৭/১০/১৮,কুলিক রোববারঃ

প্রসঙ্গ দাম্পত্য ও অন্যপ্রেম

শ্রাবণী ভট্টাচার্য

অতি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট পরকীয়া কে আইনি অপরাধের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করে উন্মুক্ত আকাশে ভাসবার অধিকার দিয়েছে।পরকীয়া প্রেম,বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক এখন থেকে আর ফৌজদারি মামলার আওতাভুক্ত নয়।সুপ্রিম কোর্ট কোন মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় দেন করেছেন,তা আমাদের বেশিরভাগের কাছেই অজানা।আইনি কচকচানি,দাম্পত্য ও পরকীয়ার মধ্যে সাংঘাতিক টানাপোড়েন ও তৎজনিত ভয়াবহ ফলাফল নিয়ে আলোচনা করতেও কলম ধরিনি।আসলে পরকীয়া,বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক extra marrital affair কোন পথে ঢোকে সেই রন্ধ্রের খোজেই বেড়িয়েছি মাত্র।extra marrital শব্দ বন্ধ টাকে খানিক পাশে সরিয়ে রেখে marrital বিষয়টাকে নিয়েই একটু চর্চা করা যাক।বুদ্ধদেব গুহ লিখেছিলেন ভালোবাসা উদবৃত্ত হলে অন্য কাউকে দেয়াই যায়।উদ্বৃত্ত হয় কি ভালবাসা আধুনিক শহুরে দাম্পত্যে?উভয়ে চাকরিজীবী দম্পত্তির মধ্যে দেখা হয় রোজ,পারস্পরিক দেওয়া নেওয়া ও সংসার জীবন যাপনের যৌথ দায়বদ্ধতায় অনেক কথার আদান প্রদান হয়,কিন্তু মন নামক অতি বিষম বস্তুর কোনে কোণে ছড়িয়ে পড়ার মত কোনো মুহুর্ত ,কোনো কথা তৈরি হয় কি?দাম্পত্য শুধু যখন অভ্যাসে পরিণত হয় তখনই তার রঙ ফিকে হয়ে আসে আর শত শত ছিদ্র তৈরি হয় অভ্যাসের চাদরে।যে ছিদ্রের গহ্বর থেকে হাতছানি দেয় পরকীয়ার রোমাঞ্চ।
রাত১১টা হবে হয়তো বা।খাওয়া দাওয়া শেষে সন্তান সহ স্বামী স্ত্রী এক ঘরে,এক বিছানায়।সন্তান নিজের মতো টিভি দেখছে আর স্বামী স্ত্রী র চোখ উভয়ের স্ব স্ব স্মার্ট ফোনের স্ক্রিন এ।দুজনেই long distance online,কিন্তু অতি নিকট জনের কাছেই off line.নিছক জৈবিক চাহিদা নিবৃত্তি ছাড়াও দাম্পত্যের আরো অনেক পড়ত থাকে।ক্রমশ আমরা ব্যক্তিগত স্থান ও সময় নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়ছি যে যৌথ জীবনের শপথ ক্রমশঃ ম্লান হয়ে আসছে।দাম্পত্য এলতা চারা গাছের মতো।তাতে জল দিতে হয়,সার দিতে হয়,মাঝে মাঝে মাটি কুপিয়ে নরম করে দিতে হয়।নিলেই দাম্পত্যের কঙ্কাল,কর্কশ সর্বনাশ।আর এই কাজটিকেই আমরা বোধ হয় সবচেয়ে অবহেলা করি।পাশাপাশি থাকলেই পাশে থাকা যায় না,থাকার মতো থাকতে হয়,ছুঁয়ে দিলেই স্পর্শ হয় না,ছোঁয়া র মতো ছোঁয়া চাই।আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পরকীয়া সম্পর্ক বহাল তবিয়তে বহন করা যেতেই পারে।কিন্তু একুল ওকুল বজায় রাখতে গিয়ে ব্যক্তি জীবনে যে ঝড় ওঠে তার বলি হয় সন্তান সন্ততি রা।পরকীয়া প্রেমের বারান্দায় চাঁদের আলো আসে,দখিনা হাওয়া বয় ঠিকই ।কিন্তু প্রেমের পথকে কি মেপে ঝুপে রাখা যায়?না আমরা অতি সাধারণ মানুষ বলতে পারি কি এই টুকুই তোমার সীমা,তোমার পরিধি?তাই পরকীয়া প্রেম নিজেই দগ্ধ হয় না,দগ্ধ করে নিজের বৃত্তের সকলকেই।
কলা গাছের চারপাশে সাত পাক ঘুরিয়ে দিলেই আর মেয়েটির কপালে স্ট্যাম্প মেরে দিলেই যযিদং হৃদয়ং তব হয়ে যায় না,উভয়ের বহু কষ্টে,শ্রমে,ত্যাগে তিতিক্ষা য় এই দাম্পত্যের শেকড় মজবুত হয়।দাম্পত্যে ভালোবাসা খুঁজতে হয়তো হাত পুড়ে যায়,বালি খুঁড়ে তৃষ্ণার জল আনতে হয়তো ব্যয় হয়ে যায় সারা জীবন।তবু দুজনের দুই হাতে বানানো পৃথিবী,আগলানো পৃথিবী সুন্দরতর হয় নিঃসন্দেহে।

11