২/১০/১৮, কুলিক ইনফোলাইনঃ

বাংলা কবিতায় মহাত্মা
কলমে
পুরুষোত্তম সিংহ

পর্ব ৫
জীবনানন্দ দাশ ‘ মহাত্মা গান্ধী ‘ কবিতায় দুই যুগের ব্যবধানের স্বরূপ অঙ্কন করেন। কবির মনে হয়েছে ভগবান বুদ্ধ ই যেন মানবতার বাণী নিয়ে নবরূপে ভারতবর্ষে এসেছে। তবে অতীতের সেই জ্ঞান, দর্শন, ভালোবাসা ও মূল্যবোধ পাল্টে গেছে আর সে জন্যই ভারতবর্ষ পরাধীন -” তাদের অন্তর্দান সবিশেষ সমুজ্জ্বল ছিল, তবু আজ/ আমাদের পৃথিবী ঢের বহিরাশ্রয়ী”। মানব মৈত্রীর বন্ধন আজ পরাস্ত, রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম বড় হয়ে উঠেছে। সাম্য -মৈত্রী- স্বাধীনতার কথা বললেই গুলি বর্ষিত হয় -” প্রার্থনা করার মতো বিশবাসের গভীরতা কোনো দিকে নেই”। সুলেমান হাফিজী বিষাদব্যথা থেকে লেখেন ” গান্ধীজি ভিক্ষা করে বসন্তের ফুটপাতে ” কাব্য। অবক্ষয়িত মূল্যবোধের পৃথিবীতে স্বার্থসিদ্ধি আজ বড় হয়ে উঠেছে। স্বপ্নের ভারতবর্ষের প্রকৃত পরিস্থিতি অনুসন্ধনে আজ এসেছেন গান্ধীজি,এসে ব্যথিত হয়েছেন। সমস্ত স্বপ্ন ভেঙে গেছে – ” মোল্লার হাতের তসবি আর পুরুতের জপমালার/ পরস্পর দাঙ্গা হাঙ্গামায় বেচারাম আর/ কেনারামের তেজারতি / অন্ধকার গুদামে দম আটকে মারা যায় “।বাংলার কবিরা এভাবেই গান্ধীজিকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আসলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক কবিতায় ব্যক্তি জীবনের অনুভবসহ ব্যক্তির মহানুভবতার কথা প্রকাশ পায়- বাংলার কবিদের কবিতায় সে কথাই প্রকাশ পেয়েছে, মহৎ গান্ধীজির চরিত্র উদ্ভাসিত হয়েছে।

77