রাখী বন্ধন ও ভাই ফোঁটা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে এই দুটি উৎসব ভাই – বোনের মধ্যে যে অমোঘ স্নেহ ও ভালোবাসার সম্পর্ক তার প্রতিক হিসেবে পালন করা হয়। রাখী বন্ধনের দিন বোন ভাই কে রাখী পরায় আর ভাই বোনের সুরক্ষার শপথ নেয়। অন্যদিকে ভাই ফোঁটায় বোন ভাই এর কপালে চন্দনের টিপ পরিয়ে ভাই এর লম্বা আয়ুর জন্য প্রার্থনা করে। তবে আমাদের বাঙালিদের কাছে ভাই ফোঁটা কিন্তু কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয় বরং ভাই ফোঁটা একটি সামাজিক উৎসব হিসেবে পালন করা হয়। তাই আপাদ মস্তক নাস্তিক ভাইয়েরাও কিন্তু এই দিন দূর দূরান্ত থেকেও বোনের প্রতি অপার স্নেহ ও ভালোবাসার টানে তার কাছে ফোঁটা নিতে ছুটে যান। আসলে ফোঁটাকে কেন্দ্র করে এই দিনটি একটি মিলন উৎসবে পরিনত হয়। কিন্তু ভাই ফোঁটার এই উৎসবের সূচনার পেছনে একটি পৌরাণিক গল্প আছে যেটা হয়তো ইন্টারনেট সমৃদ্ধ বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানে না তাই আরো একবার জেনে নিই।
পৌরাণিক গল্পানুসারে সূর্য দেবতার স্ত্রীর নাম ছিল ছায়া। ছায়ার দুই সন্তান যমুনা ও যম। ভাই – বোনের মধ্যে ছিল অপার স্নেহ ও ভালোবাসার সম্পর্ক। বড়ো হওয়ার পর যমুনার ইচ্ছে ভাইকে বাড়িতে ডেকে মন ভরে সামনে বসিয়ে ভোজন করানোর। কিন্তু অত্যন্ত ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে যম বার বার যমুনার নিমন্ত্রণ রক্ষা করছিল না। আসলে যমের ভয় ছিল যে কেউ তো যমরাজকে তার বাড়িতে আহ্বান করে না। তাই বোনের অমঙ্গলের কথা চিন্তা করে সে যেত না। এরপর একবার কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়ার দিন যমুনা যমকে তার বাড়িতে ভোজনের নিমন্ত্রণ করে ভাইকে নিমন্ত্রণ রক্ষা করার প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিল। যম পরলো মহা ফাঁপরে। অনেক ভেবে সে ঠিক করলো যে বোন তাকে এত ভালবাসা ও আন্তরিকতা থেকে নিমন্ত্রণ করেছে সেটা আর প্রত্যাক্ষান করা উচিত হবে না। তাই নির্দিষ্ট দিনে সে বোনের বাড়ি গেল। তবে যাওয়ার পথে সে নরকে যত মানুষ বন্দী ছিল তাদের সবাইকে মুক্ত করে দিলো। মানব জগতে খুশির রোল পরে গেল। এদিকে ভাইকে কাছে পেয়ে যমুনার খুশির অন্ত নেই। সে স্নান সেরে পূজো করে ভাইয়ের কপালে তিলক কাটলো এবং তাকে প্রাণ উজার করে ভোজন করালো। যম যমুনার আতিথ্যে অতিশয় খুশি হয়ে যমুনা কে বর চাইতে বললো। যমুনা ভাই কে বললো আমি চাই তুমি প্রতি বছর এই তিথিতে আমার বাড়িতে এসে ভোজন করবে। এছাড়া যে সকল বোনেরা তাদের ভাইকে এই দিনে কপালে তিলক দিয়ে ভাইয়ের মঙ্গল কামনা করবে তারা যেন যমের ভয় যেন তাদের ভাইকে স্পর্শ করতে না পারে। যম তথাস্তূ বলে বোনকে বস্ত্রাভূষন উপহার দিয়ে বিদায় নিল। এরপর থেকে প্রতিবছর কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়ার দিন টি ভাতৃ দ্বিতীয়া হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

476