেশের বিখ্যাত ব্যবসায়ি টাটারা বিশ্বের বাজারে প্রথমবার আনতে চলেছিলো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এক নতুন গাড়ি ‘ন্যানো’।দাম মাত্র একলাখ।সারা দুনিয়ায় সাড়া পড়ে গেলো।এতকম দামে এর আগে কেউ কোনদিন কোন গাড়ি রাস্তায় নামাতে পারেনি।টাটারা তাদের স্বপ্নের প্রজেক্টের কারখানা স্থাপনের জন্য সারা দেশ জুড়ে খোঁজ চালাতে লাগলেন।হিমাচল প্রদেশ,মহারাষ্ট্রের মত রাজ্য গুলো টাটাদের পছন্দমত জমিসহ অন্যান্য নানা সুবিধা সহ আমন্ত্রন জানাতে লাগলো।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার এ সুযোগ হাত ছাড়া হতে দিতে চাইলো না।রাজ্যে বড় শিল্পের আবশ্যিকতা সম্যক বুঝতে পারছিলেন বুদ্ধদেব।রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুবতীদের সমস্যা দূর হবে অনেকখানি।তাদেরই মুখ চেয়ে যোগাযোগ শুরু হল টাটাদের সাথে।শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেন টাটা প্রতিনিধিদের সাথে বারংবার কথা বলে তাদের রাজ্যে নিয়ে এলেন।পরিবহন সুবিধার কথা মাথায় রেখে তারা রাস্তার পাশে বড় একটি জায়গা খুঁজছিলেন । দূর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ধারে থাকায় তাদের পছন্দ হল সিঙ্গুরের জমি। জমি মাপা হলো।কিছু মানুষ সাত পুরুষের চাষের জমি ছাড়তে চাননি ঠিকই কিন্তু ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভেবে বেশিরভাগ মানুষ রাজি হলেন জমি দিতে।প্রতিশ্রতি মত টাটার কারখানায় কাজের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হল এলাকার ছেলেদের।এসবের মাঝেই সিঙ্গুর দেখলো এক অন্য সিঙ্গুরকে।
বাংলার আজকের ধর্মঘট বিরোধী, শিল্প দরদী মুখ্যমন্ত্রী তখন বিরোধী দলনেত্রী।তিনি আন্দোলন শুরু করলেন।প্রায় মাসখানেক অবরুদ্ধ করে রাখলেন দূর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে।উত্তাল হল রাজ্য রাজনীতি।প্রমান করলেন তিনিই আসল কৃষক দরদী।সিঙ্গুরের উর্বর জমি তিনি কিছুতেই টাটাদের হাতে তুলে দিতে দিলেন না।তার এই আন্দোলনের সমর্থনে এগিয়ে এলেন রাজ্যের তাবড় বুদ্ধিজীবি।এলেন মেধা পাটেকর।বিরাট আন্দোলন হলো সিঙ্গুরের মাটিতে।সারা রাজ্যে সুনামির মতো ছড়িয়ে পড়লো সেই আন্দোলন।টাটারা বাধ্য হলেন কারখানা গুজরাতে নিয়ে যেতে।সফল হল আন্দোলন।একদিকে সেই আন্দোলনের ঢেউয়ে তাসের ঘরের মতো ভেসে গেলো চৌত্রিশ বছরের বাম সরকার।অপর দিকে সেই ঢেউতে ভেসেই রাজ্যে ক্ষমতায় এলেন জননেত্রী মমতা।
তারপর এই গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে কোটি কোটি কিউসেক জল।কেটে গেছে সাত সাত টা বছর।ক্ষমতায় এসে প্রতিশ্রুতি মতো কৃষকদের ফিরিয়ে দিয়েছেন অধিগৃহিত জমি।অনিচ্ছুক কৃষকদের দুটাকা কেজি চাল দেওয়ার কথা ঘোষনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।নিজে হাতে জমিতে শষ্য বীজ ছড়িয়েছেন।সিঙ্গুরের বাড়িতে বাড়িতে নাকি মাংস রান্না হয়েছে সেদিন।তবে কেন?প্রশ্ন জাগছে এখানেই।কেন সিঙ্গুরের কৃষকরা কেন এখন অন্য কথা বলছেন।কেন তারা চাল না পাওয়ার অভিযোগ করছেন।কারন তারা শান্তিতে নেই।এখন তারা ক্ষোভে ফুটছেন বর্তমান শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে।সিঙ্গুরের মানুষ এমনটাই বলছেন বলে দাবী করছেন বামপন্থীরা।সারা দেশ জুড়ে বারংবার হওয়া কৃষক আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাই সিঙ্গরের কৃষকদের স্বার্থে আট দফা দাবি নিয়ে এই লং মার্চ।

ইতিমধ্যেই এই কৃষক আন্দোলনকে ঘিরে কৃষক সভা,অন্যান্য গণ সংগঠন এবং সিপিআই(এম)-এর পক্ষ থেকে জোড়দার প্রচার চালানো হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া সহ সর্বত্র।আয়োজকদের দাবী সত্যি হলে দীর্ঘদিন পর কৃষকদের পায়ে কল্লোলিত হতে চলেছে কলকাতার রাজপথ।

76

Leave a Reply