Categories
দেশ

সিবিআই মামলার নথি ফাঁস,ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি

২০/১১/১৮,ওয়েবডেস্কঃ সরষের মধ্যেকার ভূতেরা এখন প্রাচীন।আধুনিক ভূতেরা সব সরষের ব্যবসাই খুলে বসেছে। দুই সিবিআই কর্তা আলোক বর্মা এবং রাকেশ আস্থানার ঘুষ নেওয়া সংক্রান্ত মামলায় দেশের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ যে কারনে এই দুই গোয়েন্দা অফিসারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন তা জানার পর একথা বলাই যায়।
সিবিআই কর্তা অলোক বর্মা এবং রাকেশ আস্থানা পরস্পরের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করে শীর্ষ আদালতে যান।ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার মধ্য রাতে সিবিআই চিফের পদ থেকে আলোক বর্মাকে ছুটিতে পাঠিয়েছে।ছুটিতে পাঠানো হয় অলোক বর্মার পরে যার সিবিআই অধিকর্তা পদে বসার কথা ছিল সেই রাকেশ আস্থানাকেও। এই অভূতপূর্ব ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায় দেশের সব মহলে।এই অপসারণ নিয়েই একে অপরের বিরূদ্ধে উৎকোচ গ্রহনের অভিযোগ এনে এবং অপসারণকে চ্যালেঞ্জ করে সর্বোচ্চ আদালতে যান দুই কর্তা। অপসারনের সাথে সাথে তাদের ওপর তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয় সেন্ট্রাল ভিজিলেন্স কমিশনকে।পরে সুপ্রীম কোর্টে মামলা হলে প্রধান বিচারপতি একজন বিচারপতিকে কমিশনের কাজের নজরদারিতে বসায়।বিচারপতির নজরদারিতে হওয়া তদন্তে বর্মা বা আস্থানা কেউই ক্লিনচিট পাননি বলে সব মহলে জানাজানি হয়ে যায়।এরপর মনিশ কুমার সিনহা নামে এক অফিসার অভিযোগ করেন যে তাকে অন্যায় ভাবে নাগপুরে স্থানান্তরীত করা হয়েছে।রাকেশ আস্থানাকে কাজে সুবিধে করে দেওয়ার জন্যই গত মাসে তাকে এবং আরও বারোজন গোয়েন্দা কর্তাকে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি আগেই আদালতে গেছিলেন। রাকেশ আস্থানা,নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং এক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর সিবিআই এর নজরে থাকা এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত না করার জন্য বিরাট অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন মনিশ কুমার সিনহা।অজিত দোভাল আস্থানার বিরুদ্ধে হওয়া তদন্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ঘটনা হল সবার সমস্ত অভিযোগর মামলা চলছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে।এ বিষয়গুলি দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে শুনানির সময় যাবতীয় অভিযোগ এবং সিভিসির তদন্তের ফলাফল মুখবন্ধ খামে সুপ্রীম কোর্টে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।কিন্তু দেখা যায় কোর্টৈ জমা হওয়া যাবতীয় অভিযোগ এবং সিভিসির তদন্ত ফল সবই বাইরে প্রকাশ হয়ে যায়। এই কারনে সোমবারের শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ক্রুদ্ধ হয়ে দুই সিবিআই অফিসার অলোক বর্মা এবং রাকেশ আস্থানার উদ্দেশ্যে বলেন,”আপনাদের মামলার বিচার করাই উচিত নয়”।
খোদ গোয়েন্দা বিভাগের কথাই যদি কোর্টৈর নিষেধ সত্বেও এভাবে বাইরে আসে তাহলে দেশের সাধারন মানুষের নিরাপত্তার কি অবস্থা হয় সেটাই এখন দেখার।

122

Leave a Reply