২৭/০৯/১৮,ওয়েবডেস্কঃ

সতীনাথ ভাদুড়ীর জন্মদিনে কুলিকের শ্রদ্ধার্ঘ্য

কলমে পুরুষোত্তম সিংহ

আজ সতীনাথ ভাদুড়ীর জন্মদিন। ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দের ২৭শে সেপ্টেম্বর পূর্ণিয়ার ভট্টবাজারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। গল্প উপন্যাসে তিনি ছিলেন আধুনিকতার পথিক। তিন বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বাংলা কথাসাহিত্যে বিরাজ করছেন তখন তিনি ভিন্ন প্রবাহে যাত্রা করলেন। কথাসাহিত্যে তিনি অচিনরাগিনী শুনিয়েছেন। সতীনাথ ভাদুড়ী পড়তে হয় – অন্তত লেখকদের কাছে মাস্টারপিস সতীনাথ ভাদুড়ী। বাংলা উপন্যাসে বহিঃবঙ্গ ধরা দিল সতীনাথের উপন্যাসে, এ প্রসঙ্গে পাঠকের মনে পড়বে বনফুল ও বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের কথা। বাংলা উপন্যাস তিনি ভিন্নস্রোত এনেছিলেন। বিভূতিভূষণের পর তিনিই একমাত্র ঔপন্যাসিক যিনি প্রথম উপন্যাসেই বাজিমাত করেছিলেন। ‘জাগরী’ প্রথম রবীন্দ্র পুরস্কার প্রাপ্ত উপন্যাস। আমরা যে নিম্নবর্গের কথা বলি তা বাস্তব অভিজ্ঞতায় মুখের ভাষা সহ প্রথম উঠে এসেছিল ‘ঢোঁড়াই চরিত মানস ‘ এ। রাষ্ট্র সম্পর্কে সতীনাথের নায়ক বলেছিল-” প্রকৃতির আইনের মতোই নিয়তির মতোই হৃদয়হীন ও অমোঘ। আজকের রাষ্ট্রের শোষণ, উদাসীনতা দেখে কি সতীনাথের কথা মনে পড়ে না? সতীনাথ ডায়েরিতে লিখেছিলেন -‘ ঢোঁড়াইচরিতমানস নিছক representation নয় transformation এরও কাহিনী।….. মানুষ বদলাচ্ছে পরিবেশকে, পরিবেশ বদলাচ্ছে মানুষকে ‘- এই পরিবর্তন তিনি ধরতে চেয়েছিলেন। বাংলা উপন্যাসের যে মডেল তা তিনি ভেঙে দিলেন। বঙ্কিমের পাশ্চাত্য মডেল থেকে তিনি ভারতীয় মডেল নিয়ে এলেন। নলিনী বেরার উপন্যাস পড়ে বরেন গঙ্গোপাধ্যায় উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেছিলেন – পেয়ে গেছি পেয়ে গেছি সতীনাথের যোগ্য উত্তরাধিকার….। নিম্নবর্গের যে ধারণা আজ প্রচলিত তা সতীনাথ শুরু করেছিলেন রক্ত মাংস সহ। ‘ গণনায়ক ‘ গল্পে মানুষের অধিকার স্পষ্ট ভাবে ঘোষণা করেন। এক ডায়েরিতে লিখছেন -‘ দেশ সাহিত্যিক আর কবি সম্পর্কে conscious হয় ঠিক কবি বা লেখকের মৃত্যুর পর’ – এ বাস্তব সত্য অন্তত এ রাজ্যের ক্ষেত্রে। ‘
স্বর্গের স্বাদ ‘, ‘দাম্পত্যসীমান্তে’ আমাদের ভাষা সাহিত্যের অন্যতম সম্পদ। সময়ের থেকে তিনি অনেক এগিয়ে ভেবেছিলেন। মাত্র কুড়ি বছর সাহিত্যচর্চা করেই তিনি বাংলা সাহিত্যে নিজস্ব আসন করে নিয়েছেন। বনফুল সম্পর্কে একবার লিখছেন -‘ সৃষ্টির প্রাচুর্যের জন্য লেখার রস ফিকে হতে দেখলে ব্যথা পাই’ – গল্প উপন্যাসে সারাজীবন ক্ল্যাসিকতা রক্ষা করে গেছেন, বাজারি লেখা লেখেন নি – সেই মহান স্রষ্টাকে প্রণাম।

16