৪/০৯/১৮, ওয়েবডেস্কঃ মঙ্গলবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে প্রতিথযশা সংগীতশিল্পী ইন্দ্রানী সেনের মাধ্যমে উদিত হলো আরো এক নবীন সংগীতশিল্পী স্বাগতার। প্রকাশিত হলো সাতটি বাংলা আধুনিক গান নিয়ে স্বাগতার প্রথম অ্যালবাম “সাদা মেঘের খাম”। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যালবামের ডিরেক্টর ও সুরকার বিশ্বরূপ ঘোষ দস্তিদার সহ ইউনিটের সকল সদস্য।

জীবনের প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিভা প্রকাশের এই মূহূর্তে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত ছিল স্বাগতা। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে সদ্য পা রাখা অষ্টাদশের দোড়গোড়ায় দাড়িয়ে থাকা স্বাগতা জানালো,বিশ্বরূপ স্যরের সুর নির্দেশনায় প্রথম কাজ।স্যরের নির্দেশ মতো চেষ্টা করেছি ভাল কাজের।সকলের ভাল লাগলে সেটাই হবে কাজের সার্থকতা।

স্বাগতার জীবনের এই অন্যতম আনন্দের খবরে দারুণভাবে আনন্দ- উদ্বেল তার প্রিয় শহর রায়গঞ্জের কলা কৃষ্টি মহল।

প্রান্তিক জেলা উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ শহরের সুদর্শনপুর এলাকার বাসিন্দা স্বাগতা ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত প্রতিভাময়ী। চার বছর বয়সে মা সোমা মুখার্জীর কাছে গানের প্রাথমিক পাঠ শুরু।এরপর দুই পিসি মৌসুমী গুহ ও সুব্রতা ভট্টাচার্য্যের পাশাপাশি সুকুমার ঘোষের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নিয়েছে স্বাগতা।রবীন্দ্রসঙ্গীত শিক্ষা রায়গঞ্জের জনপ্রিয় সংগীতশিক্ষক পার্থ সরকাররের কাছে। এরপর স্বাগতার অসামান্য মিষ্টি গলা এবং গানের প্রতি নিষ্ঠা ও ভালোবাসায় ওর পরিবার নানান বাধা অতিক্রম করেও স্বাগতাকে মাত্র ১৩ বছর বয়সেই কলকাতায় ললিতকলায় সংগীতগুরু জয়ন্ত সরকারের কাছে গানের তালিম নেওয়ানোর উদ্যোগ নেয়।

মুরারী স্মৃতি সঙ্গীত সম্মিলনী আয়োজিত সর্বভারতীয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় ২০১৪ সালে নজরুলগীতি,২০১৫ সালে রবীন্দ্রসঙ্গীতে সেরা প্রতিযোগির শিরোপা অর্জনকারী স্বাগতা ২০১৭ সালে ওই প্রতিযোগিতায় অনুর্ধ ১৮ বিভাগে লোকগীতিতে প্রথম স্থান অধিকার করে। ওই বছর একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে লোকগানের ‘রিয়ালিটি শো’তে অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ান হয় স্বাগতা।আর এই রিয়ালিটি শো এ স্বাগতার পারফরমেন্স নজর কাড়ে বিশিষ্ট সুরকার বিশ্বরূপ ঘোষ দস্তিদারের।যারই ফলস্বরূপ বিশ্বজিৎ বাবুর ব্যবস্থাপনায় এই অ্যালবাম “সাদা মেঘের খাম”।
এই প্রসঙ্গে ডিরেক্টর বিশ্বরূপ ঘোষ দস্তিদার জানালেন,বাংলা আধুনিক গানের পুরানো ধারা ফিরিয়ে আনতে এই প্রয়াস।উত্তরবঙ্গের মেয়ে স্বাগতা যথেষ্ট প্রতিশ্রুতিবান।আগামিতে স্বাগতার কন্ঠ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে একটি অনন্য জায়গা নেবে বলেই উনি বিশ্বাস রাখেন।

এই এলবামের গানের কথা লিখেছেন শৌভিক ঘোষ এবংঐন্দ্রিলা-সপ্তর্ষি। এছাড়াও একটি গান বিশ্বরূপবাবুর নিজের লেখা।অ্যালবামের টাইটেল গান “চুপি চুপি ছুঁড়ে দিলাম সাদা মেঘের খাম” ইতিমধ্যেই শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছে।

অ্যালবাম প্রকাশ অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ইন্দ্রানী সেন বলেন,”বিশ্বরূপবাবুর সুরে প্রচুর গান ইন্ডাস্ট্রিতে ভাল সুনাম অর্জন করেছে। নতুন শিল্পীদের তুলে আনার যে প্রয়াস তিনি নিয়েছেন তাকে স্বাগত।এমন একটি অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রন জানানোয় খুশী আমি”।

অ্যালবামের সাতটি গান নিয়েই আশাবাদী নবীন প্রতিশ্রুতিবান শিল্পী স্বাগতা।ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের গান শ্রোতাদের কাছে গ্রহনযোগ্য হবে বলে আশা রাখে সে। তার কাছে এ এক নতুন অভিজ্ঞতা। কুলিক ইনফোলাইনের প্রশ্নের উত্তরে উচ্ছ্বসিত স্বাগতা জানায়,”এটা অদ্ভূত হলেও সত্যি যে বিশ্বরূপ স্যারও আদতে উত্তরবঙ্গের মানুষ।অনেক কিছু শিখেছি ওনার কাছ থেকে যা আগামিতে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে”।সকলের আর্শীবাদে এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীনি স্বাগতা গান নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় জীবনে। স্বাগতার আগামী সম্ভবনাময় জীবনের পথে কুলিক পরিবারের পক্ষ থেকে রইলো অজস্র শুভেচ্ছা।

12