১৯/১১/১৮,ওয়েবডেস্কঃ কেন্দ্রের সঙ্গে তীব্র মতপার্থক্য নিয়েই দিল্লীতে দেশের সর্বোচ্চ ব্যাঙ্কের বোর্ড মিটিং শুরু হচ্ছে আজ। মিটিং এ নিয়মানুযায়ী উপস্থিত থাকবেন সরকার পক্ষের প্রতিনিধিরাও এবং তারা সরকারের তরফে প্রস্তাবও পেশ করবেন বলেই জানা যাচ্ছে যা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে তাদের মত পার্থক্য আরও বাড়াবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
উল্লেখ্য, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তহবিলে গচ্ছিত অতিরিক্ত ৩.৬ লক্ষ টাকা নিয়েই কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে বিরোধের শুরু।এই অর্থ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে খরচ করার জন্য গত কয়েক মাস ধরে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উপর চাপ দিচ্ছে অর্থমন্ত্রক।কিন্তু অর্থমন্ত্রকের এই উপদেশ দেশের অর্থনীতির পক্ষে বিপজ্জনক বলেই মনে করছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কর্মকর্তারা।তাদের মতে এই অর্থে হাত দিলে তা দেশের ভবিষ্যত অর্থ ব্যাবস্থার পক্ষে ক্ষতিকারক হবে কারন এই অর্থ দেশের অত্যন্ত দুরাবস্থায় খরচের জন্য গচ্ছিত রাখা হয়ে থাকে।
এছারাও কেন্দ্রের দেওয়া তিনটি অন্য প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করছে বিজার্ভ ব্যাঙ্ক।এই তিনটি প্রস্তাব হল -প্রথমত ব্যাঙ্ক বহির্ভুত আর্থিক সংস্থাগুলি যেন কাঁচা টাকার অভাবে সমস্যায় না পড়ে তার জন্য বিশেষ ব্যাবস্থা গ্রহন করা।দ্বিতীয়ত তহবিলের বাড়তি টাকা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক স্থানান্তরিত করুক।তৃতীয়ত রিজার্ভ ব্যাঙ্ক একটি খসড়া কমিটি তৈরী করুক যে কমিটিতে সরকারের প্রতিনিধিও থাকবে।এই কমিটি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাজের ওপর নজর রাখবে।এই তিনটি প্রস্তাব নিয়েও বিতর্ক তৈরী হয়েছে।এ ধরনের কমিটির মাধ্যমে পরোক্ষে রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে সরকার নিজের আয়ত্ত্বে নিতে চাইছে যাতে ব্যাঙ্কের কাজের স্বাধীনতাই খর্ব হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ। অপরদিকে সারাদেশে লোকসভা নির্বাচনের ব্যায় নির্বাহের জন্য বিজেপির দরকার একটি বিরাট পরিমান অর্থ।যার পরিমান প্রায় ১লক্ষ কোটি।রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তহবিলের টাকা হস্তগত করে বিজেপি আসলে প্রচারের ব্যায় বহন করতে চাইছে বলেই দাবি করছে বিরোধিরা।
এরকম পরিস্থীতিতে সরকার পক্ষের প্রতিনিধিদের সাথে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাদের প্রবল তর্কাতর্কি ও যুক্তি পাল্টা যুক্তিতে এ বারের বোর্ড মিটিং উত্তপ্ত হয়ে উঠতে চলেছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

61