২৬/০৯/১৮,ওয়েবডেস্কঃ

বিদ্যাসাগরের জন্মতিথিতে কুলিক ইনফোলাইনের শ্রদ্ধার্ঘ্য

কলমে পুরুষোত্তম সিংহ

ইতিহাসের বিকৃতি। বঙ্গদর্শন একসময় বিদ্যাসাগরের ছবির নিচে শিয়ালের ছবি ছেপেছিল। শিয়ালের গায়ে লেখা বঙ্গদর্শন সে তাকিয়ে আছে বিদ্যাসাগরের দিকে। আবার বিষবৃক্ষ এ বঙ্কিম লিখছেন -” কে একজন ঈশ্বর বিদ্যাসাগর আছেন যিনি বিধবা বিবাহ দিয়াছেন, সে যদি পণ্ডিত হয় তবে মূর্খ কে “। এখান থেকেই বিকৃতি রুচির পাঠক পেয়ে গেলেন বিরোধিতা করার প্রসঙ্গ। অচিরেই বলে বসলেন বঙ্কিম বিদ্যাসাগরের বিধবা বিবাহের বিরোধী। সে কথা ছিল স্বামী পরিত্যক্ত এক নারী সূর্যমুখীর। চরিত্রের মুখ দিয়ে পরিবেশিত বক্তব্য লেখকেরই তবে অনেক সময় লেখকের নয়, তা চরিত্রেরই প্রতিনিধি। নিজের স্বামী বিধবা বিবাহের ফলে নিজের সুখ বিসর্জন থেকেই এ কথা উঠে আসে। সূর্যমুখী তো বিধবা বিবাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনবেই কেননা সে এ প্রথার জন্য স্বামী হারিয়েছে – এ অভিযোগ সঙ্গত। তবে বঙ্কিম বিধবা বিরোধী ছিলেন না। মনে করুন সে কথা – যখন নয় শত নিরানব্বই জনের মাথা খাইয়েছেন তখন আর একজনকে বাদ রাখিলেন কেন? বঙ্কিম একবার নিজে রান্না করে বিদ্যাসাগরকে নিমন্ত্রণ করেছেন। বিদ্যাসাগর একবার চাটনি নেওয়ার পর আবার নিয়ে বলে বাঁকা হাতে এমন সুমিষ্ট ফলে জানা ছিল না আমার — দুজনেই হেসে ওঠেন। আর বিদ্যাসাগরের ছাত্র রামগতি ন্যায়রত্ন সমস্ত না জেনেই আরো ভালো করে বলা ভালো রক্ষণশীল মানসিকতা থেকে গুরুর প্রতি ভক্তি বশত লিখে বসলেন বঙ্কিমের বিদ্যাসাগর বিরোধিতা। যিনি লেখেন – অপরের জন্য আত্মবিসর্জন ভিন্ন এ পৃথিবীতে স্থায়ী সুখের অন্য উৎস নেই তিনি বিদ্যাসাগরের মত প্রগতিশীল মানুষের বিরোধিতা কখনই করেন নি। সে আমাদের বোঝার ভুল। সেই মহান পুরুষের জন্মদিনে শতকোটি প্রণাম।।।।

6