২৬/১০/১৮,ওয়েবডেস্ক : উওর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ব্লকের মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের নন্দকিশোরগছ গ্রামে বৃহস্পতিবার অষ্টমীর দুর্গাপুজোকে ঘিরে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।মূলত ১৩২ বছরের পুরনো এই পুজোকে ঘিরে জহরা মেলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তাই আজ অর্থাৎ শুক্রবার থেকে তিন দিনের মেলা শুরু হচ্ছে। শতাব্দী প্রাচীন এই পুজো ও মেলাকে ঘিরে গোটা চোপড়ায় ব্যাপক উৎসাহ ছড়িয়েছে। দশমীর আট দিন পরে এখানে দুর্গাপুজো হয়। তাই এই পুজোকে অষ্টমীর দুর্গাপুজো বলা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা একে আঠরা পুজোও বলেন। এখানে দেবী দুর্গার সঙ্গে শিব, নারায়ণ, গঙ্গা, কামদেব সহ ৩২ দেবদেবী পূজিত হন। বৃহস্পতিবার ধুমধাম করে এই পুজো হয়েছে। প্রচলিত নিয়মে দুর্গাপুজো চার দিন ব্যাপী হলেও এখানে একদিনেই সমস্ত পুজো সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা জহরা মেলা কমিটির সম্পাদক অজয় পাল বলেন, ‘এবার এই পুজো ১৩২তম বর্ষে পড়ল। শুরু থেকেই এই পুজোকে কেন্দ্র করে মেলা বসে। এবারও মেলার আয়োজন হয়েছে। শুক্রবার থেকে তিন দিন এই মেলা চলবে। ইতিমধ্যেই দূরদূরান্ত থেকে দোকানদারেরা পশরা নিয়ে মেলায় হাজির হয়েছেন। নাগরদোলা থেকে শুরু করে হরেকরকম দোকান বসেছে”।এছাড়া স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, “১৩২ বছর আগে এই এলাকায় কোনও পুজো বা মেলা ছিল না। এলাকার মানুষ যাতে ভক্তিভরে পুজো করতে পারে তাই স্থানীয় দুই জন বিত্তশালী ব্যক্তি এখানে পুজো শুরু করেন। সেই থেকে মেলাও বসে। অত্যন্ত নিয়ম নিষ্ঠা সহকারে এখানে পুজো হয়। বহু ভক্ত পুজোর সময় উপস্থিত থাকেন। পুরনো দিনে এই মেলাতে জেলার প্রসিদ্ধ হস্তশিল্প মাটির তৈরি হাঁড়ি, হাতে তৈরি মাদুর, মাটির পুতুল, মাটির চাকা যুক্ত টমটম গাড়ি পাওয়া যেত। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসব কিনতেই ভিড় করত। মেলায় এসে সকলেই মাটির হাঁড়ি কিনত এবং ওই হাঁড়িতে পবিরারের প্রয়োজন অনুসারে জিলিপি নিয়ে বাড়ি ফিরতেন। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মাটির হাঁড়ির ব্যাবহার কমেছে। সেইসঙ্গে মাটির পুতুল ও হাতে তৈরি মাদুরের চাহিদাও কমেছে। টমটম গাড়ি খুবই কম দেখা যায়। ফলে এখন মেলাতে এই ধরনের দোকানের সংখ্যা কমেছে। তার স্থানে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রসাধনী সামগ্রীর দোকান সহ ফাস্টফুডের দোকান। হিন্দু মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষ এই মেলায় আনন্দ করে। দুই সম্প্রদায়ের মেলাপ্রেমী মানুষের ভিড়ে এটি একপ্রকার মিলন মেলায় পরিণত হয়”। আর
অন্যদিকে, “চোপড়া ব্লকের সোনাপুরর লক্ষ্মীডাঙ্গি গ্রামেও লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে শুক্র ও শনিবার দুই দিন ব্যাপী মেলার প্রস্তুতি চলছে। মেলাকে কেন্দ্র করে রাজবংশী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পালাতিয়া গান ( পালা গান) হবে। এখানে এই পুজো ও মেলার এবার ৯৩তম বর্ষ”।

42