ওয়েব ডেস্ক,২৫/৯/২০১৮:সময়ের সাথে সাথেই বদলাচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গি। এক সময় প্রকাশ্যে যেসমস্ত বিষয়গুলো উচ্চারণ করা বা আলোচনা করাটাকেও অত্যন্ত গর্হিত অন্যায় বলে মনে করতো সমাজ আজ সেগুলো নিয়ে সার্বিক সচেতনতা গড়ে তুলতেই সচেষ্ট প্রশাসন থেকে প্রগতিশীল মস্তিস্করা। ফলত সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পাঠক্রম সর্বত্রই সো কল্ড ট্যাবু ভেঙে বেরিয়ে আসার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বারবার। এবার এবিষয়ে আরো একধাপ এগিয়ে এলো রাজ্যের মধ্যশিক্ষা পর্ষদ তার পাঠক্রম পরিমার্জনের মধ্য দিয়ে। আগামী প্রজন্মকে বেশি করে স্বাস্থ্য সচেতন করতে এবার স্কুলের সিলেবাস সংস্কার করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। হেপাটাইটিস নির্মূলে নানা পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে অষ্টম শ্রেণীর ‘স্বাস্থ্য ও শারীরশিক্ষা’ বইতে। একইসঙ্গে অসাবধানী যৌন সংসর্গের ফলে যে হেপাটাইটিস হতে পারে সেই পাঠও জানানো হলো ছাত্রছাত্রীদের।

এছাড়া কৈশোরের ক্লাসরুমকে সাবালক করতে বয়ঃসন্ধির বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও পড়ানোর আলোচনা চলছে শিক্ষা বিষয়ক কমিটির অভ্যন্তরে। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন ইস্যু সিলেবাসে ঢুকেছে। অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যে বিভিন্ন ধরনের হেপাটাইটিস নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। এবার চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো হেপাটাইটিস রোখার বিভিন্ন উপায়ও জানানো হবে পড়ুয়াদের। পর্ষদের ‘স্বাস্থ্য ও শারীরশিক্ষা’ বইয়ের একটি অংশে বলা হয়েছে, ‘একজন আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে অপর একজনের যৌন কার্যকলাপের ফলে রোগ সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে’। বস্তুত বয়ঃসন্ধিতে অনেকেই ভুল করে ফেলে। যার জের বয়ে বেড়াতে হয় গোটা জীবন। কাজেই অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে মূল্যবোধ ও নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের পাঠ দিতে চায় সরকার।

স্কুলশিক্ষা বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান অভীক মজুমদার জানিয়েছেন, “সচেতন নাগরিক হিসাবে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে আমরা চেষ্টা করছি। কোনটা ভাল এবং কোনটা খারাপ সেই নৈতিক বোধ যেন তাদের তৈরি হয়। পথ নিরাপত্তা, বিপর্যয় মোকাবিলা, সুখাদ্য এবং অখাদ্য চিহ্নিতকরণ, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, দূষণ কমানো, উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে লড়াই করা, কন্যাশ্রী অর্থ এবং এর সঠিক ব্যবহার প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করছে এমন বর্জ্য, ভূমিকম্প বা ঝড় এলে কী করণীয় এসব আমরা স্কুল পাঠ্যে রেখেছি। সুস্থ সমাজ বজায় রাখাই আমাদের উদ্দেশ্য।”

এপ্রসঙ্গে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যৌন সম্পর্ক ছাড়াও ট্যাটু আঁকা, নাভিতে রিং লাগানো, নাক বা কান ফোঁড়ানো, রক্ত দেওয়া নেওয়া, দাঁত তোলার সময়ও বেশি করে সচেতনতা দরকার। আগাম ব্যবস্থা না নিলে হেপাটাইটিস-সহ নানা রোগে সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর ফলে এমনকি রোগীর জীবনসংশয় ও ঘটতে পারে বলে চিকিৎসকদের মত।সিলেবাসে নতুন বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। সচেতনতামূলক বিষয়ে তুমুল উৎসাহ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা। পর্ষদ সূত্রে খবর, স্কুলগুলিতে নতুন বই পাঠানো শুরু হয়েছে। ‘স্বাস্থ্য ও শারীরশিক্ষা’ বইয়ের সম্পাদক দীপেন বসু জানিয়েছেন, “বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’ ২০৩০ সালের মধ্যে দুনিয়া থেকে হেপাটাইটিস নির্মূল করার যে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে সেকথা মাথায় রেখেই বিভিন্ন ধরনের হেপাটাইটিস ও তা রোখার কথা স্কুলপাঠ্যে রাখা হয়েছে।” পর্ষদ সূত্রে খবর, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা এবং কৈশোরকালীন প্রবণতাকে মাথায় রেখেই স্বাস্থ্য ও স্কুলশিক্ষা দফতরের মিলিত চেষ্টায় এই বিষয়গুলো নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

175