১৮/০৯/১৮,ওয়েবডেস্ক: তাঁর জীবনের সঞ্চিত অর্থ ও বাসগৃহটি ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘকে এবং ১২ কাঠা জমি মুসলিমদের কবরস্থানের জন্য দান করলেন নদিয়ার পলাশিপাড়া হাসপাতালপাড়া এলাকার ঠান্ডা গ্রামের ৭৯ বর্ষীয়া পূর্ণিমা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এলাকাতে অনেকেই তাঁকে ‘‌মাদার টেরেসা’‌ বলে ডাকেন।
পূর্ণিমাদেবী রাজ্য সরকারের পলাশিপাড়া ব্লক অফিস থেকে ২০০০ সালে অবসর নেন।
ঠান্ডা গ্রামের চায়না বেগম বলেন, ‘‌পূর্ণিমাদেবীকে একদিন আমি কথাচ্ছলে বলেছিলাম আমাদের গ্রামে মুসলিম পরিবারের কেউ মারা গেলে কবরস্থান না থাকায় বাড়ির উঠোনে কবর দিতে হয়। এটি আমাদের গ্রামের বড় সমস্যা।’ এই কথা শোনার পর পূর্ণিমাদেবী বলেন, ‘নদীর ওপারে আমার ১২ কাঠা জমি আছে, ওই জমি আমি মুসলিম ভাইদের দান করে দেব।’ যেমন বলা তেমনি কাজ, কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি কাগজপত্র তৈরি করেন, কবরখানা করার জন্য জমি দান করে দেন।’‌
হাসপাতালপাড়ার ঝন্টু খান বলেন, ‘‌রাস্তার পাশে গ্রামের দুর্গামন্দির করার জন্য তাঁর অবদান ভোলার নয়।’
পূর্ণিমাদেবী বলেন, ‘‌আমার আমার করে কী লাভ। । নিজের ১২ কাঠা জমি মুসলিম ভাইদের অসুবিধের কথা জেনে বিমলা–অবিনাশ সমাধিক্ষেত্র নামে ডিড করে ওদের হাতে কাগজ তুলে দিয়েছি, ‘‌এখন আমার সম্বল বলতে সামান্য কয়েক হাজার টাকার পেনশন। যে কদিন বাঁচব, এই অর্থেই চলে যাবে। হাসিমুখে অন্যের সেবা করার মতো আনন্দ অন্য কিছুতে আছে কিনা আমার জানা নেই।’ ‌

13