Categories
রাজ্য

প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন !

১৫/১১/১৮,ওয়েবডেস্ক: বাম আমলে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ে সংসদ গুলির এবং তাদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা ছিলো খুবই উল্লেখযোগ্য। বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম বহির্ভুতভাবে ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও সাধারণ ভাবে জেলায় একজন প্রতিমন্ত্রীর সমান মর্যাদা পেতেন সংসদ সভাপতিরা। কিন্তু হঠাৎ এই অবস্থার আকাশে সিঁদুরে মেঘ।সাম্প্রতিক কালে কয়েকটি জেলায় চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে নানান দুর্নীতির অভিযোগ ,সর্বোপরি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের কার্যকলাপের ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বেলাগাম দাদাগিরির ফলে সংসদের বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রেই বিকাশ ভবনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় সব জেলায় সংসদ ভেঙে ফেলার ভাবনাচিন্তা চলছে বলে জানাচ্ছেন বিভিন্ন সংসদ-কর্তা ও শিক্ষক। যদিও
চেয়ারম্যানেরা সরকার মনোনীত। তা সত্ত্বেও প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ কেন, সেই প্রশ্নও উঠছে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে শিক্ষা মহলে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানাচ্ছেন,এখুনি এবিষয়ে নির্দিষ্ট ভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। আগে সব সংসদের কাজকর্মের মূল্যায়ন হবে। ভাঙা হবে কি না, সেটা পরের প্রশ্ন।

কিন্তু ঘনিষ্ট সূত্রের খবর, গত সোমবার তৃণমূল ভবনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দলীয় প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের বৈঠকে বিভিন্ন জেলা সংসদের চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে হরেক অভিযোগ তোলেন তৃণমূল ঘনিষ্ট শিক্ষক নেতারাই। ওই বৈঠকে উপস্থিত এক শিক্ষক পরে বলেন, ‘‘চেয়ারম্যানদের নামে নানা অভিযোগ শুনে মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, “সংসদই আর থাকছে না।’’

পরে ওই বৈঠকের আহ্বায়ক অশোক রুদ্রকে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এ বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। পার্থবাবু পরে সাংবাদিকদের অবশ্য বলেন, ‘‘শিক্ষকেরা কী বলছেন, জানি না। আইন মেনে যে-সব সংসদ তৈরি হয়েছে, চাইলেই সেগুলো ভেঙে দেওয়া যায় না। সংসদের কাজকর্মের মূল্যায়ন হচ্ছে। রিপোর্ট পেয়ে দেখব, কী করা যায়।’’ মন্ত্রী এ কথা বললেও স্কুলশিক্ষা দফতরের খবর, সরকারের তরফে এর আগেও বিভিন্ন সভায় আধিকারিকদের জানানো হয়েছে যে আগামীতে সংসদের বিলুপ্তি ঘটতে চলেছে সরকার।

অধিকাংশ ক্ষমতাই এখন পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং স্কুলশিক্ষা দফতরের হাতে চলে এসেছে। ফলে ওই সব সংসদের আর প্রয়োজনও নেই বলে শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর।
সংসদ বিলুপ্তির আইনি দিক নিয়ে এক দফা আলোচনাও হয়েছে বলে স্কুলশিক্ষা দফতরের এক কর্তার দাবি। তিনি বলেন, ‘‘আইন দফতরে এই বিষয়ে আলোচনা চলছে। কিছু নথিও পাঠানো হয়েছে। সংসদ ভাঙতে গেলে আইন সংশোধন করতে হবে।’’

১৯৭৩ সালের পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা আইনে সব জেলায় একটি করে প্রাথমিক শিক্ষার বোর্ড গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গড়াও হয়েছিল সেই সব বোর্ড। তার পরে, ১৯৮৯-৯০ সালে আইন সংশোধন করে বোর্ডের বদলে তৈরি হয় “জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ”। তার চেয়ারম্যান মনোনীত করেন রাজ্য সরকার। জেলা স্কুল পরিদর্শক (প্রাথমিক) পদাধিকার-বলে সংসদের সচিব হন। নির্বাচিত শিক্ষক-প্রতিনিধি, মনোনীত বিধায়ক, জেলা পরিষদে শাসক গোষ্ঠীর প্রতিনিধি, শিক্ষাকর্মীদের প্রতিনিধি, মনোনীত শিক্ষানুরাগী ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধি এবং স্কুলশিক্ষা দফতরের কয়েক জন মনোনীত সদস্য নিয়ে তৈরি হয় এই সংসদ।
স্কুলশিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানান, বাম জমানায় বদলি থেকে শুরু করে নিয়োগের সব ক্ষমতা সংসদের হাতেই ছিল। নিয়োগের জন্য পদ তৈরি, পরীক্ষা নেওয়া, এমনকি নিয়োগপত্র দেওয়ার পুরো কাজটাই করত এই সংসদ। পরে, ২০১২ সালে নিয়োগের অধিকাংশ ক্ষমতা চলে যায় পর্ষদের হাতে। এখন সংসদ শুধু নিয়োগপত্রই দেয়। তবে কলকাতার ক্ষেত্রে এর গঠন কিছুটা আলাদা। এ ক্ষেত্রে সংসদকে মিড-ডে মিল এবং সর্বশিক্ষার পুরো বিষয় দেখতে হয়।

তা হলে সংসদ বিলুপ্তির প্রশ্ন কেন? এক শিক্ষক জানাচ্ছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দাপটের ফলে ওই সব সংসদ অনেক ক্ষেত্রেই বিকাশ ভবনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তবে একটি জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘গণতন্ত্র বজায় রেখেই সংসদের কাজ চলে। প্রাথমিক শিক্ষায় রাজ্যের উন্নতিও হচ্ছে। সার্বিক উন্নয়নে সংসদের ভূমিকাও রয়েছে। তা সত্ত্বেও এই ভাবনাচিন্তা কেন, প্রশ্ন সেখানেই”।

84

Leave a Reply