নিবেদিতা র সাথে সাক্ষাতের প্রথম দিনেই তার মধ্যে এক মহান শিক্ষককে অবলোকন করেছিলেন বিবেকানন্দ।শিক্ষাব্রতে তো নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন নিবেদিতা বিবেকানন্দের সাথে সাক্ষাৎ পূর্বেই
নিবেদিতার ভারতে আগমনের প্রধান হেতুই ছিল ভারতীয় জনমানসে বিশেষত নারী জাতির মধ্যে শিক্ষার প্রসার
এই শিক্ষার স্বরূপ কি হবে তা নিয়ে গভীর অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন নিবেদিতা।বিবেকানন্দ আলোকে আলোকিত হয়েছিলেন নিবেদিতা সত্য ,কিন্তু শিক্ষা ও জন জাতির পারস্পরিক সম্পর্ক সম্বন্ধে ব্যক্তিগত চিন্তন ও তার কম ছিল না।নিবেদিতা বিশ্বাস করতেন প্রতিটি সভ্যতার আদর্শের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে শিক্ষার ভিত্তি।ভারতবর্ষে র ক্ষেত্রে এই ভিত্তি নৈতিক ও আধ্যাত্মিক।ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে শিক্ষা শুধুমাত্র বাণিজ্যিক লাভ ক্ষতি ও বস্তু নির্ভর উন্নতির উপর নির্ভরশীল নয় ।ভারতের মৃত্তিকায় শিক্ষার অর্থ শাশ্বত আধ্যাত্মিক বিকাশ যা নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের আত্মাকে।কিছু তথ্যের সমাহারে মগজকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলার উদ্দেশ্য নয় শিক্ষার বরং স্বতন্ত্র আত্মার সাথে ,সার্বিক বিশ্বজনীন আত্মার যে সম্পর্ক আছে তাকে অনুধাবন ও অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করাই হলো শিক্ষা ।শিক্ষার অর্থ তাই অন্তরের অন্ত:স্তলে আলোক সম্পাত ।
ভগিনী নিবেদিতার 151 তম জন্ম বার্ষিকী তে দাঁড়িয়ে ,বলতে দ্বিধা নেই ,আমরা সার্বিক ভাবেই বিস্মৃত হয়েছি নিবেদিতার শিক্ষা তত্ত্ব কে।বস্তু মুখী শিক্ষা শুধুমাত্র বস্তু কেন্দ্রিক উন্নতিকেই নির্দেশ করে মাত্র ,এর সাথে আত্ম উন্নতি ,আত্ম বিকাশের কোনো সম্পর্ক নেই।তাই তো বহু তলের কর্পোরেট হাউসের ঝা চকচকে অন্দরে থাবা বসায় ডিপ্রেশন,মাঝরাতে আই আই টি,অথবা মেডিকেলের মেধাবী ছাত্র টি সমস্যাকে মোকাবিলা করার আত্মশক্তি হারিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয়,লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলে মানসিক অবসাদগ্রস্থ রোগীর সংখ্যা ।পশ্চিমি ভোগবাদের তত্ব গ্রাস করেছে আমাদের সর্বস্ব আর তার মোকাবিলায় ভোগবাদের কাছেই আমরা সর্বস্ব সপে দিয়ে পরিণত হয়েছি না মানুষে আর প্রতিপলে ক্ষয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রস্তরী ভুত শাশ্বত বিশ্বাসের ভিত্তি।আজকের ভারত বর্ষে তাই নিবেদিতার শিক্ষা তত্ত্বের পুনর্জাগরণ ঘটানো ভীষণ জরুরি।

49