৭/১০/১৮,ওয়েবডেস্ক,মুতাহার কামালঃরবিবার ভোর রাতে চোপড়া ব্লকের ডানকান চা ফ্যাক্টরিতে চুরি যাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে চা শ্রমিকদের। প্রায় ৮০০একর চা বাগান নিয়ে চোপড়া ব্লকের ঘিরণীগাও গ্রামের পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান ডানকান চা বাগান ফ্যাক্টরিটির। এই চা বাগানে প্রায় ১২০০শ্রমিক ও ফ্যাক্টরিতে ১২০জন শ্রমিক কাজ করে। যাদের জীবন যাপন এই চা বাগানের উপর নির্ভর করে। কিন্তু রাতের অন্ধকারের সেই বাগানের ফ্যাক্টরিতে চুরি যাওয়ায় হতাশায় পড়েছে ডানকান চা বাগানের সমস্ত শ্রমিক। চুরি হয়ে গেছে তাদের ফ্যাক্টরির লক্ষাধিক টাকার সরঞ্জাম।
সূত্রে জানা গেছে এদিন রাত্রে চল্লিশ জনেরও বেশি দুষ্কৃতী হামলা দেয় সেই ফ্যাক্টরিতে।
উঁচু দেয়াল টপকানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল কাঁচা বাঁশের সিড়ি, সেই সিঁড়ি বেয়ে কিছু দুষ্কৃতী ভিতরে ঢুকে ফ্যাক্টরির দরজা খুলে দেয়। সেখানে ছিলেন তিনজন পাহারাদার তাদেরকে মারধর করে সেখানেই বেঁধে রেখে তাদের সামনে চুরি করে সমস্ত জিনিসপত্র।পাহারাদার শরিফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের তিনজন পাহারাদারের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র লাগিয়ে ভয় দেখিয়ে প্রথমে গাছে বেঁধে রাখে। এর পর মুখ বন্ধ করে রাখে ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় দুষ্কৃতীরা”। এর পর দুষ্কৃতীরা ফ্যাক্টরির অফিসের কাচের গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে ও কম্পিউটার ল্যাপটপ নিয়ে চম্পট সহ ফ্যাক্টরিতে থাকা লক্ষাধিক টাকার চা পাতার ব্যাগ এবং ব্যাটারি মেশিন সামগ্রী জিনিস পত্র তাদের নিয়ে আসা গাড়িতে তুলে নেয় ও চম্পট দেয়।
চা ফ্যাক্টরি শ্রমিক সরিফুল ইসলাম জানান, গত দুই বছর আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তাদের এই চা বাগান ও ফ্যাক্টরি। যার ফলে বিপাকে পড়ে তারা নিজেদের তদারকিতে সমস্ত চা শ্রমিক মিলিত ভাবে কাজ করে কোন রকম করে চালাচ্ছিল তাদের এই ফ্যাক্টরি। বাগানের মালিক ম্যানেজমেন্ট কমিটির দুর্নীতির কারনে বাগান ও ফ্যাক্টরি ছেড়ে দুই বছর আগেই চলে যায়। প্রায় ১৩০০শ্রমিক মিলিত ভাবে প্রতিদিন বাগানের পাতা তোলা থেকে শুরু করে ফ্যাক্টরির যাবতীয় কাজ নিজেরাই করে। ফ্যাক্টরি দিয়ে যা আয় হত তাই তারা সকলে মিলে মিশে ভাগ করে নিয়ে দুই বছর ধরে জীবন যাপন করছে বলে জানান চা শ্রমিকেরা। তার মধ্যে চুরি হয়ে গেল লক্ষাধিক টাকার সরঞ্জাম, কিভাবে চলবে ফ্যাক্টরি, কে দেবে সরঞ্জাম কেনার টাকা যা নিয়ে হাজার সমস্যায় পড়েছে ডানাকান চা ফ্যাক্টরির শ্রমিকেরা। এদিকে অনেকের দাবী, গত দুই বছর ধরে চা বাগান মালিকের নেই কোন খোঁজ খবর। হয়তো বাগানের ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দিতেই মালিক পক্ষ এই চুরি ঘটনায় যুক্ত রয়েছে। এদিকে ঘটনায় জানতেই সেখানে চোপড়া থানার পুলিশ পৌছায়। পুলিশ চুরি ঘটনায় তদন্ত শুরু করে দিয়েছে বলে জানা যায়।

9