৭/১০/১৮,ওয়েবডেস্কঃ শনিবার ইসলামপুরের কোর্ট ময়দানে জনসভা করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ নাম না করে শাসকদলকে হুমকি দিলেন তিনি। দিলীপ ঘোষ এদিন বলেন, পুলিশ যেদিন পিছনে থাকবে না, পিঠের ছাল তুলে নুন মাখিয়ে রাস্তা ফেলে রাখব৷ কেউ জল দেবে না।সেই জনসভায় দিলীপ ঘোষের সাথে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা৷ বিজেপি সেই সভায় যোগ দিয়েছিলো নিহত দুই ছাত্রের পরিবারের লোকেরাও৷

প্রসঙ্গত, ২০ সেপ্টেম্বর দাড়িভিট স্কুলে উর্দু শিক্ষক নিয়োগের প্রতিবাদে বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলো ঐ স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র ছাত্রীরা ৷ সেই সময়েই গুলিবদ্ধ হয়ে মারা যান দুই ছাত্র রাজেশ ও তাপস। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ঘটনার দিন গুলি চালিয়ছিল পুলিশই৷ সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় নিহতদের পরিজনেরা সহ গোটা গ্রাম৷ এখনও বন্ধ রয়েছে দাঁড়িভিট হাইস্কুল৷ এদিকে এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে বিজেপি৷ ছাত্রমৃত্যুর প্রতিবাদে ছাত্র সংগঠন গুলোর রাজ্য জুড়ে ছাত্র ধর্মঘট পালন করার পরও রাজ্যে বনধ পালন করেছে গেরুয়াশিবির৷ নিহতদের পরিবারের লোকেদের নিয়ে দিল্লি গিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপি নেতারা৷ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নিহত তাপস বর্মন ও রাজেশ সরকারের পরিবারের লোকেরা৷ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনেও নালিশ জানিয়েছে বিজেপি৷

এছাড়াও জেলা সদর রায়গঞ্জে কিছু দিন মঞ্চ বেধে আমরণ অনশনে বসেছিলেন বিজেপির কিছু সদস্য । তাদের দাবি ছিলো দাড়িভিট কান্ডে সিবিআই তদন্ত। যদিও মাঝপথেই সেই অনশন তুলে নেয় বিজেপি।

এই দিন দিলীপ ঘোষের পর শাসকদলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডাও৷ তাঁর প্রশ্ন, ‘পুলিশ গুলি করে দু’জন ছাত্রকে মেরে ফেলল৷ অথচ ময়নাতদন্তে গুলিই পাওয়া গেল না! এ রাজ্যে কি জঙ্গলরাজ চলছে?’

একদিকে বিজেপি নেতারা যখন শাসকদলকে ইসলামপুর কান্ড নিয়ে বিঁধতে ছাড়ছেন না , তখনি অন্যদিকে আবার আগামী ২৭ অক্টোবর দাড়িভিটে পালটা জনসভা করবে শাসকদল।

দাড়িভিট নিয়ে রাজনীতি দেখে সাধারন মানুষ বলতে শুরু করেছে লোকসভা ভোটের আগে দাড়িভিট শুধুই ভোট বাক্সের রাজনৈতিক ইসু হয়ে থেকে যাবে।

9