১১/১০/১৮,ওয়েবডেস্কঃ ঝকঝকে স্মার্ট চেহারা। জেল্লায় অনায়াসে টেক্কা দিতে পারেন টিনসেল টাউনের যে কোন নায়ককে। শিক্ষাগত যোগ্যতাও ঈর্ষণীয়।
কুরুক্ষেত্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে স্নাতকের পর আইআইটি রুরকিতে গবেষণা করেছেন। পরে যোগ দেন নাগপুর ব্রহ্মস অ্যারোস্পেসে।
পাকিস্তানে চরবৃত্তির অভিযোগে নাগপুরের ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস সংস্থার সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার নিশান্ত অগ্রবালকে মঙ্গলবারই গ্রেফতার করেছিল উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের সন্ত্রাস মোকাবিলার যৌথ বাহিনী।
নিশান্তকে জেরা করে উঠে এসেছে একের পর এক রোমহর্ষক তথ্য।

নারীসঙ্গের হাতছানির পাশাপাশি নিশান্তকে মার্কিন মুলুকে চাকরির টোপও দিয়েছিল পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। জেরায় নিশান্ত এমনটাই জানিয়েছেন বলে দাবি তদন্তকারী অফিসারদের। এই সব কথোপকথোন চলত ফেসবুক চ্যাটের মাধ্যমে। নিশান্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব অ্যাকটিভ ছিলেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে তাঁকে ফাঁসানোর সুযোগ পেয়ে গেছিল আইএসআই। তদন্তকারীদের কথায়, খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে এই ভুয়ো অ্যাকাউন্টগুলি চালানো হচ্ছিল ইসলামাবাদ থেকে। যেগুলি কন্ট্রোল করত আইএসআই।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে ভারতের প্রতিরক্ষার সঙ্গে যুক্ত উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যায় পাক গুপ্তচর সংস্থা। নানা রকম টোপ দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির খুঁটিনাটি নিশান্তের থেকে হাতিয়ে নিত তারা। পুলিশ তাঁর ল্যাপটপে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত অত্যন্ত গোপন তথ্য পেয়েছে। তাঁর সঙ্গে ফেসবুকে পাক নাগরিকদের যোগাযোগের প্রমাণও মিলেছে। ইঞ্জিনিয়ারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের সন্দেহ আইএসআই-এর সঙ্গে অর্থের লেনদেনও ছিল নিশান্তের।

ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন প্রজেক্টে কাজ করছিলেন নিশান্ত অগ্রবাল। নাগপুর ও পিলানি দু’টি সংস্থারই দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সংস্থার হাইড্রলিক-নিউম্যাটিক ইউনিটের ৪০ সদস্যের দলের নেতৃত্বের দায়িত্বেও ছিলেন নিশান্ত। ক্ষেপণাস্ত্রের গবেষণা সংক্রান্ত বিষয়ের খুঁটিনাটি ছিল তাঁর নখদর্পনে। অত্যন্ত গোপনীয় এই সব তথ্যের বেশিরভাগটাই আইএসআই-এর কাছে পাচার হয়ে গেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
নিশান্তের নাগপুরের ও রুরকির বাসভবনের কম্পিউটার থেকে অত্যন্ত গোপন তথ্য মিলেছে। পাকিস্তানে সে সব তথ্যের কতটা গেছে সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, অন্য কোনও দেশেও সেই তথ্য পাচার হয়ে গেছে কিনা সেটাও দেখছেন তদন্তকারীরা।

9