১৯/১১/১৮,ওয়েবডেস্ক,একটি প্রতিবেদনঃ

না চমকে উঠবেন না। এটাই সত্যি। আমাদের দেশের ৮২% পুরুষ ও ৯২% মহিলা মাসে দশ হাজার টাকারও কম আয় করেন। সম্প্রতি আজিম প্রেমজি ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সাসটেইনেবল এমপ্লয়মেন্ট তাদের প্রকাশিত এক রিপোর্টে এমনই আশঙ্কাজনক কিছু তথ্য তুলে ধরেছে। যেখানে সপ্তম পে কমিশন তাদের সুপারিশে কমপক্ষে১৮০০০ টাকা সুপারিশ করেছে, সেখানে এই রিপোর্ট নগ্ন সত্যটা সামনে এনেছে যে এদেশে কর্মচারীদের বিভিন্ন সংস্থাগুলি কিভাবে প্রতারিত করছে। বিভিন্ন সংস্থাগুলি ভারতে বেকারত্বের সমস্যার সুযোগ নিয়ে কর্মচারীদের কম বেতনে কাজ করতে বাধ্য করছে। সাম্প্রতিক, ” দ্য স্টেট অফ ওয়ার্কিং ইন্ডিয়া ২০১৮” রিপোর্টে দেখা গেছে গত ২০ বছরে বেকারত্বের সমস্যা এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ মাত্রা পেয়েছে। যদিও পরিসংখ্যান বলছে ২০০০ সালের পর থেকে ভারতের জিডিপি অনেকটাই বেড়েছে (৭%) কিন্তু বেকার সমস্যা কিন্তু পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।১৯৭০ – ১৯৮০তে যখন জিডিপি ৩%-৪% এর মধ্যে সীমিত ছিল তখন এমপ্লয়মেন্ট গ্রোথ রেট ২% বা তার বেশি ছিল কিন্তু বর্তমানে আর্থিক বৃদ্ধি ৭% এর আশেপাশে থাকলেও এমপ্লয়মেন্ট গ্রোথ রেট ১% এর নিচে চলে গেছে।
একটা সময় মনে করা হতো ভারতে আন এমপ্লয়মেন্ট মূল সমস্যা নয়, মূল সমস্যা আন্ডার এমপ্লয়মেন্ট ও লো ওয়েজেস। অর্থাৎ বেকার যুবকেরা তাদের দক্ষতা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছে না, দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও কম পারিশ্রমিকে কাজ করতে বাধ্য হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে যে দক্ষতার তুলনায় কম বেতনে কাজ শুধু নয় ভারতবর্ষে এখন সরাসরি বেকার ৫% প্রাপ্ত বয়স্ক। যাদের হাতে কোনো কাজই নেই। আরো যেটা ভয়ের বিষয় সেটা হলো উচ্চ শিক্ষিতদের ১৬% এখন সম্পূর্ণ বেকার। ফলে প্রাইভেট কোম্পানি গুলি এই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে দক্ষতার তুলনায় অনেক কম বেতনে শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের কাজ করতে বাধ্য করছে। আর এখন তো এ রাজ্যসহ বিভিন্ন রাজ্য সরকার গুলি স্থায়ী কর্মী নিয়োগ ব্যাপক ভাবে কমিয়ে দিয়ে সেখানে অনেক কম বেতনে আংশিক সময়ের কর্মী নিয়োগ করে চলেছে। সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে সমকাজে সমবেতনের কথা বললেও বাস্তবে তার প্রয়োগ করাতে সক্ষম হয় নি। আর এ রাজ্যে তো স্থায়ী কর্মচারীরাও তাদের নায্য বেতনের চেয়ে অনেকটা কম বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।
এখান থেকে একটা বিষয় তো পরিষ্কার বোঝা যায় উদার অর্থনীতি ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে আর্থিক বৃদ্ধির কথা প্রচার যতই করুক না কেন তাতে দেশের আম আদমীর যে তাতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়েছে তা বোঝার জন্য অর্থনীতিবিদ হওয়ার প্রয়োজন পরে না। আজিম প্রেমজি ইউনিভার্সিটির এই, “স্টেট অফ দি ওয়ার্কিং ইন্ডিয়া ২০১৮” – রিপোর্ট যদি সত্যি হয় তবে বরং এটা পরিষ্কার হয় যে উদার অর্থনীতির ধ্বজাধারী কিছু অর্থনীতিবিদ আসলে কর্পোরেটদের দালালি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে চলেছে। তাই গত কয়েক বছরে দেশের ৯০% র বেশি সম্পদ ১% মানুষের ঘরে। পৃথিবীর বিত্তশালীদের তালিকায় ভারতীয় কর্পোরেটদের নাম বেশি করে অন্তর্ভুক্ত হলেও আম আদমী যে ক্রমশই কোনঠাসা হচ্ছে। ফলে তার প্রতিফলন কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে দেশজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভে।
তথ্য সূত্র : টাইমস অফ ইন্ডিয়া, আজিম প্রেমজি ইউনিভার্সিটি ওয়েব পোর্টাল।

203