২৩/০৯/১৮,কুলিক রোববারঃ

খিদে
অনির্বাণ ঘোষ

লোকটা অনেকক্ষণ থেকে ওকে ঘুরছে। ড্যাবডেবে চোখ, ঢোলা শার্ট, কুঁচকানো প্যান্ট আর খেঁকুরে চেহারা। বয়স পঞ্চাশের ওপারে। চোখে উপোসী দৃষ্টি। এ ধরণের লোক বাজারে প্রচুর। যত বয়স, তত বেশী নোলা। ওর মত চকচকে চেহারার কেউ হলে তো কথাই নেই। লাল টপকায়। গা জ্বলে যায় ওর। ও ঠাণ্ডা চোখে লোকটার দিকে তাকিয়ে থাকে। তাতেও ব্যত্যয় ঘটে না। লোকটা যেন ওর আগাপাশতলা চোখ দিয়ে গিলে খেতে চাইছে। ও চোখ নামায় না। স্থির দৃষ্টিতে লোকটার দিকে তাকিয়ে থাকে। কাজ হয়। ওর কাছে ঘেঁষতে গিয়েও থমকে দাঁড়ায় সে। শেষবারের মত অপাঙ্গে ওকে মেপে নিয়ে আস্তে আস্তে সরে পড়ে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ও । যাক বাঁচা গেল। বাইরের চেকনাই বজায় রাখলেও ভেতরে ভেতরে ও ঠাণ্ডা মেরে গেছে।
খানিক বাদে আবার ফিরে এল লোকটা। বুক পকেটে হাত ঢুকিয়ে ভাঁজ করা একতাড়া কাগজ বের করল। আবার ঢুকিয়েও রাখল। পকেটে পেনের কালির দাগ। হয়তো বা রাজ্য সরকারের কোন দপ্তরের ছাপোষা করণিক। আবার তাকাচ্ছে। এক দৃষ্টিতে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল ওর দিকে। আরো একটু কাছে এল। চোখে লোলুপ দৃষ্টি। এই উত্তর পঞ্চাশেও এত খিদে ! অবাক হয় ও। আরো এগিয়ে আসে লোকটা। এবার একেবারে ওর সামনাসামনি দাঁড়িয়ে। ও গুটোয় না। চোখে হিমশীতল চাউনি নিয়ে সরাসরি তাকিয়ে থাকে লোকটার দিকে। গায়ে হাত লাগাতেই দেমাকি রূপোলি ইলিশ লোকটার দিকে জিজ্ঞাসু চায় – D.A. পাও কত ?

16